সদ্য সমাপ্ত প্রকল্পের অগ্রগতি অদৃশ্য

বিএডিসি “র”গুদামঘর নির্মাণ রক্ষনাবেক্ষণ প্রকল্পের পিডি মুজিবরের নেতৃত্বে চলছে হরিলুট

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৯:২৩:০১

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাভুক্ত, প্রকল্প পরিচালক নিষিদ্ধ ঘষিত পতিত লীগ সরকারের দোসর,সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর আস্তা ভাজন, সুবিধা ভোগী মুজিবুরে বিরুদ্ধে ব্যপক আর্থিক দুনীতির কারণে সদ্য সমাপ্ত প্রকল্পের উদ্দেশ্য  ব্যহত। শুরু মাত্র পিডি মুজিবরের আর্থিক দুনীতির কারণে শত ভাগ কাজ সম্পূর্ন না করে তার নেতৃত্বে চলছে হরিলুট। ভুয়া বিল ভাউচার ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সুত্রে যানা জায়, বিএডিসির অধিনে কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় সার ব্যবস্হাপনা ও সরবরাহ কার্যক্রম জোড়দার করনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নের সহায়ক ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্য  প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম সমাপ্তি হল চলতি মাসে। প্রকল্প টি শুরু হয় ২০১৯ সালে,এর ভেতর কয়েকজন পিডি পরিবর্তন হলেও লীগের দোসর উপ পরিচালক, মুজিবুর পিডির পদটি বাগীয়ে নেন। পিডির দায়িত্ব থেকে করেছেন পুকুর চুরি। বালিশ কান্ড কেও হার মানিয়ে দুনীতির মাধ্যমে প্রকল্পের কর্যক্রমের অর্থিক অনিয়মের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। বিএডিসি”র” কর্মকর্তাদের পিডি মুজিবরের অদক্ষতা দুনীতির বিষয়ে নিরব ভুমিকা এখন প্রশ্ন বিদ্ধ সকলের মুখে মুখে। ২১ টি জেলায় নির্মিত হয়েছে সারগুদাম, রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন গুদাম ঘর নির্মাণ।  তথাকথিত আধুনিক এ ভবন নির্মাণের শুরুতে যথাযথ মাটি পরীক্ষা এবং নির্মাণকালীন পর্যাপ্ত লোড টেস্ট হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ছিল না স্বচ্ছতা। ফলে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমনটা আশঙ্কা স্থানীয়দের।

বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তাদের মতে, চোখ ধাঁধানো নান্দনিকতার আধুনিক এগুদাম ভবন,নির্মাণ সামগ্রী, বৈদ্যুতিক সরমজম সহ অন্য অন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অতি নিম্নমানের। ডিজাইনের পেছনে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের একটি কৌশল প্রকল্প পরিচালকের। এছাড়াও প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, স্থান নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে এরই মধ্যে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুরের আলম নগরের নতুন নির্মিত গুদাম ঘর নির্মাণ বিশিষ্ট ভবনের কাজ শেষে এখনও বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ চলছে এরইমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও পিডির তেমন কোন মাথা ব্যাথানেই। প্রকল্পের সাইটের এলাকাবাসী আবদুল মান্নান আজকের সংবাদ কে জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যেই ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী হবে। হালকা ভূমিকম্পে ঢাকা ও আশপাশে ‘বড় কাঁপুনি’ হলে ঝুঁকির মধ্যে নব নির্মিত গুদাম ঘরটি। প্রকল্পের তথ্য বলছে, প্রকল্পের আওতায় সার গুদাম ঘর ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। যদিও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে অনেক পরে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫০.৮৮ কোটি  টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নান্দনিকতার এ ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই ছিল না কোনো জবাবদিহিতা। এই গুদাম ঘর ভবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফাউন্ডেশন কাঠামো নিরাপদ এবং টেকসই কিনা যাচাইয়ের জন্য ‘পাইল লোড টেস্ট’। আধুনিক কিংবা বহুতল ভবন নির্মাণে এ লোড টেস্ট করা বাধ্যতামূলক হলেও তা করেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান,কিংবা তদারকি দায়িত্বে থাকা পিডির থাকলেও তাদের অবহেলার   ফলে প্রকল্পের আওতায় সার গুদাম ঘর নির্মাণের বড় ধরনে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

