দুই দিনে ইরানে ১৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬ ১৮:৪৩:১৪

দুই দিনে ইরানে ১৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার রাতে প্রথম দফায় প্রায় ৮০টি এবং বুধবার রাতে দ্বিতীয় দফায় ৯০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর জানান, ৮ ও ৯ জুলাই পাঁচটি প্রদেশে চালানো মার্কিন হামলায় ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ইরানশাহর জেলার গভর্নর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের একটি ভবনে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি দুটি রেলসেতু এবং বন্দরনগরী চাবাহারের একটি মেরিটাইম ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারেও হামলা হয়েছে, যা বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, "আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পেতে হবে।"

এদিকে চলমান উত্তেজনা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তাদের ধারণা, সামরিক চাপ ও পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে উভয় পক্ষ ভবিষ্যৎ আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

জেএএ