জনতা ব্যাংকে এননটেক্সের কোটি টাকা খেলাপী ঋণ: দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বহাল তবিয়তেই!

জনতা ব্যাংক থেকে এননটেক্স গ্রুপভুক্ত ২২টি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেয়ার দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যাংকটির ৩৫ কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করেছে ব্যাংক। এদের ৩১ জন এরই মধ্যে অবসরে গিয়েছেন। অন্যদিকে দুইজন চাকরিতে বহাল রয়েছেন আর দুইজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে মারা গিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, যারা অবসরে গিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকটির ঊর্ধতন কর্মকর্তারা প্রচলিত আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করা হলেও তারা রয়ে যাচ্ছেন ধরা ছোয়ার বাইরেই। অবসরে আছেন এমন দোহাই দিয়ে ব্যাংকটির একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের বাঁচাতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। পাশপাশি যারা এখনো ব্যাংকে কর্মরত আছেন তাদের বিরুদ্ধেও উল্লেখ করার মতো কোন ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা ব্যাংকের নেই বলেও জানায় একাধিক সূত্র। উল্টো এদের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তথ্য জানাতেও গড়িমসি করছে ব্যাংক। কি নিয়ে যেন লুকোচুরি খেলায় মেতেছেন দায়িত্বশীল অনেকেই! প্রশ্ন উঠেছে, কারা দুর্নীতিবাজদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, ব্যাংক জুড়েই গুঞ্জন রয়েছে কত টাকায় হয়েছে সমঝোতা।
দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পরও ব্যাংকে বহাল তবিয়তে থাকা দুই কর্মকর্তা হলেন, প্রধান কার্যালয়ের রিটেইল কাস্টমার ডিপার্টমেন্ট-২ বিভাগের এফএজিএম আব্দুস সোবহান, প্রধান কার্যালয়ের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ক্রেডিট ডিপার্টমেন্ট বিভাগের এসইও শামীম হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা ঋণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও সুপারিশসহ পর্ষদের কাছে উপস্থাপনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো বহাল তবিয়তে থাকা এই দুই কর্মকর্তা রয়েছেন টেনশন ফ্রি। প্রভাবশালীদের সাথে রহস্যময় সম্পর্ক থাকায় তারা মনে করছেন কোনো অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কেউই কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। উল্টো তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে যারা সক্রিয় রয়েছেন তাদেরকেই ব্যাংকে কোনঠাসা করতে নিত্য নতুন কায়দা করছেন তারা। তাদের প্রভাবে এখনো অনেকেই এখনো মুখ খুলতেও ভয় পান, যা ব্যাংকের ওপেন সিক্রেট।
দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অবসরে যাওয়া ৩১ কর্মকর্তা হলেন, জনতা ব্যাংক লিমিটেডের সিইও এন্ড এমডি মো.আবদুস সালাম, ব্যাংকটির সিইও এন্ড এমডির চলতি দায়িত্বে থাকা মো.গোলাম সারোয়ার, ডিএমডি মো.জিল্লুর রহমান, ডিএমডি ওমর ফারুক জনতা ভবন কর্পোরেট শাখার জিএম মো.আব্দুছ ছালাম, ডিজিএম মো.আজমুল হক, এফএজিএম অজয় কুমার ঘোষ, প্রধান কার্যালয়ের এসইও ইঞ্জিনিয়ার মো.শাহজাহান, এফএজিএম লিটন রায় চৌধুরী, এসএমই বিভাগের এজিএম মো.আজাদুর রহমান, ডিজিএম মো.ফকরুল আলম, কর্পোরেট কাস্টমার বিভাগের জিএম মো.দাউদ আহমেদ শিকদার, এসএমই বিভাগের এজিএম আহমেদ শাহনুর, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল লোন বিভাগের ম্যানেজার মো.গোলাম আজম, এজিএম খালেদ মোহাম্মদ ইকবাল, ব্যাংকটির কর্পোরেট শাখার এসইও এমদাদুল হক, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ক্রেডিট বিভাগের ডিজিএম মো.মাহফুজুর রহমান, ঢাকার লোকাল অফিসের এজিএম সগির আহমেদ, ডিজিএম মো.মশিউর রহমান, প্রধান কার্যালয়ের রিটেইল কাষ্টমার বিভাগের এজিএম এজিএম মো.রফিক উল্লাহ, একই বিভাগের ডিজিএম আব্দুল জব্বার।
এছাড়াও দুর্নীতিবাজদের তালিকায় রয়েছেন, প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট ডিভিশনের জিএম মো.গোলাম ফারুক, রিটেইল কাস্টমার বিভাগের ডিজিএম মো.কামরুজ্জামান খান, লোকাল অফিসের এসইও ইঞ্জিনিয়ার মো.শাহজাহান, প্রধান কার্যালয়ের এসএমই বিভাগের এজিএম মো.সফিকুর রহমান মজুমদার, ক্রেডিট ডিভিশনের জিএম মো.নাজিম উদ্দিন, এসএমই বিভাগের এফএজিএম মো.দৌলত হোসেন, এফএজিএম মো.শাহ আলম, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ক্রেডিট ডিপার্টমেন্টের এজিএম মো.আবদুর রশিদ,এসএমই বিভাগের ডিজিএম মো.আফজাল হোসেন, ক্রেডিট ডিভিশনের জিএম মো.নজরুল ইসলাম।
ব্যাংকটির ডিএমডি পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে উল্টো বিতর্কিত হতে হয়। তাদের সিন্ডিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী। কেউ তাদের বিষয়ে কথা বলার মতো সাহস করে না। ব্যাংকের যে সমস্ত শাখা থেকে তারা ঋণ নিয়েছে সেখানকার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও ঋণের টাকা তুলতে ভয় পান। তারা মনে করেন এই নিয়ে কাজ করলে তারা বিপদে পড়বেন। আর এভাবেই দিনের পর দিন জনতা ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দুর্নীতির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জনতা ব্যাংকের পিআরডি শাখার ডিজিএম খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের তথ্য দিতে পারেননি। তবে তিনি ব্যাংকের এমআইএস শাখায় লিখিত আবেদন করে তথ্য সংগ্রহ করে নেবার পরামর্শ দেন।
