মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউট সোর্সিং’র মাধ্যমে ২০৫টি পদে অবৈধ নিয়োগাদেশ 

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৩ ০২:০১:১১

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন দপ্তরে মোট ২০৫টি পদে আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে সেবা গ্রহনের লক্ষ্যে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রের শত্বানুযায়ী সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, নাগরিকতা ইত্যাদি যাচাই করে দরপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ঠদের বায়োডাটা জমা প্রদান করবে এবং সেবা গ্রহনকারী প্রতিষ্ঠান সকল কাগজপত্রাদি ও অন্যান্য শত্বাবলী যাচাই/বাছাই করে গ্রহন যোগ্য হিসাবে বিবেচিত হলে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করবেন এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহ করবেন।

কিন্তু সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংগে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার নিজেই তার নিয়োজিত দালালদের মাধ্যমে জনবল ঠিক করে জনপ্রতি  ২-৩ লক্ষ টাকা গ্রহনের মাধ্যমে সকল নিয়মের বত্যয় ঘটিয়ে পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে ২০৫ জন ব্যক্তিকে পদায়ন আদেশ জারী করেছেন।

এসকল জনবল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরী সাভার, ঢাকা ও রাজশাহী এবং ৬৪টি জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে বুল এটেনডেন্ট পদে ১০২ জনকে,নৈশ প্রহরী পদে ৭৩ জনকে, ”ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজী”, নেত্রকোনায় ৮ ক্যাটাগরীর ১৫টি পদের বিপরীতে ১৫ জনকে এবং ”ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজী” ডুমুরিয়া খুলনায় ৮ ক্যাটাগরির ১৫টি পদের বিপরীতে ১৫ জনকে পদায়ন আদেশ দিয়েছেন।

এ সকল আদেশে সাথে চাকুরী পর্যন্ত টাংগাইল, সিরাজগঞ্জ, খুলনা’র কয়েক প্রার্থীর সাথে আলাপকালে জানা যায় রাজস্বখাতের চাকুরী বিবেচনায় টাকা দিয়ে চাকুরী নিয়েছি । কিন্তু এখন দেখছি ১ বসর পরে চাকুরী থাকবে না আমরা প্রতারনার স্বীকার হয়েছি।

আউট সোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল কোন অবস্থায় সেবা গ্রহনকারী কর্র্তপক্ষ পদায়ন আদেশ দিতে পারেন না। কারন এটা সরকারী কোন চাকুরী নহে। শুধুমাত্র অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহনের জন্য ডিজি এ অপকর্মটি করেছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্ত্বে সেবা প্রদানকারী সংস্থার এক কর্তা ব্যক্তি আক্ষেপ করে বিষয়টি জানান।

২০৫ টি পদের মধ্যে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মাত্র ২৫টি পদে লোক দিয়েছেন বাকী গুলি ডিজি নিজেই দিয়েছেন। যদিও এ কাজটি (সেবা প্রদানের জন্য জনবলের তালিকা প্রদান) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের করার কথা। ডিজি কর্তৃক প্রদত্ত অফিস আদেশটি দেখলেই মনে হবে এটি একটি সরকারী নিয়োগ। সেখানে অফিসের ইস্যু নং ও প্রদান করা হয়েছে। এধরনের আদেশ প্রদান ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস।

এছাড়াও আউট সোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহন নীতিমালা ’২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৩(১) এ সুস্পষ্ঠভাবে উল্লেখ রয়েছে ” কোন পদের বিপরীতেও এ সেবা ক্রয় করা যাবে না”। কিন্তু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি কর্তৃক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে প্রতিটি ব্যক্তির বিপরীতে পদের নাম উল্লেখ করে পদায়ন আদেশ জারী করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে সরকারী হাস-মুরগী খামার ও আঞলিক হাস প্রজনন খামারে আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে সেবা গ্রহনের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল এবং ঐ সকল জনবল নিয়োগ প্রদান করেছিল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান(পার্থ মার্ক এসোসিয়েটস লি:), অধিদপ্তরের ডিজি নহে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার কাজ হলেও অবৈধভাবে সুযোগ সুবিধা গ্রহনের জন্য সকল কার্য্যক্রম অধিদপ্তরের বাজেট শাখার পরিচালকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। কারন বাজেট শাখার পরিচালক ডা: আবু সুফিয়ান একজন দূনীতি পরায়ন কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত এবং বর্তমান ডিজির অত্যন্ত বিশ্বস্থ ও আস্থাভাজন কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদারের সাথে মোবাইল ফোনে ডিজি কর্তৃক পদায়নের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কথা না বলে লাইন কেটে দেন। ভুক্তভোগীদের মতে এহেন অনিয়মের অভিযোগটি শুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডা: এমদাদুল হক তালুকদারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।