সাভারে প্রকাশ্যে ঘুরছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রহত্যা মামলার আসামী

সাভার মডেল থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রহত্যা মামলার এক প্রভাবশালী আসামী ঘুরে বেড়ানোতে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওই আসামী হচ্ছেন- দ্বীন ইসলাম। তিনি স্থানীয় তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক। ফেসবুকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পেইজ থেকে শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে মার্চ মাসে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ অস্থীতিশীল করার যে চক্রান্তের কথা বলা হচ্ছে- সেই নির্দেশনা সাভারে ছড়াচ্ছেন তিনি। এ অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির বলেন, অবশ্যই আসামি গ্রেপ্তার করা হবে। স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় বাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লিয়াকত হোসেনের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ও তার আত্মীয় এই দ্বীন ইসলাম শেখ হাসিনা সরকারের ১৬ বছর ওই এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন। তিনি ফেরারী আসামী হয়েও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এলাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে আসন্ন মার্চ-আন্দোলন ও নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য সংগঠন গোছাচ্ছেন এবং এ সংক্রান্ত তৎপরতা চালাচ্ছেন অনেকটা প্রকাশ্যে। গোপন সভা করছেন নিজ বাড়িতে নেতাকর্মী নিয়ে। সেখানে পলাতক সিনিয়র নেতারা অংশ নিচ্ছেন ভিডিও কলে।
মামলার তথ্য বলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যাকাণ্ডে সাভার মডেল থানায় গত বছরের ১৯ আগস্ট দায়ের হওয়া ৪ নম্বর মামলার আসামী দ্বীন ইসলাম। মামলার প্রধান আসামী সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। সেখান থেকে তার দেওয়া নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে দ্বীন ইসলামের নেতৃত্বে।
এছাড়া সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. কামরুলের সঙ্গেও ছিল দ্বীন ইসলামের সখ্যতার তথ্য পাওয়া গেছে। রয়েছে একাধিক ঘনিষ্ঠ ছবি। এছাড়া জুলাই ও আগস্টের উত্তাল দিনগুলোতে দ্বীন ইসলাম আওয়ামী লীগের হয়ে নেতাকর্মী দিয়ে সাভারের সড়কে যে মহড়া দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ঘায়েল করতে, তার একাধিক ছবি এবং ভিডিও চিত্র রয়েছে আজকের সংবাদের কাছে।
এ বিষয়ে দ্বীন ইসলাম আজকের সংবাদকে বলেন, ‘আমি মাঝেমধ্যে বাড়ি আসি। এখন বাড়িতে আছি। আপনারা বললে বাড়িতে থাকবো না। মা বাবার অসুখ বিসুখ দেখতে আসতে হয়, স্ত্রী সন্তান আছে- বোঝেন তো।’
তবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুলের সঙ্গে ছবি থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। আর সাভরের আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত তার আত্মীয় বলে স্বীকার করেন। তবে লিয়াকতের ক্যাডার হিসেবে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করেন। কোন পুলিশকে ম্যানেজ করে এলাকায় ঘুরছেন- এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত জুলাই বিপ্লবের পর থেকে পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চিহ্নিত এই আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোতে সাভার মডেল থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
