মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবির ঘটনায় ভেসে এলো শিশুর লাশঃ মৃত্যু বেড়ে ৪, জীবিত উদ্ধার-৪৫

জাফর আলম, কক্সবাজার :
জাফর আলম, কক্সবাজার :
প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২২ ১৪:২০:৩৭  আপডেট :  অক্টোবর ৫, ২০২২ ১৪:২৩:৩৪

বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরো এক শিশুর লাশ ভেসে এসেছে। মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে ওই শিশুর লাশ ভেসে আসে। এনিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৪ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

ওসি জানান, সমুদ্র সৈকতের মনখালী এলাকায় রাতে এক শিশুর ভেসে আসার খবর দেয় স্থানীয়রা। ওই শিশুর বয়স আনুমানিক ৩ থেকে ৫ বছর। ধারণা করা হচ্ছে ডুবে যাওয়া ট্রলারে ছিল ওই শিশু।এর আগে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়ায় এলাকায় সমুদ্র সৈকতে দুপুরে ১ টার দিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায় তিন নারীর লাশ ভেসে আসে।

তারা হলেন- উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এর তৈয়বা খাতুন (১৮), কিসমত আরা (১৭) ও ক্যাম্প-১৮ এর উম্মে সালমা (১৮)।এর আগে ট্রলার ডুবির ঘটনায় হলবনিয়া সমুদ্র সৈকতে কয়েক দফায় ৪৫ জন জীবিত ভেসে আসে। এরমধ্যে ৪১ জন রোহিঙ্গা এবং ৪ জন বাংলাদেশী। বাংলাদেশী ৪ জন মানবপাচারকারী।কন্টিনজেন্ট কমান্ডার দেলোয়ার বলেন, মঙ্গলবার সকালে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া পাড়ায় সাগর থেকে সাঁতরিয়ে কিছু লোক উপকূলে আসতে দেখে স্থানীয় কোস্টগার্ডকে খবর দেয়।

পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এসব রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে। বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদ জানান, মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) ভোর ৪ টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া নৌঘাটে সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা বিকাল তিনটা পর্যন্ত তিন রোহিঙ্গা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়াও নারী ও পুরুষসহ ৪৫ জনকে বিপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশী দালালকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন , তারা দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তাদেরকে বিভিন্ন ট্রলারে করে বঙ্গোপসাগরে গভীরে অপেক্ষমান বড় ট্রলারে তোলা হয়৷ সেখানে ৮৫ জনকে তোলা হয়। এরমধ্যে অধিকাংশই উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের রোহিঙ্গা। কিন্তু ট্রলারটি যাত্রা শুরু করার আগে পানি ঢুকে ডুবে যায়।

এসময় ট্রলারে থাকা লোকজন প্রাণ বাঁচাতে সাঁতার কাটতে থাকে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, তারা মূলত দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য গিয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। কোন কোন দালালের মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেছিল তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তাঁদেরকে শীঘ্রই আইনের আওতায় আানা হবে।