ফ্যাসিষ্ট লীগ পন্থী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পিডি তালহা জুবায়েরের নেতৃত্বে চলছে হরিলুট

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২৫ ১৮:৫২:৪২

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফ্যাসিস্ট পতিত লীগ সরকারের দোসর প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়ের এখনো রয়েগেছেন বহাল তরিয়াতে। ঘুষ দুনীতির বেপরোয়া অভিযোগ থাকলেও মন্ত্রণালয়ের নিরবতা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর  প্রকল্পের পরিচালক করা হয়েছিল ৬ ষষ্ঠ গ্রেড এর একজন কর্মকর্তাকে পিডি হিসেবে পতিত লীগ সরকারের আমলে অবৈধ ক্ষমতা দাপট দেখিয়ে। যদিও ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালক বিসিএস কৃষি ক্যাডারের কর্মকর্তা হবেন ৫ র্ম গ্রেড এর কর্মকর্তা । জিপিপি কে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে নিয়মবহির্ভূত ভাবে ৬ ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের-মাসরুব কে সাবেক মহা- পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস এর যোগসাজশে টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরী কাম হটি কালচার সেন্টার স্হাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের পিডির পদটি বাগীয়ে নেন তিনি। শুধু এই প্রকল্পই নয়, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অন্য একটি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তালহা জুবায়ের। পতিত লীগ সরকারের আমলে অবৈধ ক্ষমতা দাপটে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে দুনীতিবাজ তালহা জুবায়ের।

বৈশম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মিছিল মিটিং করে গত ৪ ই আগষ্ট ২৪ শে কৃষি খামার বাড়িতে তাঁর নেতৃত্বে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বদলী কিংবা শাস্তি মুলক ব্যবস্হা নেওয়া হলেও পিডি তালহা জুবায়ের-এর বিরুদ্ধে তাঁর উল্টো চিত্র। বরং তাঁকে আরও আরেকটি প্রকল্পের পিডি হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু মাত্র লুটপাট করার জন্য। ভুয়া বিল ভাওছার বানিয়ে ও সংস্কার মেরামত কেনাকাটা নির্মাণ  সহ বিভিন্ন ভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে পিডি তালহা জুবায়ের।ফারর্মাস মিনি কোল্ড স্টোরেজ বা ছোট হিমাগম প্রকল্পের পিডি তালহা জুবায়ের।সেখানে ও নয় ছয় করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।  লীগের দোসর তালহা জুবায়ের এখনো রয়েগেছেন বহাল তরিয়াতে। প্রকাশ থাকেযে বর্তমান কৃষী উপদেষ্টার সাথে রয়েছে নাকি তার  ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক কর্মকর্তা রা আজকের সংবাদ কে জানান পতিত লীগ সরকারের আমলে অবৈধ ক্ষমতা দাপট দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছিলো মহা ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ পিডি তালহা জুবায়ের। এখন আবার ভোল পাল্টে অন্তবর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের উপদেষ্টাদের দোহাই দিয়ে রামরাজত্ব কায়েম করে চলেছেন পিডি তালহা জুবায়ের। তাঁর দুনীতি এখন চরমে পৌঁছেছে। এখনই তাঁর দুনীতি থামাতে না পারলে ধ্বংস দার প্রান্তে পৌছাবে প্রকল্পের কর্যক্রম।

সুত্রে জানা গেছে  নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাদে পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে দুর্বল ত্রুটিপুর্ন কাজ করিয়েছেন।  প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে চলে হরিলুট কর্তৃপক্ষ নিরব ভুমিকা নিয়ে এখন প্রশ্ন বিদ্ধ। তাঁর দুনীতির কারণে  প্রকল্প বাস্তবায়নে  সময়ক্ষেপণ হচ্ছে, তেমনি কাজের মান নিয়েও দেখা দিচ্ছে নানা প্রশ্ন।

একাধিক সুত্রে জানা গেছ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি  একনেকে পাস হয়। প্রায় ৪০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তিনজনের নাম প্রস্তাব করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে তালিকায় তালহা জুবাইর মাসরুর নামে এক কর্মকর্তার জন্য বিশেষভাবে সুপারিশ করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। পতিত লীগ সরকারের সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও মাহাবুবুল আলম হানিফ এর অবৈধ্য ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তারা আজকের সংবাদ কে জানান , এভাবে একজনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করার বিধান নেই। লীগের দাপট দেখিয়ে সাবেক ডিজি বাদল চন্দ্র বিশ্বাস অনিয়ম করেছিল। তাঁকে ও আইনের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তারা।

জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির সময় ফোকাল পারসন ছিলেন তালহা জুবাইর। প্রকল্পের অনুমোদিত অঙ্গ ও অঙ্গভিত্তিক বিস্তারিত ব্যয়ের খাতে নানা অসংগতি রয়েছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন হলেও তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য কেনাকাটায়। অনেক ক্ষেত্রে কেনাকাটার জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মূল্য ধরা হয়েছে।

প্রকল্পের কাগজপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ রেখেছেন ফোকাল পারসন। এর মধ্যে বাড়িভাড়া খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। আবার আবাসিক ভবন মেরামতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। অনাবাসিক ভবন মেরামতে বরাদ্দ ২ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের জন্য ৭টি মোটরসাইকেল কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের জন্য ইন্টারনেট বিল ধরা হয়েছে ৩ লাখ টাকা। টেলিফোন বিল ১ লাখ এবং আলাদাভাবে আবার মোবাইল বিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ডাক খরচ হিসেবে দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা। প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ, আবার অডিও এবং ভিডিও ডকুমেন্টেশনে খরচ ধরা হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা। প্রকাশনা খাতে খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রচার-প্রচারণা খাতকে নানা ভাগে নাম দিয়ে খরচ বাড়ানো হয়েছে।

আবার প্রশিক্ষণ খাতেও বিপুল ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষক প্রশিক্ষণ (উত্তম চর্চা) বাবদ ৫ কোটি ৪৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, কৃষক/গার্ডেনার/মালি প্রশিক্ষণ বাবদ আবার ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। টিস্যু কালচার স্টাফ প্রশিক্ষণ বাবদ ৪ লাখ ৯ হাজার, এসএএও প্রশিক্ষণ বাবদ ১৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাবদ ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। জাতীয় কর্মশালা বাবদ ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অগ্রগতি (প্রগ্রেস) মনিটরিং করার জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। আবার মধ্যবর্তী মূল্যায়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভ্রমণ ব্যয় হিসেবেও ধরা হয়েছে ৯০ লাখ টাকা।

শুধু স্ট্যাম্প ও সিল বানানোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। আবার স্টেশনারি কেনা বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। শুধু তাই নয়, টিস্যু কালচার প্রকল্পের কাজ হলেও ল্যাবরেটরি এবং আনুষঙ্গিক গবেষণায় ব্যয় না রেখে ভবন নির্মাণ এবং অন্য ব্যয়ের দিকে নজর বেশি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, একই ধরনের কাজের জন্য আলাদা আলাদা নামে বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। তারা জানান, তালহা জুবায়ের কখনো হর্টিকালচার উইংয়ে কাজ করেননি। তিনি চুয়াডাঙ্গায় কৃষি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তুলেছিলেন সু বিশাল সিন্ডিকেট দুনীতি চালিয়ে গেছেন দেদারসে । বিগত সময়ে  ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদন’ প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। হর্টি কালচার উইংয়ের সাবেক পরিচালক ড. সাইফুল ইসলাম এ প্রকল্পের ফোকাল পারসন ছিলেন। তবে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তালহা জুবায়েরকে ফোকাল পারসন করা হয়। তিনি আগের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে নতুনভাবে প্রকল্প তৈরি করেন। যদিও ড. সাইফুল ইসলাম হর্টি কালচার উইংয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত উপপরিচালককে ফোকাল পারসন করার প্রস্তাব করেছিলেন।

খোঁজ নিয়ে আরও যানা যায়  তালহা জুবায়েরের বিরুদ্ধে ইউটিউব এবং ফেসবুকে ভিডিওতে কৃষির নানা কন্টেন্ট তৈরি করে কৃষকদের ধোকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভরি ভরি। কমলা, নারিকেল, মাল্টাসহ নানা ফলের চারা বিদেশি উচ্চফলনশীল বলে প্রচার করতেন। তবে এর আড়ালে নিজেই করতেন চারার ব্যবসা। আর সেই মানহীন চারায় নিঃস্ব হয়েছেন অনেক কৃষক। উল্লেখীত অভিযোগ এর বিষয় পিডি তালহা জুবায়ের-এর  মোবাইলে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি আজকের সংবাদ কে জানান আমার বিরুদ্ধে  রিপোর্ট প্রকাশিত করলে হিসাব করে করবেন। তাঁর হাত অনেক লম্বা বলে লাইন টি কেটে দেন।