জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসকে মেরে ক্যাম্পাসছাড়া করার অভিযোগ

দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা। এ ঘটনায় শিবির সমর্থিত জকসু ভিপি, জিএস, এজিএস ও সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীদের মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে জকসু প্রতিনিধিরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে মারধর করতে করতে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রদল৷ হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন।
জকসু সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে আসায় তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতেই জকসুর প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়।
জকসু প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে জকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের ওপর হামলা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক নিজে। ওই সময় মেহেদী হাসান হিমেলকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দরজা বন্ধ কর। দ্রুত গেট আটকা।’
পরে গেট আটকে দেওয়া হয়। এ সময় অডিটোরিয়ামের সামনেই জকসু নেতাদের ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড নিয়েই বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং সরাসরি হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুক লেখেন, প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।
এদিকে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা দাবি করেছেন, ছাত্রদলের হামলায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি। তবে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রশিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে৷ তারা নিজেরা নিজেদের প্ল্যাকার্ড ছিড়ে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ওরা আমাদের ভাই বোনদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। এই ছেঁড়া পোস্টারেই দাবি আদায় হবে, ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয় জানতে জবি প্রক্টর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এজেএ
