এসিএফ আনিছুর রহমান ও রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের রামুতে ইট ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে সংরক্ষিত বনের গাছ ॥ হুমকির মুখে পরিবেশ

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং অবৈধ ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে সংরক্ষিত বনের গাছ। মাঠ পর্যায়ে নেই বনবিভাগ। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের দারিয়ার দীঘি এবং আপাররেজু বিটের সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে পাচার করছে চোরাকারবারিা।
স্থানীয় সচেতনরা জানান, সহকারী বনসংরক্ষক আনিছুর রহমান এবং রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন জড়িত রয়েছে। সুত্রে জানা যায়, রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন এবং সহকারী বনসংরক্ষক আনিছুর রহমানকে ম্যানেজ করে নুর মোহাম্মদ, জিয়াউ রহমান, আনোয়ার প্রঃ মেইল আনোয়ার সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিনেদুপুরে মেইল আনোয়ার এবং নুর মোহাম্মদ তাদের মালিকানাধীন ডাম্পার গাড়ি করে ইট ভাটায় পৌছে দিচ্ছেন হাজার হাজার মন সংরক্ষিত বনের কাঠ। এভাবে প্রকাশ্য কাটা হচ্ছে আপাররেজু বনের গাছ অথচ বনবিভাগ দেখেও দেখে না। রাজারকুল রেঞ্জের সংরক্ষিত বনের ভিতর থেকে বৃক্ষনিধন করে প্রতিদিন ট্রাক ও ডাম্পারগাড়ি যোগে নিধনকৃত কাঠ ইট ভাটায় পৌঁছে দিচ্ছে এই প্রভাবশালী চক্র।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, রামু উপজেলার দক্ষিণ খুনিয়াপালং রাবেতায় বি কে বি ইটভাটার ধোঁয়া মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করে এলাকার লোকজন বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ধোঁয়ায় এলাকার ফসল, বনজ, ঔষধি, বৃক্ষ,ধ্বংস হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরও জেলা প্রশাসকের তথ্যমতে কক্সবাজারের রামু খুনিয়াপালং ১০ টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে (কে বি সি) নামের ১টি ইটভাটায় পরিবেশ গত ছাড় পত্রও ইস্যুকৃত লাইসেন্স নবায়ন হালনাগাদ থাকলেও অবশিষ্ট ৯ টি ইটভাটার বৈধ ছাড়পত্র নেই। এই ৯টির মধ্যে ৫টি ভাটা তৈরি হয়েছে সংরক্ষিত বন ও পাহাড় ঘেষে। ৮ থেকে ১০ বছর ধরে এসব ভাটায় ইটের উৎপাদন চলছে। তথ্যমতে আরও জানা যায়, ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমারেখা থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ।
কিন্তু রামুর কাওয়ারখোপ ও খুনিয়াপালং এলাকায় বনাঞ্চল ও পাহাড়ের পাশে অসংখ্য ইট ভাটা স্থাপিত হয়েছে। অধিকাংশ ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এসব ইটের ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লা পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও কয়লার পরিবর্তে কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে। এতে দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে বনভূমির পরিমাণ। আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পাহাড়ি বনজ সম্পদ উজাড় করে ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। উক্ত ইটভাটাগুলো স্থাপনে বিধি না মানা, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে।
পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের নিয়ম না থাকলেও কক্সবাজারে ঘটেছে ঠিক উল্টো। এদিকে রামু উপজেলার দক্ষিণ খুনিয়াপালং বি কে বি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা গিয়ে দেখা যায়, ইটভাটা পরিচালনা করার জন্য যা কাগজপত্র দরকার তা তাদের কাছে নেই। শুধু তাই নয় নিয়মিত বনের গাছ কেটে পুড়িয়ে ইটভাটা পরিচালিত করা হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা মোতাবেক জিগজাগ দেখানো হলেও আসলে পোর সিস্টেম এনালগ। এলাকাটির চতুর পাশে বাড়ি-ঘর প্রাইমারি স্কুলও, মাদ্রাসা রয়েছে।
