নেত্রকোনায় সওজের সড়ক নির্মাণে বড় অনিয়ম, সংসদে এমপির ক্ষোভ প্রকাশ

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৮:৫২:৫০

নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলা সদরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় অভয়পাশা-আটপাড়া সড়কের প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের প্রায় ৫০০ মিটার অংশে সিসি ও আরসিসি ঢালাইয়ের কাজে অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুসরণ না করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিয়ে গত সোমবার সংসদেও স্থানীয় সংসদ সদস্য চরম ক্ষোভ প্রকাশসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানান তিনি।  

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২ জুলাই নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহানূর রহমান এবং সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, যেখানে সিসি ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৪ ইঞ্চি হওয়ার কথা, সেখানে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২ ইঞ্চি। একইভাবে ১২ ইঞ্চি আরসিসি ঢালাইয়ের স্থলে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৯ ইঞ্চি। এসব অনিয়ম ধরা পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন 
ফোন বন্ধ পাওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানূর রহমান বলেন, অনিয়মের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ করার বিষয়টি দেখতে পাই। পরে সওজ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, আমি নতুন দায়িত্বে এসেছি। এমপি মহোদয়সহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছি। যেখানে সিসি ঢালাই ৪ ইঞ্চি হওয়ার কথা, সেখানে ২ ইঞ্চি এবং ১২ ইঞ্চি আরসিসি ঢালাইয়ের স্থলে মাত্র ৯ ইঞ্চি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ আনতে কত শ্রম ও চেষ্টা করতে হয়, তা সংশ্লিষ্টরাই জানেন। কিন্তু এখানে যে অনিয়ম হয়েছে, তা পুকুর চুরিকেও হার মানায়। ১২ ইঞ্চির জায়গায় ৯ ইঞ্চি এবং ৪ ইঞ্চির জায়গায় মাত্র ২ ইঞ্চি ঢালাই করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, জনগণের অর্থে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে সোমবার জাতীয় সংসদে ঝাঁঝালো বক্তব্য দেন ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। তিনি এ ঘটনাকে ‘পুকুর চুরি নয়, সাগর চুরি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিষয়টি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করার পর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে চিঠি দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি।

তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেতনের একটি অংশ সরকারি তহবিলে জমা হয়। অথচ জনগণের অর্থ লুটপাট করে অসাধু ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে নেত্রকোণা সড়ক বিভাগ (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আলনূর সালেহীনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও বক্তব্য নেওয়া যায়নি।