কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার ফারজানার ঘুষ বাণিজ্য

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৩ ১৬:৫৯:৫৫

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার ফারজানার বিরুদ্ধে মাসিক লাখ লাখ টাকার ঘুষ বানিজ্যের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলে থেকে গেছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। জান্নাতুল তাইয়েবার একান্ত সহযোগিতায় কারাগারে ভিতরে যে সমস্ত অবৈধ আয় করত পাপিয়া তার বিনিময়ে জেলার ফারহানাকে  প্রতিমাসে ১০ লক্ষ এবং তাইয়েবাকে ৫ লক্ষ টাকা গুনতে হতো পাপিয়াকে।

জেলার ফারহানা সেই ঘুষের টাকার একটি অংশ কারা অধিদপ্তরের একজন বড় বাবুর পকেটে ঢুকিয়ে দিতেন। সে কারণে কারাগারের ভিতরে বিভিন্ন অপরাধের নাটেরগুরু হয়েও প্রকাশ্যে এত অপরাধ করেও বহাল তরিয়তে নিজের পদে বহাল হয়েছেন। জেলার ফারহানার কারা বিভাগের সকলের সাথে সমন্বয় থাকায় পাপিয়া ডিভিশন পাওয়ার অযোগ্য হলেও জেল কোড অমান্য করে পাপিয়াকে ডিভিশনের সকল সুবিধা দিয়েছিলেন তিনি।

জানা যায়,কাশিমপুর মহিলা কারাগারের রাজনীগন্ধার-২ এর একটি রুমে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন পাপিয়া। নিজেদের মধ্যে সক্ষতা থাকাই রাতে ও লকাপের বাইরে খোশ গল্পে আড্ডায় সময় কাটাতেন জেলার ফারহানা এবং পাপিয়া। দুইজনের মধ্যে বনিবনা মধুর হওয়ায় জেলার ফারহানা আক্তারকে একটি প্রাইভেট কারও উপহার দেন পাপিয়া। হাজতী আসামি রুনা লায়লার মারধরের ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রাইভেট গাড়িটি তিনি কারাগার থেকে সরিয়ে বাহিরে নিরাপদ স্থানে নিয়া যান।

আরও জানা যায়,শুধুমাত্র জেলার নন, জেল সুপার ওবাইদুর রহমানের সঙ্গেও পাপিয়ার ছিল অনৈতিক সম্পর্ক,যা মহিলা কারাগার জুড়ে বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট। গুঞ্জন রয়েছে জেলার ফারহানাকে ম্যানেজ করে জেল সুপারের সঙ্গে একান্ত সময় ও কাটাতেন বহিস্কৃত ওই যুবলীগ নেত্রী। যেভাবে কারাগারে মাদক ও মোবাইল পৌছায় : অনুসন্ধান বলছে,কাশিমপুর কারাগারে সকালে ডিউটি করতেন মহিলা রক্ষী মেট্রন ফাতিমা এবং বিকালে মেট্রন নাসিমা। জেলার ফারহানা ও ডিপুটি জেলার জান্নাতুল তাইয়েবা নির্দেশে ওই বিশস্থ দুইজনসহ মহিলা কারারক্ষী মাজিয়া ও লাকির মাধ্যমে কারাগারে মাদক ও মোবাইল অনায়াসে ঢুকে পড়ত। পরে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ হওয়া  মাদক ও মোবাইল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন কাশিমপুর কারাগারে পাপের রাজ্যের সম্রাজ্ঞী শামীমা নূর পাপিয়া ও জেলার ফারজানা।