দিনাজপুর বিরামপুরের  বাসিন্দা আবুল কাশেম আজকের সংবাদ কে  বলেন, অত্র এলাকার ৭২০০ মেট্রটন ধারনক্ষমতা সার গুদাম ভবনটি বাইরের দিকটা কত সুন্দর দেখতে। কিন্তু শুরু থেকেই নির্মাণ কাজে অনিয়ম করা হয়েছে। এমনিতেই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে সেই স্থানে।  পাইলিং এর পর সেখানে বালু ভরাট না করে, করা হয়েছিল মাটি ভরাট। আর লোড টেস্ট করতে দেখিনি আমরা। এ ভবনটি কি টেকসই হবে তো, এমন প্রশ্ন তাদের।

নাম প্রকাশ না করার সর্তে বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা আজকের সংবাদ কে  বলেন,  পাইলিং এর কাজ করার সময় বৃষ্টি ছিল। ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত পাথরের কংকরগুলো মাটি সাথে মিশে একাকার। এভাবেই চলছিল ঢালাই। আর এ প্রকল্পের যে সাইট ইঞ্জিনিয়ার ছিল, সে তো নামে মাত্র দায়িত্ব পালন করেছে। তাদের তেমন  কোন ভূমিকা দেখিনি,ঠিকাদারের উপর নির্ভর করেছে সবকিছু। শুধু মাত্র পিডির আর্থিক অনিয়মের কারণে।

ঠিকাদার কতৃক সিডিউল অনুযায়ী ভালো মানের রড ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শুরু থেকে নানা অনিয়মের কথা শুনেছি। তিনি আরও বলেন, গুদাম ঘর নির্মাণ প্রকল্পের এত বিশাল টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ কোন দরকার ছিল না। দৃষ্টিনন্দন নকশা বা বিলাসবহুল উপকরণের কথা বলে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এটি প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের পকেট উন্নয়নের জন্যই সরকারি টাকা অপচয় করছে। এদিকে,অনেক কর্মকর্তা  আজকের সংবাদকে বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণে ক্ষেত্রে পাইলিং এর কাজ শেষে স্থাপনার নকশা এবং কাঠামোর ধরণ অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী লোড টেস্ট করতে হয়। টেস্টের ফলাফল ঠিক থাকলে ভবন সম্প্রসারণে কাজ শুরু হয়। বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছাড়া ভবনের ভিত্তি কতটা নিরাপদ, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। অন্যথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পরতে পারে নব নির্মিত গুদাম ঘর নির্মাণ।  অন্য দিকে গুদামঘর সংস্কারকাজ, মেরামতের ব্যপক আর্থিক দুনীতির আশ্রয় নেয় হয়েছে। কাগজে কলমে সংস্কার মেরামত করা হয়েছে। বাস্তব কিছুই হয়নি ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করছেন পিডি মুজিবর। যা সরেজমিনে তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তারা।

অভিযোগ আছে, চোখ ধাঁধানো নান্দনিকতার আধুনিক এ ভবন ডিজাইনের পেছনে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের কৌশল প্রকল্প পরিচালক মুজিবর’র নিজের পকেটের উন্নয়নের জন্যই দৃষ্টিনন্দন নকশা বা বিলাসবহুল উপকরণের কথা বলে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করেন নাই। যে কারণে অনেক অনিয়ম চাপা পড়ে যায়। ফলে জনগণের কোটি কোটি টাকার প্রকল্পেও কাঠামোগত নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে যদি নীতিমালা অনুসরণ না করা হয়, তাহলে তা শুধু অর্থের অপচয় নয়, মানুষের জীবনের জন্যও নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিএডিসি “র” কর্মকর্তারা।

মূলত ঠিকাদার আর প্রকল্প পরিচালক মিলেমিশে ভাগ-বাটোয়ারা করার জন্যই প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে। বাহ্যিক দৃষ্টিনন্দন আধুনিক গুদাম ঘর নির্মাণ  ভবন নির্মাণে অত্যধিক ব্যয়, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারসহ অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বিএডিসির সাধারণ কর্মকর্তারা। উল্লেখীত অভিযোগ এর বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মুজিবুরের মোবাইলে ফোন দিয়ে সদ্য সমাপ্ত প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আজকের সংবাদ কে জানান, প্রকল্পের আওতায় সকল কার্যক্রম সমাপ্তি ১০০% না হলেও, প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সুত্রে যানা যায় উক্ত প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির কোন আবেদনের বিষয়ে অবগত নন তারা। প্রকল্পের আওতায় আর্থিক দুনীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তর না দিয়ে পরে কথা বলবেন বলে,লাইন টি কেটে দেন।