ছাত্র লীগের কোটায় চাকরি প্রাপ্ত লীগের দোসর আমির হোসেন আমুর ক্যাশিয়ার
এলজিইডি’র দুর্নীতি বরপুত্র প্রকৌশলী ইকবাল কবির এখনো বহাল তবিয়তে

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা আমির হোসেন আমুর ক্যাশিয়ার খ্যাত সাবেক ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী থেকে নিবাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ইকবাল কবির রয়েগেছেন এখনও সকল ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে এলজিইডিতে ছাত্র লীগের কোটায় চাকরি হাতিয়ে নেন সহকারী প্রকৌশলী পদে ইকবাল কবির। প্রকৌশল পদে চাকরি হাতিয়ে নিয়ে লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে তাঁর নেতৃত্বে চলে ঘুষ দুনীতি কমিশন বানিজ্য। দুনীতির মাস্টার মাইন্ড ছাত্র লীগের নেতা বনে যাওয়া মহা ঘুষখোর ইকবাল কবির চাকরি পুরোটা সময় ঝালকাঠি জেলার লীগের হেভিওয়েট নেতা,প্রয়াত আমির হোসেন আমুর ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন বিগত সময়ে।
লীগের সুবিধাভোগী দুনীতিবাজ ইকবাল কবির বর্তমানে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে সরকারের আমলাদের নিকট ধরনা দিচ্ছেন কোন একটা বড় প্রকল্পের আওতায় পিডি হওয়ার জন্য বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের সংবাদ কে জানান একাধিক কর্মকর্তারা। তাঁরা আরও জানান বিগত সময়ে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় কর্মরত থাকা কালিন দুদকের গণশুনানি কালে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দুনীতি কাজ না করে বিল উত্তোলন, ভুয়া বিল ভাউছার বানিয়ে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ,কমিশন বানিজ্য সহ নানান অভিযোগ ও প্রমান পত্র পেশ করেছিল একাধিক ভুক্তভোগী। যার পরিপেক্ষিতে দুদকে তার বিরুদ্ধে ২ টি মামলা হয়েও তৎকালীন লীগের দোসর আমুর দাপটে তছনছ করে সেই সকল অভিযোগ আলোর মুখ দেখেনি আজও পর্যন্ত। শোনাযায় দুদকের ফাইল গায়েব করে ফেলেছেন তাঁর দুনীতি করা অবৈধ টাকার বিনিময়ে। অপ্রতিরোধ্য হয়ে কমিশন বানিজ্য চালিয়ে গেছেন দেদারসে তিনি। এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এলজিইডি তে।
সুত্রে আরও জানা জায়, বিগত স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে আমির হোসেন আমু ও তাঁর পি এস,শাওনের ছত্র ছায়ায় থেকে দিনকেই রাত বানানোই ছিল তাঁর কাজ। এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী দের নির্দেশনা কিংবা বদলীর আর্দেশ কে তোয়াক্কা করতেন না তিনি। উদ্ধতন কর্মকর্তাদের কে বৃদ্ধাআঙুল দেখিয়ে বদলীর আদেশ বাতিল করাতেন আমির হোসেন আমুকে দিয়ে অবৈধ ক্ষমতার প্রভাবে। স্বৈরাচারী লীগের নেতা আমুর পিএস শাওনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ না করে বিল উত্তলন করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করে বনে গেছেন রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক।
খোঁজ নিয়ে যায় জায়,বিগত লীগ সরকারের দোসর দাপটি প্রকৌশলী ইকবালকে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলা থেকে রাজাপুর উপজেলায় বদলী করা হয়েছিল ২১/০৮/২০২৪ তারিখে স্বারক নং -৪৬০২.০০০০.০০১.৯৯.২৭১.১৮.৯৮০০ স্মারকে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে আমুর প্রভাবে সেই বদলীর আর্দেশ টি বাতিল করে পুনরায় বহাল থাকেন নলছিটি উপজেলায়।
একাধিক সুত্রে আরও জানা গেছ, এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে বিগত স্বৈরাচারী লীগ সরকারের আমলে প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ে কমিশন বাণিজ্য, এবং নিম্নমানের কাজের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে আলোচিত কিছু দুর্নীতির তথ্য ও ঘটনা ঠিকাদার কতৃক ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হলেও: প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়। লীগের দাপটে তছনছ করে ধামাচাপা দিয়েছিল। অতিনিম্ন মানের কাজ করার জন্য হাজীগঞ্জে ঘেরাও, ও বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে জনগণের রোষানল থেকে রক্ষা পায় শেয় যাত্রায়।
প্রকাশ আছে কমিশন ও বিল অনিয়ম: ঠিকাদারদের বিল ছাড় করার সময় অতিরিক্ত কমিশন নেওয়া এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল ভরি ভরি তার বিরুদ্ধে লীগ সরকার আমলে।
এছাড়া ‘মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’ নামক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।এসব বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সর্বশেষ স্ট্যান্ড রিলিজ বা তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়, এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানও চলমান কিনা? তা সুস্পষ্ট বর্ণনা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এলজিইডি র সাধারণ কর্মকর্তারা।
