ভূমি সংস্কার বোর্ডে রাম রাজত্ব কায়েম করেছে রাউফুল আমিন ॥ দেখার কেউ নেই

রফিকুল ইসলাম কচি
রফিকুল ইসলাম কচি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৪ ২০:২৪:২৮

ভাওয়াল রাজ এস্টেট, ভূমি সংস্কার বোর্ড'র সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার রাউফুল আমিন এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে প্রতারনা নামের রাজকার্য চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুমি সংস্কার বোর্ডের টাকা আত্মসাৎ, সরকারি সম্পত্তি  টাকার বিনিময়ে জনগণের নামে নাদাবির মতামত প্রদান, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষাগত সনদপত্র তৈরি করে চাকরি গ্রহন, ভাওয়াল রাজ এস্টেট এর অর্থ তছরুপসহ প্রতারণা ও ঘুষ বাণিজ্যের হোতা আওয়ামী লীগের দোসর  ভূমি সংস্কার বোর্ডের এই রাউফুল আমিন।

ভূমি সংস্কার বোর্ডের সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার হওয়ার কারণে তিনি সংস্কার বোর্ডে গড়ে তুলেছেন বিশাল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর বিত্তশালী ও অস্ত্রধারী  চক্রের মাধ্যমে ভাওয়াল রাজ এস্টেট এর জমি টাকার বিনিময়ে তুলে দিচ্ছেন দালাল চক্রের হাতে। রাউফুল আমিন আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য ও অর্থ যোগানদাতা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ২০১০ সালে ঘুষের বিনিময়ে চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। দৈনিক আজকের সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০১০ সালে রাউফুল আমিন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পান।

রাউফুল আমিন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ হওয়ার সত্তেও এমএ পাশের ভুয়া সনদপত্রের মাধ্যমে চাকরি পান এবং প্রতারনার মাধ্যমে চাকরির পদোন্নতিসহ সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। ভুয়া সনদপত্রের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে রাউফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয় যা এখনো চলমান আছে বলে জানা যায়। গত ৬ই জুলাই ২০২০ ইং তারিখ  ভাওয়াল রাজ এস্টেট এর ব্যাংক একাউন্ট হতে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে রাউফুল আমিন সহ তিনজনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় থানায় তাদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের হলেও টাকা এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতা বলে এজাহার থেকে তার নাম বাদ দিতে সক্ষম হন রাউফুল। টাকা আত্মসাতের মূলহোতা তিনি হলেও থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। মোঃ কাজল হোসেন নামের জৈনক ব্যক্তি, রাউফুল আমিন সিঃ সহকারি ম্যানেজার ও আবু মাসুদ উপভূমি কমিশনার, ভাওয়াল রাজ এস্টেট, ভুমি সংস্কার বোর্ড এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করে সরকারি জমি হাতছাড়া করার অভিযোগ দাখিল করে। এর ফলে গত ১৪ মার্চ  ২০২৩ ইং তারিখ,  ০৪.১৫৩ নং স্মারকে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সহকারি ভূমি সংস্কার  কমিশনার, ভূমি সংস্কার বোর্ড ঢাকা তদন্তের জন্য ভূমি  মন্ত্রনালয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। রাউফুল আমিন একইভাবে টাকা ও আওয়ামী লীগের দলীয় ক্ষমতায় বিষয়টি ধামা চাপা দিতে সক্ষম হন।

গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ ইং তারিখ, ২০.০৮নং স্মারকে কামরুল হাসান উপভুমি সংস্কার কমিশনার ভূমি সংস্কার বোর্ড স্বাক্ষরিত তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করেন, তৎকালীন সময়ে ভাওয়াল রাজ এস্টেট এর হিসাব শাখায় মনিটরিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী কারণ দর্শানো  এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা যেতে পারে বলে মতামত দেন। উক্ত তদন্ত রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নথি পর্যালোচনা ও সিঃ সহকারী ম্যানেজার রাউফুল আমিন আয় দেখিয়েছেন ৯ (নয়) লক্ষ ৮৭ হাজার  ৪০০ টাকা, ব্যায় দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৪৮ লক্ষ ৮ হাজার ৭২১ টাকা। তদন্তের মতে, যে সকল খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় মর্মে সংস্কার বোর্ডের টাকা তছরুপ হয়েছে বলে  উল্লেখ করা হয়।

অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসে রাউফুল আমিনের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী  বলেন রাউফুল যখন চাকরিতে যোগদান করেন তখন তার বয়স ছিল ৩১.৬ বছর। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ৩০বছরের প্রজ্ঞাপন জারি থাকলেও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে  চাকরি নিয়ে বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর যে সরকার গঠিত হয়েছে তারা দেশ এবং জাতির তরে কাজ করছে। দলীয় ব্যানারে অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া হবে না বিধায় রাউফুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো উচ্চতর গভীর তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।