চাকরির নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বিগ্ন মাস্টার রোল কর্মচারীরা

রফিকুল ইসলাম কচি:
রফিকুল ইসলাম কচি:
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬ ২০:০৪:২৮

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক (মাস্টার রোল) কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা, আউটসোর্সিং কার্যক্রম বন্ধ এবং ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি। দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী ৯ আগস্ট অর্থ সচিবের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে।

রাজধানীর আব্দুল গনি রোডে অবস্থিত গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ । এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ মাঠপর্যায়ের সরকারি কার্যালয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টার রোল কর্মচারী বহু বছর ধরে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছেন। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ তাঁদের চাকরির নিরাপত্তাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নতুন নীতিমালার আওতায় মিটফোর্ড হাসপাতাল, ডাক বিভাগ, খাদ্য অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রেলওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাস্টার রোল কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীদের আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের কর্মসংস্থানকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে বৈধ কারণ ও যথাযথ তদন্ত ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তিন হাজারের বেশি দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এসব কর্মচারীকে অবিলম্বে নিজ নিজ পদে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আউটসোর্সিং ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে নেতারা বলেন, এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মচারীদের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে। তারা এটিকে "আধুনিক দাসপ্রথা" হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বয়সসীমা শিথিল করে দীর্ঘদিন কর্মরত মাস্টার রোল কর্মচারীদের স্থায়ীকরণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটি তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো— দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টার রোল কর্মচারীদের চাকরির আইনি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল, আউটসোর্সিংয়ে হস্তান্তরের সব কার্যক্রম বন্ধ করা এবং ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিল করে দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা ও অবদান বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এতে একদিকে যেমন হাজারো কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের জীবন-জীবিকা নিরাপদ হবে, অন্যদিকে সরকারি সেবার ধারাবাহিকতা ও দক্ষতাও বজায় থাকবে।

সংগঠনের সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান বাদল এবং আহ্বায়ক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে ৯ আগস্ট সারাদেশের দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়ে অর্থ সচিবের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চলাকালে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে ৯ আগস্ট সারাদেশের দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়ে অর্থ সচিবের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চলাকালে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।

এজেএ