চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে চলছে হরিলুট ॥ দেখার কেউ নেই

চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে চলছে হরিলুট। খোদ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধায়নে ব্যাপক অনিয়ম হলেও দেখার কেউ নেই। এই বিভাগের অধীনে থাকা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক কক্সবাজার ডুলহাজারা পার্ক, বাঁশখালী ইকোপার্ক, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ সর্বত্রেই চলছে সীমাহীন অনিয়ম।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও কক্সবাজার ডুলহাজারা পার্কের কয়েক কোটি টাকার পূর্ত কাজ ডিএফও’র নিজের ভাতিজাকে দিয়ে ঠিকাদারী করানোর ফলে একেবারেই নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে সদ্য নির্মিত বাউন্ডারি ওয়াল ও বন্যপ্রাণী বেষ্টনী সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ভেঙ্গে পড়ে। পূর্ত কাজের গুণগত মান সঠিক না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিপাতে তা ভেঙ্গে পড়ে বলে সুত্র জানায়।
এই বন বিভাগের অধীনে যত পূর্ত কাজ হয়েছে তার গুনগতমান অতি নিম্নমানের। ডিএফও’র ভাতিজা ঠিকাদার বিধায় কারোরই টু শব্দ করার কায়দা নেই। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটলেও দেখার কেউ নেই। অন্যদিকে বন্যপ্রাণীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা যথাযথ না করার একাধিক বন্যপ্রাণী মারা যাবার ঘটনা ঘটেছে। অনেকে বন্যপ্রাণী মারা যাবার পরও তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।
বাশখালী ইকোপার্ক ও চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নির্বিঘ্নে চলছে বৃক্ষ নিধন ও সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে বেচাকেনা, গাছ পাচার। সূত্রমতে এই বন বিভাগে সুফল বাগানেও চলছে লুটপাট। সঠিক ভাবে বাগান করা হচ্ছে না। বাগানের অনুকূলে বরাদ্দকৃত টাকা রেঞ্জ অফিসারগণ তুলে প্রথমে ডিএফও কে ৩০ শতাংশ, রেঞ্জ অফিসার ২০ শতাংশ, বিট অফিসার ১৫ শতাংশ নগদ গ্রহণ করার ফলে মাত্র ৩৫ শতাংশ টাকায় সুফল প্রকল্প নীতিমালা মোতাবেক গাছ লাগানো, পরিচর্যা, আগাছা পরিস্কার সহ কোন কাজই সুষ্ঠভাবে হচ্ছে না। এই বন বিভাগে কর্মরত একজন এফজি জানান, সরজমিন কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিদর্শন করলে দেখতে পাবেন যে সুফল বাগানের কাজ ২০ শতাংশ ও যথাযথ নিয়মে করা হয়নি। আবার পূর্ত কাজ ও নিম্নমানের।
বন্য প্রাণীদের বরাদ্দকৃত খাবার ও চিকিৎসা প্রদান বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগই আত্মসাতের এর ঘটনা ঘটেছে। তার মতে ডিএফও সাহেব স্থানীয় সাতকানিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা আবার চট্টগ্রামে চাকুরী করেন। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একারনেই তিনি মানেন না এবং অধ:স্থনদের গালিগালাজ করেন বিধায় কেউই মুখ খুলতে সাহস পায় না। উল্লেখ্য এই কর্মকর্তাই ইতোপূর্বে লামা বন বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন কয়েকশ একর ব্যক্তিগত পাহাড় কিনে সেখানে বাগান করা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন।
সূত্রমতে সকল অনিয়মের বিষয়টি ডিএফও সাহেবের পক্ষে দেখভাল করে থাকেন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মাজহারুল ইসলাম। তার মাধ্যেমেই মোটা অংকের টাকা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আয় করে থাকেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরেস্টার জানান। এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে কয়েক দফা মুঠোফোনে আলাপ করতে চাইলেও তিনি কেটে দেয়ায় তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।