ওই ফিল্ডে গিয়ে আরও দেখা গেছে, পুরোদমে ইটের উৎপাদন চলছে। ভাটার চতুর পাশেই বসত বাড়িও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কয়েকজন শ্রমিক বলেন, দিনের বেলায় এই ভাটায় কয়লা ব্যবহার করা হলেও রাতে ইট উৎপাদন চলে বনের কাঠ পুড়িয়ে। মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় এই ইটভাটায় দিনের বেলায়ও কেউ পা ফেলার সাহস দেখান না। ইটভাটাটি দেখভাল করছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা ভারুয়াখালি বাসিন্দা শফিল আজম কোম্পানি। এই ভাটায় গত ২০২১ সালে মোবাইলকোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে (৫০ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।
চলতি বছর এখনো অজানা কারণে কোন অভিযান পরিচালনা করেননাই প্রশাসন। রাবেতা এলাকার ইটভাটাগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে না রহস্য জনক কারণে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব ইটভাটার অধিকাংশের মালিক ক্ষমতাসীন দলের নেতা-সমর্থকদের। তা ছাড়া বিরোধী দলীয়দের মালিকানাধীনগুলোও চলছে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সখ্যের সুবাদে। পরিবেশ ধ্বংস করে ইটভাটাগুলোতে কাঠ পুড়ানো আর বন উজাড় অব্যাহত থাকলেও প্রশাসন নীরব রয়েছে।
বন উজাড় করে গাছ কেটে ইট ভাটাতে পোড়ানো, পরিবেশ বিপর্যয়সহ সব কিছু তাদের নজরে থাকলেও তারা চোখ বুঝে মাসোহারা নিয়েই দায়িত্ব সারছে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। অভিযোগ রয়েছে, ইট ভাটাগুলোর বেশিভাগ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। নেই জেলা প্রশাসন কর্তৃক নবায়ন করারও কোন কাগজপত্র। পরিবেশ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি প্রদর্শন করে এসব ইটভাটায় একযোগে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব। গুঞ্জন রয়েছে ক্ষমতাসীনদের যোগসাজশে প্রশাসন আর বন বিভাগের সঙ্গে আঁতাত করে ইটভাটার মালিকরা স্থানীয় পাহাড় উজাড় করে জ্বালানির জন্য কাঠ পোড়াচ্ছেন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইটভাটা সমিতির এক নেতা জানান, বেশকিছু ইটের ভাটায় ছাড়পত্র নেই। কাঠ পুড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানোর কথা তিনি স্বীকার করেন। এদিকে রামু উপজেলার দক্ষিণ খুনিয়াপালং বি কে বি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ইটভাটা পরিচালনা করার জন্য যা কাগজপত্র দরকার তা তাদের কাছে নেই। শুধু তাই নয়, নিয়মিত বনের গাছ কেটে পুড়িয়ে ইটভাটা পরিচালিত করা হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা মোতাবেক জিগজাগ দেখানো হলেও আসলে পুরো সিস্টেম এনালগ। এলাকাটির চতুর পাশে বাড়ি-ঘর প্রাইমারি স্কুলও, মাদ্রাসা রয়েছে।
ওই ফিল্ডে গিয়ে আরও দেখা গেছে, পুরোদমে ইটের উৎপাদন চলছে। ভাটার চতুর পাশেই বসত বাড়িও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কয়েকজন শ্রমিক বলেন, দিনের বেলায় এই ভাটায় কয়লা ব্যবহার করা হলেও রাতে ইট উৎপাদন চলে বনের কাঠ পুড়িয়ে। মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় এই ইটভাটায় দিনের বেলায়ও কেউ পা ফেলার সাহস দেখান না কেউ। ইটভাটাটি দেখভাল করছেন কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালির বাসিন্দা শফিউল আজম কোম্পানি। পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই এ ভাটায় ইট উৎপাদন চলছে।
