ভালুকায় লক্ষ টাকার বিনিময়ে লাকরির ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহের ভালুকায় লক্ষ টাকার বিনিময়ে লাকড়ির ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তার হারুনউর রশিদের বিরোদ্ধে। জানা যায়, ১৭ ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর থেকে আসা লাকড়ি ভর্তি একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড-১১-৯০০৮) ভালুকা রেঞ্জের সিডষ্টোর চেকপোস্টে আটকিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে লাকড়িগুলো রেখে চালক ও হেলপারসহ ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ ট্রাকের এক হেল্পার বলেন, এমদাদুল নামের এক লাকড়ির ব্যবসায়ী ত্রিশালে অবস্থিত আকিজ পার্টিক্যাল বোর্ড কারখানায় ঐ লাকড়িগুলো সাপ্লাই করার জন্য পাঠাচ্ছিলো। কিস্তু সিডষ্টোর রেঞ্জ অফিস সংলগ্ম চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় স্থানীয় বন বিভাগ লাকড়িসহ ট্রাকটি জব্দ করে। পরে দরকষাকষির এক পর্যায়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা এক লক্ষ টাকা দিলে লাকড়ি রেখে ট্রাকটি ছেড়ে দিতে রাজি হন। পরে লাকড়ি ব্যবসায়ী এমদাদুল হক ৫০ হাজার ও ট্রাকের মালিক টাঈাইল জেলার সখিপুরের বাবু তার নব ট্রেডার্স নামে ডাচবাংলার একাউন্ড থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে মোট এক লাখ টাকা দিয়ে ট্রাক সহ চালক ও হেলপারকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুনউর রশিদ ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জার হিসেবে ভালুকার উথুরা রেঞ্জে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে তদবীর করে ভালুকা রেঞ্জে আসেন। তার ছেলে সংবাদ সংস্থা বাসস এ চাকরী করে বলে সকলকে জানান এবং ছেলের প্রভাব খাটিয়ে ওই রেঞ্জ কর্মকর্তা ভালুকায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন জনকে প্রায়ই মামলাসহ নানা ধরনের হুমকী দিয়ে থাকেন।
এ ব্যাপারে ভালুকা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ হারুনউর রশিদ রোববার সন্ধ্যায় লাকরিসহ ট্রাক জব্দ করে পরে ছেড়ে দিবার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। অপরদিকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, লাকড়িসহ বন বিভাগ ট্রাক আটক করলেও ট্রাক, গাড়ি চালক ও হেলপারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে লাকড়ি আটক আছে। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। টাকা নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
