লীগপন্থী গনপুর্ত অধিদপ্তরের দুনীতির বর পুত্র তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহাবুবুল হককে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদায়নের পাঁয়তারা চলছে

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৯:০৯:২৪

গনপুর্ত অধিদপ্তরের ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ই/ এম সার্কেল -৩ এর দুনীতির মাস্টার মাইন্ড মাহাবুবুল হক চৌধুরীকে পদায়ন দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান। সরকারি অর্থ লুটপাটের মহোৎসব চালিয়েছেন বিগত সময়ে দুনীতিবাজ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহাবুবুল হক চৌধুরী। লীগের দাপটে তছনছ, অনিয়ম দুনীতি চালিয়ে গেছেন দেদারসে তিনি। এখন বহাল তবিয়তে এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে গনপুর্ত অধিদপ্তরের। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম দুনীতি ও অডিট আপত্তি থাকা সর্তেও এতসব অভিযোগের মধ্যেই পদোন্নতির প্রস্তাব। প্রশ্নের মুখে গণপূর্তের সাধারণ  কর্মকর্তা দের মাঝে চলছে চরম উত্তেজনা। দুনীতি পরায়ন লীগের দোসর মাহাবুবুল হক চৌধুরীকে পদোন্নতির প্রস্তাব, প্রশ্নের মুখে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বিরুদ্ধে বলে একাধিক সুত্রে যানা জায়। প্রকাশ আছে ৩ কোটি টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব পদে পদায়ন করার লক্ষে মিশনে নেমেছেন প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী।

বিগত সময়ে গনপুর্তের সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রায় ১৭ কোটি টাকার বিল অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) মাহবুবুর হক চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা-১ থেকে গত ১ জুলাই জারি করা এক প্রস্তাবপত্রে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) পদে কর্মরত একজন কর্মকর্তা আগামী ১ সেপ্টেম্বর অবসরে যাওয়ায় শূন্য পদে মাহবুবুর হক চৌধুরীকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ঢাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল-৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, মাহবুবুর হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়ম এবং ঠিকাদারদের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই)-এর একটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ১৭ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৪৪ টাকার বিল অনুমোদনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে। একই সঙ্গে সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন কিছু ক্রয় কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জনৈক ভুক্তভোগী এক ঠিকাদার আলাউদ্দিন ওয়াজেদ দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট বিলের বিপরীতে প্রকল্পের অগ্রগতি, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বাজারদরের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ-ও পযন্ত অভিযোগের বিষয় টি আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তাঁর দুনীতির বিরুদ্ধে সংসৃষ্ট মন্ত্রণালয়ের সদ্য অবসরে যাওয়ার  সচিব নজরুল ইসলাম এর নিকট লিখিত অভিযোগ করেও তার কোন প্রতিকার পায়নী ভুক্তভোগীরা।

একাধিক সূত্রের দাবি, টেন্ডার ও ক্রয় কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাববলয় কাজ করেছে মাহাবুবুল হক চৌধুরী। দুনীতির মাস্টার মাইন্ড মহা ঘুষখোর  মাহবুবুর হক চৌধুরীর নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি থাকার অভিযোগও তথ্য পাওয়া গেছে। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন দুনীতিবাজ মাহাবুবুল হক চৌধুরী।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সাধারণ কর্মকর্তারা। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহবুবুর হক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বড় অঙ্কের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে যথাযথ তদন্ত জরুরি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি প্রকল্পে বড় অঙ্কের আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

সরকারি অডিট ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞের মতে, যথাযথ যাচাই ছাড়া বিল অনুমোদন বা আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিরূপণ করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।