দুর্নীতির পাহাড় সমান অভিযোগ ও ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল তারপরও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত, চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি পেলেন প্রকৌশলী ইকবাল কবির, চলছে নানান গুনজন এলজিইডি তে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডারবাজি, নিম্নমানের কাজ এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। অথচ এখন পট পরিবর্তন করে বনে গেছেন রাতারাতি বিএনপি পন্থী।
এলজিইডি দুনীতিবাজ প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল কবির, যাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিসহ অভিযোগের পাহাড় থাকলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তিনি কখনো শাস্তির আওতায় না এনে পুরস্কার সরুপ পেয়েছেন পদোন্নতি।
অভিযোগ রয়েছে, মোঃ ইকবাল কবির ঝিনাইদহ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড উকিলপাড়ার দিন মুজুর কৃষক মোঃ রইছ উদ্দিন মোল্লার ছেলে। একসময় তাদের নুন আনতে পানতা ফুরাতো এখন তাঁর চাকরির সুবাদে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন রাতারাতি কোন পথে দাবী তাঁর এলাকা বাসীর।
২০১১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডিতে ক্ষুদ্রকার পানি সম্পদ প্রকল্পে অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগদান করেন তিনি। সাধারন কর্মকর্তাদের দাবি, কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমির হোসেন আমু সহ একাধিক মন্ত্রী-এমপি ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। যেখানেই কর্মরত ছিলেন, সেখানেই অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়া তৈরি করেছিলেন এবং তার দুনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ঠিকাদার গন প্রতিবাদ, মানববন্ধন কর্মসূচি সহ আন্দোলনের মুখে পালিয়ে গেলেও কখনো বড় ধরনের শাস্তি হয়নি তাঁর।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ইকবাল কবিরের প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও অভিযোগ অনুযায়ী তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবে সে তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হাজীগঞ্জে যোগদানের পর সেখানেও নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেখানেও কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্য গড়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ করে দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিতেন তিনি, ত্রুটি পুর্ন নির্মাণকাজ করে ভুয়া বিল তুলে ঠিকাদারদের তাঁর সঙ্গে নির্দিষ্ট সমঝোতা করে সমুদয় টাকা ভাগাভাগি করে নিতেন দুনীতি বর পুত্র ইকবাল কবির।
খোঁজ নিয়ে আরও যানা জায়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের ধীরগতি নিয়ে, যার প্রতিবাদে তারা ইকবাল কবির ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ঘেরাও করে উষ্কক জনতা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইকবাল কবির একটি বাথরুমে আশ্রয় নেন এবং কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে উদ্ধার হন বাতরুম থেকে।
তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দেশের বাড়ি সহ ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং নিজ জন্মস্থান ঝিনাইদহ সদরে বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছেন তিনি। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে ও বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর প্রকৌশলী ইকবাল কবির। আইনের দৃষ্টি এড়াতে অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী, সন্তান, শাশুড়ি, মা এবং অন্যান্য আত্মীয়ের নামে বেনামে কেনা হয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তারা আজকের সংবাদ কে জানান।
এত অভিযোগ সত্ত্বেও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাঁকে নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত, চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে এলজিইডিতে সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ ও বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী দুর্নীতি বা অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ (যেমন প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ভাইরাল ভিডিও) থাকা অবস্থায় পদোন্নতির সুযোগ থাকার কথা নয়। তার পদোন্নতির জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে? তার পদোন্নতি ঘিরে এলজিইডির যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল কবিরের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