পাপিয়ার মাধ্যমে কারাগারে মাদক ব্যবসা পরিচালনা জেলার ফারজানা যা কারাগারের ভিতরে ছিল ওপেন সিক্রেট। কিন্তু তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করত না। সূত্র আরও বলছে, লকআপের ভিতরে সুবিধামত মাদক ব্যবসায় পরিচালনা এবং নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে বন্দিদের সাথে পরিবারের লোকজনের কথা বলার ব্যবস্থা করে পাপিয়া হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। ওই টাকার ভাগ পেতেন  জেলার ফারহানা ও ডিপুটি জেলার জান্নাতুল তাইয়েবা। সেসময় পাপিয়া রাত ৯-১০ টা পর্যন্ত লক আপের বাহিরে থাকতেন বলেও তথ্য রয়েছে।যা কারা নিয়মের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এছাড়াও অঘোষিত কারা সম্রাজ্ঞী পাপিয়া ,জেলার ফারহানা ও ডিপুটি জেলার জান্নাতুল তাইয়েবা মিলে কারাগারের ভিতরে মাদক ও ব্যবসায় বাণিজ্য,মোবাইলের রমরমা ব্যবসায় পরিচালনা করতেন। আর এসব অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে তারা রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। অবৈধ কাজের টাকা ভাগাভাগি হয় যেভাবে : কাশিমপুর কারাগারের ভিতরে অবৈধ  হেনকাজ নাই যে তা হয় না। সেকথা কারাগারের ভিতরে ও বাহিরে কারও অজানা নয়। কারাগারের ভিতরে সবকিছুই চলে একজেন ইশারায় চলে। আর ইশারা বাস্তবায়নে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে কাজ করেন কারাগারের জেলার ফারহানা ও ডিপুটি জেলার জান্নাতুল তাইয়েবা।

আরও জানা যায়, জেলার ফারহানার মাধ্যমে কারাগারের ভিতরে ও বাহিরে পাপিয়ার অবৈধ ইনকামের সমস্ত টাকা লেনদেন হয়ে থাকে। তাদের সহযোগী হিসাবে আরও কাজ করেন মহিলা রক্ষী মেট্রন ফাতিমা ও নাসিমা এবং মহিলা কারারক্ষী মাজিয়া ও লাকি। সহযোগী চারজন তাদের খুব বিশ্বস্ত ও আজ্ঞাবাহ। জীবন যাবে তবুও তারা মুখ খুলবে না। মুখ না খোলার একটি বড় কারণ,মাস শেষে তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে পৌঁছে যাচ্ছে অবৈধভাবে আয়ের একটি অংশ। ক্যান্টিন ব্যবসায় জেলারের অনিয়ম: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষমাতা দেখিয়ে কাশিমপুর কারাগার ক্যান্টিন নিজের কজ্বায় রেখেছেন জেলার ফারহানা। ক্ষমতার দাপটে  কেন্টিনের হিসেবে সবসময় গরমিল দেখানোই যেনো,তার রুটিন ওয়ার্কেও একটি। আর হিসাবের গড়মিল দেখিয়ে কাড়িকাড়ি অর্থ  হাতিয়ে নেওয়াই ছিল জেলার ফারহানার ক্যান্টিন বাণিজ্য।

জানা যায়, ক্যান্টিনের হিসেবে গড়মিল দেখানোর কারণে ইতিমধ্যে তার নামে আইজি বরাবর ৪ টি রিপোর্ট করেছেন কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার। উর্দ্ধতন অফিসারের কাছে তার নামে রিপোর্ট করায় জেলার ও জেল সুপারের মধ্যে গোপনে এক ধরনের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। সূত্র বলছে ওই মনোমালিন্য এখনো অবদি চলমান রয়েছে। যেভাবে পাপিয়ার রান্না খাবার পৌঁছে যায়  জেলার ও ডেপুটি জেলারের বাসায়: মহিলা কয়েদি ও কারারক্ষীদের মাধ্যমে ডিভিশন চৌকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবদি ৬-৭ বার বিভিন্ন আইটেমর রান্না করা খাবার প্রস্তুত করা হত, সেই রান্না খাবার কারারক্ষীদের মাধ্যমে পৌঁছে যেত জেলার ফারহানা ও ডিপুটি জেলার জান্নাতুল তাইয়েবার বাসায়। এভাবে প্রত্যহ পৌছায়ে দেওয়া হত সকালের নাস্তা,দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার। সূত্র বলছে,তারা একে অপরের কিছু না দিয়ে খেতেই পারেননা। ঠিক যেনো পাশের বাড়ির ভাবির সাথে আর এক ভাবির সই,সই খেলা।