কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধিনে মাসরুম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের পিডি লীগপন্থী ফ্যাসিবাদের দোসর আকতার জাহান কাঁকনের নেতৃত্বে চলছে রমরমা ঘুষ বানিজ্য

পতিত লীগ সরকারের দোসর, লীগের সুবিধাভোগী দুনীতির মাস্টার মাইন্ড কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধিনে মাসরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের পিডি আকতার জাহান কাঁকনের বেপরোয়া দুনীতির কারণে ডুবতে বসেছে প্রকল্পের উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। স্বৈরাচারী লীগ পন্থী দুনীতির বর পুত্র প্রকল্প পরিচালক আকতার জাহান কাঁকন এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। লীগ সরকারের পতন হলেও এখন দেদারসে ঘুষ দুনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন লীগের দোসর পিডি কাঁকন।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময়ে সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের আর্শীবাদে প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালকের হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছিলেন পিডি কাঁকন। তাঁর পরে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নী রাতা রাতি বনে গেছেন কোটি পতি। স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের পতন হলে এখন জামাত পন্থী বনে গেছেন রাতারাতি ভোল পাল্টে পিডি কাঁকন।
সম্প্রতি মাসরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন অনিয়ম দুনীতির বিষয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা তে সংবাদ প্রকাশ হলে, দুনীতিবাজ পিডি কাঁকন নিজেকে সৎবান দাবি করতে দেখা গেছে। প্রকল্পের কার্যক্রমের বিষয়ে কোন আর্থিক অনিয়ম দুনীতি হয়নী, প্রকল্পের ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে বলে অনলাইন প্লাটফর্মে প্রচার করে যাচ্ছেন পিডি ও তাঁর সিন্ডিকেট বাহীনি।
প্রকল্পের দুনীতি আড়াল করতে মরিয়া হয়ে ঐ সকল অনলাইন প্লাটফর্ম ও অক্ষত আন্ডার গ্রাউন্ড কিছু পত্রিকা তে সাক্ষাৎকার প্রচার করে নিজেকে জাহির করছেন তার প্রকল্পে সাফল্যের বিষয়ে।
সুত্র মতে, উক্ত প্রকল্পের পিডি কাঁকন এর নেতৃত্বে চলছে বেপরোয়া কমিশন, ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ এর বানিজ্য। প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কসব,সেমিনার, প্রদর্শনী, মাঠদিবস,কৃষি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভুয়া বিল ভাউছার বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। প্রকল্পের পিডি আকতার জাহান কাঁকন নিজেই ওয়ার্কসের যাবদীয় মালামাল তাঁর পছন্দের ঠীকাদারের মাধ্যমে কেনা কাটা করে অতি নিম্নমানের সামগ্রী নিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ পিডি কাঁকন।
একাধিক সুত্রে জানা জায়, মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ এর মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জানুয়ারি ২০২৩ শুরু হয়। আগামী ডিসেম্বর ২০২৭ মেয়াদে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের সামগ্রিক উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশে মাশরুম উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন, দারিদ্র হ্রাসকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু প্রকল্পের উন্নয়ন না,হলেও পিডি কাঁকন এর ব্যাপক আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। সাভারের কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট, প্লট ক্রয় করেছেন তিনি।
প্রকল্পের আওতায় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সাভার ঢাকা ও ৩৪ টি হটিকালচার সেন্টার মাশরুম উপকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছেন।এবং সকল জেলা, ১৬০ টি উপজেলা ১৫ টি মেট্রোপলিটন থানা সম্প্রসারণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছেন নামে মাত্র। উপকেন্দ্র গুলি হতে উদ্যোক্তাগণ মাতৃবীজ সংগ্রহ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তাঁর উল্টো চিত্র। এছাড়া দলভুক্ত চাষী প্রশিক্ষণ উপকেন্দ্র গুলিতে ব্যাপক দুনীতি হচ্ছে, হর্টিকালচার সেন্টার বরাদ্দের বিপরীতে বরাদ্ধ কৃত টাকা আংশিক প্রদান করে বাকী টাকা ভুয়া বিল পরিশোধ দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে পিডি কাঁকন এর বিরুদ্ধে।
প্রকল্প শুরু থেকে আসামবস্তী, রাঙ্গামাটিস্থ আসামবস্তী মাশরুম সেন্টার নিরলসভাবে উদ্যোক্তা ও দলভুক্ত চাষী প্রশিক্ষণ প্রদান করে প্রকল্পের অগ্রগতি সাধনে কাজের বিপরীতে দুনীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের প্রদর্শনী ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাঁর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতিটি উপজেলা হতে পাঁচ জন উদ্যোক্তা তৈরি হবে তবে একটি ইউনিয়নে একজন উদ্যোক্তই থাকার সর্ত তাকলেও সেখানে সজন প্রিতির মাধ্যমে কারসাজি করা হয়েছে বলে একাধিক সুত্রে আরও জানা গেছ। ২০২৩ সাল হতে এই পর্যন্ত দলভুক্ত কৃষক পর্যায়ে কৃষক/উদ্যোক্ত) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ প্রশিক্ষণের আওতায় আর্থিক দুনীতি কারণে কৃষি উদ্যোক্তারদের সুফল মেলেনি বরং পিডির আর্থিক সুফল মেলেছে। কৃষক/উদ্যোক্তকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে যেসকল স্হানে সেখানে সজন প্রিতি,আশ্রয় এর কারণে সুফল ভোগীদের হয়রানির অভিযোগ ছিল ভরি ভরি।
মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বেহেস্তকে গেছে শুধু মাত্র পিডি কাঁকনের আর্থিক দুনীতির কারণে। প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম সমাপ্তি শেষের দিকে হলেও এখনো ৫০% কাজেই করতে সক্ষম হয়নী অযোগ্য পিডি কাঁকন। উক্ত প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ছিল, মাশরুম উৎপাদন বৃদ্ধির নিমিত্তে বিশ্বের জনপ্রিয় বিভিন্ন প্রকার মাশরুমের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করা এবং এসব জার্মপ্লাজমের বাংলাদেশে চাষ ও সংরক্ষণ উপযোগী লাগসই ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন/ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা। মাননিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চিতকরণের সুযোগ সৃষ্টিপূর্বক উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন মাশরুম ও মাশরুমজাত পণ্য উৎপাদন প্রযুক্তি/কৌশল সম্প্রসারণ করা। দারিদ্র হ্রাসকরণ ওব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে মাশরুম শিল্পোদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং মাশরুম চাষের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থানের মডেল “মাশরুম পল্লী” কার্যক্রম সারাদেশে সম্প্রসারণ করা। মাশরুম ও মাশরুমজাত পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীসহ সকল স্তরের মানুষের খাদ্য, পুষ্টি ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করা, এবং মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
প্রকল্পের কর্ম এলাকা মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, সাভারে হওয়াতে অধিদপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তাদের দেখ ভাল করার তেমন কোন সুযোগ না থাকার কারণে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ দুনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন লীগের দোসর পিডি কাঁকন বলে একাধিক কর্মকর্তারা আজকের সংবাদ কে জানান। উল্লেখীত অভিযোগ এর বিষয়ে পিডি কাঁকন এর মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোন মতামত পাওয়া যায়নী।
