চীনের ক্যান্টন টাওয়ার আর পার্ল নদী-এক শহর আর হাজার অনুভূতির গল্প

আমেনা ইসলাম
আমেনা ইসলাম
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬ ২১:১১:৩৪

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ত ও আধুনিক শহর গুয়াংজু নামটা আগে অনেকবার শুনেছি, কিন্তু নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। সম্প্রতি এই শহরে ঘুরে আসার সুযোগ হয়েছিল, আর সেই অভিজ্ঞতাই আজ শেয়ার করছি। প্রথম দিনেই বুঝে গিয়েছিলাম, গুয়াংজু শুধু একটি শহর নয়, বরং ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক অসাধারণ মিশ্রণ।

আকাশছোঁয়া বিল্ডিং, ঝকঝকে রাস্তা, আর প্রযুক্তির ছোঁয়া—সবকিছু যেন ভবিষ্যতের এক দুর্দান্ত আশা দেখায়। কিন্তু এর মাঝেও শহরের পুরোনো সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট।শহরের অন্যতম আকর্ষণ ক্যান্টন টাওয়ার। দূর থেকে দেখলেই চোখ আটকে যায়। রাতে যখন টাওয়ারটি নানা রঙের আলোয় আলোকিত হয়, তখন মনে হয় যেন কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমার দৃশ্য দেখছি। টাওয়ারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শান্ত আর সচ্ছ র্পাল নদীর মনোরম দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। এ দৃশ্য মনকে অন্যরকম এক স্বস্তি দেয়।সন্ধ্যার পর পার্ল নদীর- পাড়ে হাঁটাহাঁটি ছিল আমার ভ্রমণের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। নদীর দুপাশে ঝলমলে আলো, নৌকার ধীর গতির চলাচল, আর শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে এক ধরনের প্রশান্তি—সব মিলিয়ে সময়টা যেন থেমে গিয়েছিল।

আরেকটি জায়গা যা আমাকে মুগ্ধ করেছে তা হলো চীনের গুয়াংজুর ইউসি পার্কে অবস্থিত হযরত মুঃ সঃ এর মামা  সৈয়্যাদেনা হযরত  স্বাদ বীন আবী ওয়াক্কাস রাদ্বীঃ মাজার। এখানে যাবার পর আমি এক অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করেছি। মনে হয় যেন হঠাৎ পুরোনো ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, গাছপালায় ঘেরা রাস্তা,পাখির ডাক সব মিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ।খাবারের কথা না বললেই নয়।

গুয়াংজু চীনের খাবারের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এখানে  খাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। , নানা স্বাদের নানা খাবার, প্রতিটি খাবারই যেন আলাদা গল্প বলে।শহরের মানুষজনও বেশ আন্তরিক। যদিও ভাষার কিছু বাধা ছিল, তবুও তাদের আচরণে সেটা খুব একটা সমস্যা মনে হয়নি। হাসিমুখে সাহায্য করার মানসিকতা ভ্রমণকে আরও সহজ করে তোলে। আরো একটি বিষয় যেটা আমাকে বলতেই হবে  তা হলো কোন পোষ্টার চোখে পরেনি, কোন নেতার ছবি, কর্মীর শুভেচ্ছা অভিনন্দন কিছুইনা। বেশ অবাকই হয়েছি। খুব আগ্রহ নিয়ে মোবাইল ট্রান্সলেটের সাহায্যে জানতে চাইলাম তোমাদের মেয়র বা নেতা কে , ওরা ফ্যালফ্যা করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।জীবনে মনে হয় নেতা কি জিনিস শোনেইনি। আর যাতায়াত ব্যবস্থাও দারুণ উন্নত।এরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নীচে আলাদা  এক শহর তৈরি করেছে।  

বিশেষ করে মেট্রো যাতায়াত পুরোটাই মাটির নীচে আমার ধারনা মতে যা প্রায় ১৫-২০ তলা পর্যন্ত গভীরে। যা ব্যবহার করে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে খুব সহজেই যাওয়া যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আর সময়ানুবর্তী এই পরিবহন ব্যবস্থা সত্যিই প্রশংসনীয়।সব মিলিয়ে, গুয়াংজু এমন একটি শহর যেখানে অতীত আর ভবিষ্যৎ পাশাপাশি হাঁটে। এই ভ্রমণ শুধু নতুন একটি জায়গা দেখার অভিজ্ঞতা নয়, বরং নতুনভাবে পৃথিবীকে দেখার সুযোগও দিয়েছে।ভ্রমণ শেষে মনে হয়েছে—দুনিয়া আসলে অনেক বড়, আর জানার মতো গল্পের কোনো শেষ নেই।