প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা প্রনয়ন কোষের চীফ ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২২ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যেন দুর্নীতি ছাড়া চলেই না। অবৈধ পন্থায় আয়, প্রকল্পের নামে লুটপাট, দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের ২০% এর অধিক কম মূল্যে ঠিকাদারকে পূর্ত কাজের কার্যাদেশ প্রদান করায় অনিয়মিত ব্যয় ২১,৮০,৯০,৬৩০/- (একুশ কোটি আশি লক্ষ নব্বই হাজার ছয়শত ত্রিশ) টাকা, সহ নানা অভিযোগ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক পিডি ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। যিনি "বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা প্রণয়ন "কোষ" চীফের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত আছেন।
তথ্যসূত্রে উঠে আসে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি খামার সড়ক, ফার্মগেট, ঢাকা এর অধীন "ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্প" এর ২০২০- ২০২১ অর্থবছরে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের ১০% এর অধিক কম মূল্যে ঠিকাদারকে পূর্ত কাজের কার্যাদেশ প্রদানপূর্বক অনিয়মিতভাবে ২১,৮০,৯০,৬৩০/- টাকা ব্যয় করেছে সাবেক পিডি ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমানর। বিস্তারিত নিরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট নথি, টেন্ডার ডকুমেন্টস ও বিল-ভাউচার যাচাইকালে পরিলক্ষতি হয়, পূর্ত কাজের জন্য প্যাকেজ নম্বর ডউ-০৯ এর বিপরীতে মেসার্স এসএসই এন্ড এসই (জেভি) কে ২২/০১/২০১৭ খ্রি. তারিখে ৩,৯৭,৬৬,৮৮৪/- টাকা চুক্তিমূল্যে কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও উক্ত কাজের প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৫,৩২,২৩,১০৬/- টাকা। এক্ষেত্রে প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে (৫.৩২,২৩,১০৬-৩,৯৭,৬৬,৮৮৪)= ১.৩৪,৫৬,২২২/- টাকা বা ২৫.২৮% কম মূল্যে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। প্যাকেজ নম্বর-ডউ-০৮ এর বিপরীতে মেসার্স পিআর প্রকৌশল কে ১৯/০১/২০১৭ খ্রি. তারিখে ৬,৩৯,৫০,৬১৬/- টাকা চুক্তিমূল্যে কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও উক্ত কাজের প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৮.২৫,০৭,২৪৩/- টাকা। এক্ষেত্রে প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে (৮,২৫,০৭,২৪৩-৬,৩৯,৫০,৬১৬) ১,৮৫,৫৬,৬২৭/- টাকা বা ২২.৪৯% কম মূল্যে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। অনুরূপভাবে প্যাকেজ নম্বর ডউ-০২ এর প্রাক্কলিত মূল্য ১৪,৩২,৬৪,৭২১/- টাকা হলেও ঠিকাদার মেসার্স বঙ্গ বিল্ডার্স এর সাথে ১১,৪৩,৭৩,১৩০/- টাকা চুক্তি সম্পাদন করা হয় এবং ১৯/০১/২০১৭ খ্রি. তারিখে প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে (১৪,৩২,৬৪,৭২১-১১,৪৩,৭৩,১৩০)= ২,৮৮,৯১,৫৯১/- টাকা বা ২০.১৬% কম মূল্যে উক্ত ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ফলে উক্ত ৩টি প্যাকেজের পূর্ত কাজের ক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের ১০% এর অধিক কম মূল্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদানের মাধ্যমে মোট (৩,৯৭,৬৬,৮৮৪+৬,৩৯,৫০,৬১৬+১১,৪৩,৭৩,১৩০)= ২১,৮০,৯০,৬৩০/- টাকা অনিয়মিতভাবে ব্যয় করা হয়েছে।
পিপিএ, ২০০৬ এর ধারা ৩১(৩) মোতাবেক কোন দরদাতা কর্তৃক দরপত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের ১০% এর অধিক কম বা বেশি দর উদ্ধৃত করা হলে উক্ত দরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে উক্ত ধারা অনুসরণ করা হয়নি। পিপিএ, ২০০৬ এর ধারা ৩১ (৩) মোতাবেক দরপত্রে প্রাক্কলিত মূল্য অপেক্ষা ১০% এর অধিক কম বা বেশি দর উদ্ধৃত করা হলে দরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠানকে যে জবাব প্রধান করেন সাবেক পিডি ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমানের: পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় দরপত্র আহবান করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চুক্তি অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রেখে কাজটি শেষ করা হয়েছে। এর উত্তরে নিরীক্ষক জানান, জবাব আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক নয়। কারণ, পিপিএ, ২০০৬ এর ধারা ৩১(৩) কার্যকর হয়েছে ০১ আগস্ট ২০১৬। কিন্তু দরপত্র আহবান করা হয়েছে ২৭/০৯/২০১৬ খ্রি. তারিখের পর। ফলে দরদাতার উদ্ধৃত মূল্য প্রাক্কলিত মূল্যের ১০% এর কম হওয়া সত্ত্বেও দরপত্র বাতিল না করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, উক্ত আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ১৭/০১/২০২২ খ্রি. তারিখে অওজ, ০৮/০২/২০২২ খ্রি. তারিখে তাগিদপত্র এবং ১৪/০৩/২০২২ খ্রি. তারিখে ডিও লেটার ইস্যু করা হলেও অদ্যাবধি নিষ্পত্তিমূলক কোন জবাব পাওয়া যায়নি। এ বিষয় ডাক্তার হাবিবুর রহমান আজকের সংবাদ কে বলেন আমার আগের পিডি যেভাবে কাজ করেছে আমি সেভাবেই করেছি এটা আমার ভুল নয়।
