যেকোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সহজতর করতে সরকার পূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২০:৩০:২৫

বাংলাদেশে যেকোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সহজতর করতে বর্তমান সরকার পূর্ণ সহায়তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর ব্যাপকতা তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দেশজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পাঁচ শতাধিক উপজেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৪ হাজার ৯০০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সারা দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি), চীনা সরকারের সরাসরি অর্থায়ন কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ এবং সড়ক ও সেতু নির্মাণ খাতে চীনের অব্যাহত অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সিআরসিসির প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের গ্রামকে শহরে রূপান্তর করার পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ওয়াসার অধীনে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং সেতু-কালভার্ট নির্মাণে পিপিপি মডেলে অথবা সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে সিআরসিসি এগিয়ে এলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

অন্যদিকে চীনা প্রতিনিধিদলের পক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন বলেন, বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআরসিসি। প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক ঠিকাদারি খাতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে সিআরসিসির ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২৪টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এবং নদীর তীর পুনরুদ্ধার ও অবকাঠামো নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য শক্তি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌর বিদ্যুৎ ও গ্রামীণ আর্সেনিক মুক্ত নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী সিআরসিসি। বাংলাদেশের পল্লী ও শহর অঞ্চলের সুষম উন্নয়নে সিআরসিসি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চায়।