ময়মনসিংহ বন বিভাগের ভালুকা রেঞ্জে চলছে বনভুমি জবরদখলের প্রতিযোগীতা

ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জের আওতাধীন হবিরবাড়ী বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে লাগামহীন দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ আশরাফুল আলম হবিরবাড়ী বিটে যোগদান করার পরই স্থানীয় প্রভাবশালী, বন খেকো, মাটি খেকো ও বনভুমি জবরদখল কারিদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে ইচ্ছেমত ফায়দা লুটছেন। হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।
অবৈধ উপায়ে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। আশরাফুল আলম প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের দাবি আশরাফুল আলমকে টাকা না দিয়ে কেউ একটি ইটও গাথতে পারেনা। তাকে টাকা না দিলে রেকর্ড জায়গাতেও কাজ করতে দেয়না। রুম প্রতি ১০ হাজার টাকা করে আর বহুতল ভবনের জন্য সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা দেয়া লাগে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন এই অসাধু বিট কর্মকর্তা।
এই বিট কর্মকর্তা ময়মনসিংহ সদরের চরপাড়া মোড়ের স্থায়ী বাসিন্দা আর অনেক এমপি মন্ত্রী তার পরিচিতি বলে দাবি করে হবিরবাড়ী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে জানান স্থানীয়রা। আশরাফুল আলমের এত ক্ষমতার উৎস কি তা জানতে চায় হবিরবাড়ী এলাকার সাধারন মানুষ। স্থানীয়দের দাবি এই বিট কর্মকর্তা, ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক এই তিন জনে মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটকে টাকা না দিয়ে কেও একটা ঘর নির্মান করতে চাইলে তারা নির্মাণ শ্রমিকদের ধরে এনে মোটা অংকের টাকা রেখে ছেড়ে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে হবিরবাড়ী মৌজার ১৯ নং দাগে টিনের বেড়া দিয়ে ভিতরে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন এ টায়ার নামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। এর আগেও ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া একই দাগে হামিদ গ্রুপ শত কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর বনভূমি জবর দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ঝালপাজা রোডে ১৮৫ নং দাগে রিপন খান, ৭৭৮ দাগে মোবারক হোসেন, জালাল উদ্দিন, ১১০ দাগে চানু মিয়া, শহিদ, হারুন নির্মান করছেন বসত বাড়ী ও মার্কেট। হবিরবাড়ী মৌজার ৮২৯ দাগে ন্যাশনাল পলিমার বনভূমি দখলে নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ কাজ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অপরদিকে কাদিগড় বিটের আওতায় পাড়াগাঁও মৌজার ২৯০ ও ২২৭ নং দাগে লাউতি খালের পাড়ে এক্সিলেন্ট সিরামিক্স এন্ড টাইলস কোম্পানী প্রায় সাড়ে ৯ একর বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। অপরদিকে একই মৌজার ৪৮৩ নং দাগে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি দখলে নিয়ে সিমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে ডিবিএল নামক একটি কোম্পানী। অপরদিকে উপজেলার গৌরিপুর এলাকায় ফিনিক্স নামক একটি প্রতিষ্ঠান বনবিভাগের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বনভুমি দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কাদিগড় বিট কর্মকর্তা ফিরুজ আল আমিনের মেবাইল ফোনে কল করে এক্সিলেন্ট সিরামিক্স ও ডিবিএল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি পরে ফোন দিচ্ছি বলে ফোন কেটে দেন। হবিরবাড়ী বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন এসিএফের সাথে কথা বলেন আমি আপনাদের সাথে কথা বলতে পারবোনা।
পরে ময়মনসিংহ দক্ষিন অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদ প্রথমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে উত্তেজিত হয়ে পরেন এবং ঔদ্বত্যপূর্ন আচরন করেন। ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আঃ ওয়াদুদ বলেন সবগুলো বিষয় আমার জানা নেই। কেও যদি বনভূমি দখল করে সিমানা প্রাচীর বা স্থাপনা নির্মাণ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বন আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
