রাজধানীর ১৯ ইন্টারসেকশনে চালু এআই ক্যামেরা, দেড় হাজার মামলা রেকর্ড- ডিএমপি কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬ ১৫:৪৯:৫৫

রাজধানীর ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে বর্তমানে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের ডিসি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘তেজগাঁও বিভাগের লেক রোডে এআই ক্যামেরার উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগে ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা ছিল। নতুন করে আরো চারটি যুক্ত হওয়ায় মোট ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এ প্রযুক্তি চালু হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জংশনেও এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি মামলার জরিমানার পরিমাণ আলাদা হওয়ায় মোট আদায়ের হালনাগাদ তথ্য ট্রাফিক বিভাগের কাছে রয়েছে।

এআই ট্রাফিক প্রসিকিউশন প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় শুধু মোবাইলে বার্তা নয়, ডাকযোগেও নিবন্ধিত গাড়ির মালিকের ঠিকানায় প্রসিকিউশনের নোটিশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের নির্ধারিত নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হয় এবং বিষয়টি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।

গাড়ি বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন না করায় নোটিশ পুরোনো মালিকের কাছে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার সমন ইস্যু করা হয়েছে।

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীর সড়ক থেকে সব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এবং চালকদের মধ্যে নির্ধারিত লেনে চলা ও ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ডাইভারসন ব্যবস্থা এবং আধুনিক সিগন্যাল লাইট চালুর সমন্বয় ঢাকাকে আধুনিক ও স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে প্রযুক্তিনির্ভর ও আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

লেক রোডে চালু হওয়া এআই ক্যামেরা সম্পর্কে তিনি বলেন, গতিসীমা লঙ্ঘন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে লেন পরিবর্তন, চালক ও আরোহীর হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা, অবৈধ পার্কিং এবং যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা শনাক্ত করবে। এরপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা রুজু হবে, যা চালক ও গাড়ির মালিক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে পারবেন।