প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক বাজেট সাইফুজামানের ঘুষের বোঝায় নাজেহাল ঠিকাদাররা, ঘুষ আর দুর্নীতির মুকুট বিহীন রাজা পরিচালক সাইফুজামান

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: জানুয়ারী ১০, ২০২৬ ১৯:৫৭:০৯

প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক বাজেট সাইফুজামানের নেতৃত্ব লুটপাটের মহোৎসব চলছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে ঘুষ বানিজ্য। পরিচালক বাজেট সাইফুজামান দুনীতি তে বেসামাল হয়ে টেন্ডারের কারসাজি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।নিষিদ্ধ পতিত লীগ পন্থী এখন বিএনপি পন্থা দাবি করে দুনীতির সর্গরাজ্যে পরিনত করেছেন প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের। লীগের দোসর সাইফুজামান এখনো বহাল তরিয়াতে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারর্ছে। সামনে অবসরে যাবেন বলে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ দুনীতি, কমিশন, বদলী বানিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশ যখন একটি কলুষমুক্ত পুলিশ প্রশাসনের স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই ভদ্র মানুষের আড়ালে এক ভয়ঙ্কর দানবীয় রাজত্ব কায়েম করেছেন পরিচালক সাইফুজামান।

গোপন সুত্রে যানা গেছে, মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, না-কি আর দের মাস পরে অবসরে যাবেন, তিনিও দুই মাসপরে অবসরে যাবেন,  সচিব এর নামে দোহাই দিয়ে ও তাঁকে  কে ম্যানেজ করে তাঁর বেধে দেওয়া চাঁদ উত্তোলন করছেন সাইফুজামান  বলে একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা আজকের সংবাদ কে জানান।

রক্ষকের মুখোশ খুলে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন এক নির্মম ভক্ষক হিসেবে। যার লোলুপ দৃষ্টি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাধারণ ঠীকাদারী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিজের  ঘনিষ্ঠ কমকর্তারা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে  কর্মকর্তার এক ‘রাক্ষসী ক্ষুধা’র চাঞ্চল্যকর তথ্য,প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরে সমাপ্ত প্রকল্পের আসবাবপত্র, সহ মুল্যবান জিনিস পত্র কম্পিউটার, টেবিল, চেয়ার, ফটোকপি মেশিন, কেবিনেট বক্স,সহ নানান উপকরণের সিংহ ভাগ জিনিস তিনি নামে-বেনামে আত্মসাৎ করেছেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই সকল প্রকল্প থেকে, ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, সিলেট,( আই এল এসটি), উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্প, ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প, মহিষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প, ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (ঘঅঞচ)প্রকল্পের মামামাল নাম মাত্র মুল্য বিক্রয় করে,  সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করে নিজের আখের গোছাচ্ছেন। একাধিক সুত্রে আরও যানা গেছে, সরকারি  ব্যবহারিত গাড়ি সার্বক্ষণিক তাঁর পারিবারিক কাজে ব্যবহারীত হয়। সরকারি গাড়ি নিয়ে ঢাকার বাইরে টুরে জান তার পরিবার নিয়ে। প্রানীসম্পদ অধিদপ্তর কে তাঁর পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে। এই ভাবে রামরাজত্ব কায়েম করে চলেছেন তিনি প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের।

অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের আখের গোছাতে ‘হাজার কোটি টাকার মিশনে’ নেমেছেন, আর এই পথের কাঁটা সরাতে তিনি বেছে নিয়েছেন  অধিদপ্তরের কর্মরত সাধারণ কর্মকর্তা দের। তাঁর শিমাহীন দুর্নীতি , অনৈতিক আবদার ও চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোই কাল হয়েছে সাধারণ ঠিকাদাররা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ঐ সকল  কর্মকর্তাদের সাথে অসাধ আচরন করে অফিস থেকে বের করে দেন।

৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়কে পরিচালক সাইফুজামান  তার চাঁদাবাজির মৎসব উৎসবে পরিণত করেছেন। তার কৌশল অত্যন্ত ধূর্ত ও ঘৃণ্য। ঠীকাদারী ব্যবসায়ী ও  টার্গেট করে তিনি প্রথমে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ট্যাগ দেন পরবর্তী তাদের কে কাজের বিপরীতে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করছে।

সুত্রে যানা গেছে, পরিচালক সাইফুজামান লীগের দোসর দের সঙ্গে আঁতাত করে তিনি টেন্ডার  বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়েছিলেন, সেখান থেকেও তিনি মাসিক লক্ষ লক্ষ  টাকা মাসোহারা তুলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিচালক সাইফুজামান  রাজনৈতিক অবস্থান যেন সুবিধাবাদের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে  সেই সময় তিনি ছিলেন ক্ষমতার পূজারী। অথচ পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই তিনি গিরগিটির মতো রং বদলে ফেলেছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন তার কাছে কেবল ‘ঠীকাদারা শিকার’ ও অর্থ উপার্জনের একটি নতুন সুযোগ মাত্র। নিজেকে সাধু সাজিয়ে তিনি মূলত ব্যক্তিগত শত্রুতা উদ্ধার ও পকেট ভারী করছেন তিনি।

কেবল আর্থিক দুর্নীতিই নয়, তাঁর  বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অনৈতিক স্খলনের অভিযোগ। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গভীরে রাত পর্যন্ত ঠিকাদার দের নিয়ে চলে ভাগাভাগির রফাদফা।  অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন তিনি,রাজধানী ঢাকা মিরপুরে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয়ে করেছেন তিনি এছাড়া কুমিল্লা শহরে পাঁচ কাঠা জায়গায় ক্রয় করে সেখানে আলিশান প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা দিয়ে। নামে বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি।

অধিদপ্তরের  চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার এই ক্রান্তিলগ্নে সাইফুজামান  মতো একজন ‘মাফিয়া’ কর্মকর্তার পদে থাকা পুরো প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের  জন্য এক অশনি সংকেত। ভুক্তভোগী সহকর্মী,সাধারণ ঠিকাদার,  ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি—অবিলম্বে এই দুর্বৃত্ত কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে তার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।