প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পে চলছে ভয়াবহ দুর্নীতি

শালা দুলাভাই মিলে মিশে লুটপাটের অভিযোগ শাকিফ উল আজমের বিরুদ্ধে

জুয়েল হালদার
জুয়েল হালদার
প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৪ ১৮:৪০:১১

বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ নামের একটি ব্ল্যাক লিস্টেড কোম্পানিকে সাপ্লাই কাজ পাইয়ে দেয়াসহ শালা আর দুলাভাই মিলে দুর্নীতি আর লুটপাট্যের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ উঠেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের ডিপিডি মোঃ শাকিফ উল আজম দীপ্ত ও তার কথিত শালা মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়,  প্রকল্প দপ্তরে শালা মেহেদী হাসানকে লুটপাটের সহযোগী করতে অনিয়ম করে হিসাব রক্ষক পদে চাকুরী দিয়েছেন মোঃ শাকিফ উল আজম। জানা যায়, হিসাব রক্ষক পদে লোক নেয়ার জন্য বানিজ্য বিভাগের প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়। সেই নিয়গে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ শাকিফ উল আজমের শালা মেহেদী হাসান নিয়োগ পান। যেটা তদন্ত করলেই সত্যতা মিলবে। আর মেহেদী নিয়োগ পেয়েই শালাভাই আর আর দুলাভাই মিলে মিশেই প্রকল্পে লুটপাটের রাজত্ব করে চলছে।

গাড়ির ব্যাবহারে সাকিফ উল আজমের রয়েছে পারিবারিক গনট্রান্সপোর্ট নীতি। প্রকল্প অফিসের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি ব্যাবহার করে নিজ পারিবারিক যাবাহনের মত। সকালে শাকিফ উল আজমকে বাসা থেকে এনে ডিএলএস এ নামিয়ে দিয়েই গাড়িটির মূল দায়িত্ব পালনে লেগে পড়ে। শাকিফ উল আজম ঘনিষ্টজন বা পারিবারিক লোক সকলেই তার প্রকল্পের গাড়ি ব্যাবহার করে। এসব প্রকাশ্যে ঘটলেও যেন দেখার কেও নেই। সরকার একদিকে গাড়ি চালানোর উপর জ্বালানি সাশ্রয়ের কলা বল্লেও এই ডিপিডির ক্ষেত্রে ঠিক যেন তার উল্টোটা।যা তদন্ত জরুরী বলে মনে করছেন অধিদপ্তরের নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া একাধিক কর্মকর্তা এসকল বিষয়ে দেখার যেন কেউ নেই।

অপর একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ নামের একটি ব্ল্যাক লিস্টেড কোম্পানিকে কাজ দিতে সব সময় মরিয়া থাকেন এই ডিপিডি শাকিফ উল আজম। ওই একই কোম্পানির কাছ থেকে নিম্নমানের একাধিক মালামাল ক্রয় করে এ প্রকল্পের জন্য। যা প্রাই সবই মানহীন। মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের কারনে প্রতিষ্ঠানটিকে কোটি কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন মোঃ শাকিফ উল আজম। অপর একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ প্রতিষ্ঠানটিকে গত ৯ নভেম্বর ২০২১ ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের উপসচিব আ,ন,ম. তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনের সিপিটিইউ ও মহাপরিচালককে বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ প্রতিষ্ঠানটিসহ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকা ভুক্তি করে জরুরী ভিত্তিতে সিপিটিইউ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশের অনুরোধ করেন।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী মালামাল সরবরাহ না করে অপ্রচলিত ও লাইসেন্স বিহীন অপারেটিং সফটওয়্যার সরবরাহ করার কারনে সরকারের আর্থিক ক্ষতি এবং বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে বাংলাদেশ সাইন্স হাউজকে সরকারী বা সরকারী অর্থায়নে বাস্তবায়ন যোগ্য কোন প্রকল্পের বা প্রতিষ্ঠানের কার্যে সার্ভিস প্রদানের অযোগ্য ঘোষনা করে কালো তালিকা ভুক্তি করার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়। এছাড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদার করন ( প্রথম সংশোধিত)  প্রকল্পে বাংলাদেশ সাইন্স হাউস মানহীন ল্যাবরেটরির মালামাল সরবরাহ করার অভিযোগ আছে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের অনিয়ম বা দুর্নীতি বিষয়ক তদন্ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে অনিয়ম বা দুর্নীতি করে বাংলাদেশ সাইন্স হাউস প্রতিষ্ঠানটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদার করন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পে চায়না প্রোডাক্টের গায়ে স্টিকার লাগিয়ে ইউরোপীয় বলে সরবরাহ করে। অপর একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ প্রতিষ্ঠানটি এমন আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ কাজে এমন অনিয়ম আর দুরর্নীতিস সাথে জড়িত। যা তদন্ত করলেই সত্যতা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ প্রতিষ্ঠানটি মোঃ শাকিফ উল আজমের ঘনিষ্ঠজনের কোম্পানি। তাই মূল্যায়নের তালিকায় বারবার প্রাধান্য পায় প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র জানায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে এলডিডিপি প্রকল্পের এই সর্ববৃহৎ প্রকল্পের ৪০ শতাংশ কেনাকাটাই মোঃ শাকিফ উল আজমের একক নেতৃত্বে পরিচালিত হয় বলে। আর কোটেশন করে কেনাকাটা করেন  একান্ত ব্যাক্তিগতদের মাধ্যমে।

আরএফকিউ পদ্ধতিতে সব ধরনের কেনাকাটা করে মোঃ শাকিফ উল আজম ও শালা হিসাব রক্ষক মেহেদী হাসান। সূত্র জানায়, প্রতিবছর  প্রকল্পটিতে শত শত কোটি টাকার অডিট আপত্তি থোরায় কেয়ার করে একদম যা ইচ্ছে তাই ভাবে কেনাকাটা করে প্রকল্পটি থেকে হরি লুট করছে।  তাই দ্রুত ও দীপ্ত এবং তার শালা হিসাব রক্ষক মেহেদী হাসানকে এই পদ থেকে না সরাতে পারলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যাবেনা। বিশেষ একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি যে মোবাইল ক্লিনিক করার জন্য নতুন গাড়ি কেনার টেন্ডার দেয়া হয়েছে, কিন্তু গাড়ি কেনার আগেই তার ড্রাইভার নিয়োগের একটি লিস্ট প্রস্তুত করে রেখেছেন। এখন শুধু দরকার সময়ের। লোক দেখানো ড্রাইভার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। পরে পূর্ব থেকে মোঃ শাকিফ উল আজম কাছে ঠিক করে রাখা ড্রাইভারের তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদলের ক্যাডার মোঃ শাকিফ উল আজমের  বাবা ছিলেন বিএনপি সরকার আমলে ময়মনসিংহের সাবেক জেলা প্রশাসক। আর মোঃ শাকিফ উল আজম পারিবারিক ভাবেই জিয়ার আদর্শে অনুপ্রানিত। একই সাথে মোঃ শাকিফ উল আজম অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। তাইতো সুযোগ পেলেই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় টাকা পাচার করেন বলে অভিযোগ আছে। সম্প্রতি কিছুদিন আগে শ্রান্তি বিনোদনের ছুটিতে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় কাটিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে।