গৃহ ও ভূমিহীনরা ভূমিসহ দালান পেলেও প্রধানমন্ত্রীকে এক পলক দেখার অনুভূতি

জাফর আলম, কক্সবাজার
জাফর আলম, কক্সবাজার
প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২২ ২২:৩৪:৫৫

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন- আমার দেশের প্রতি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে- জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  মুজিব বর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে বাড়ি পেয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীন হাজার হাজার পরিবার। নিজস্ব ঠিকানা ও আশ্রয় পাওয়ার জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। টেকনাফ উপজেলা বাহারছড়া ইউনিয়নের মনতলিয়ায় ৫৪ মুজিব বর্ষের গৃহহীনদের বাড়ী গুলো সকলের মন কাড়ার মতো।পশ্চিমে মেরিন ড্রাইভ পূর্বে পাহাড় দৃর্শনীয় ৫৪ টি বাড়ী কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদের দিকনির্দেশনায় টেকনাফের সাবেক ইউএনও কায়সার খসরুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ন প্রকল্পটির কাজ চলছিল,টেকনাফের (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) এসিল্যান্ড এরফানুল হক চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে বর্তমান চলমান।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর নয়া পাড়ার মৃত বাঁচা মিয়ার মেয়ে প্রতিবন্ধী শাহেনা। ভুমিহীন ও গৃহহীন প্রতিবন্ধী শাহেনা আক্তার। যার দুই পা নেই,হাত ও হাটুতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন তিনি। প্রতিবন্ধী শাহেনা আক্তার আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি খুবই খুশি। আমি জীবনে কখনো এমন বাড়ি বানাতে পারবো স্বপ্নেও ভাবিনি।দু'পা বিহীন প্রতিবন্ধী শাহেনা আরও বলেন, আমার স্বামী অন্য বিয়ে করে সেখানে চলে গেছে। আমার কোন খোঁজ খবর রাখেনা।একমাত্র ৪ বছর বয়সী ছেলে সন্তান মোঃ মিছবাহকে নিয়ে শাহেনা আক্তার দুঃখ কষ্টে জীবন যাপন করছেন।একদিন হঠাৎ আমার কুড়ে ঘরে ইউএনও এবং ভূমি অফিসার এসে আইডি কার্ড নিয়ে যায়। আমাকে ভূমিসহ স্বপ্নের দালান বাড়ীর ব্যবস্থা করে দেন বলে জানান প্রতিবন্ধী শাহেনা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ ,টেকনাফ উপজেলার সাবেক ইউএনও কায়সার খসরু, ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাসহ সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন৷ ভূমিসহ প্রধানমন্ত্রীর উপহার দালান বাড়ীর মালিক নুর নাহার,ছায়রা খাতুন,খলিলুর রহমান,দিল মোহাম্মদ, তমল ধর,স্বপন ধর,অধির ধর, কুলছুমা, গুলতাজ,মমতাজ বেগম,শহিদুল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর ও জমি দিয়েছেন। আপনি অনেক দিন বেঁচে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী আমাদের বাড়ী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে ও কথা বলতে অনুভূতি প্রকাশ করেন তারা । বাহারছড়া ইউনিয়ন শামলাপুর নয়া পাড়া গ্রামের জরিনা খাতুন জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমার জমি ও বাড়ি ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাকে জমি, বাড়ি, সবকিছু দিয়েছেন। আমি আনন্দে অভিভূত। আমি প্রার্থনা করি, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘায়ু ও সুস্থ থাকুন। এবং আমি প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে এবং মোবাইলে হলেও একটু কথা বলতে চাই বলে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।মকবুল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,আমাকে একটি ঠিকানা দিয়েছে, যেখানে আমি স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে সুখে জীবন কাটাতে পারব। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে বিদ্যুৎ। আঙিনায় কেউ লাগিয়েছেন নানা ধরনের সবজি।ঘরে সেলাই মেশিনের কাজও করছেন কেউ কেউ। বাইরে নানা ধরনের কাজের পাশাপাশি এগুলো তাদের বাড়তি আয়ের পথ খুলে দিয়েছে, যা তাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে পরিপাটি জীবনের।বেশিরভাগ সময় অন্যের মজুরের কাজ করেন স্বপন ধর। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর পেয়েছেন তিনি।আগে খাস জায়গায় পলিথিনের ঝুপড়ি ঘর ছিল তাদের। এখন পেয়েছেন পাকা ঘর। স্ত্রী, মেয়ে ছেলেকে নিয়ে তার সংসার।

ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা শিখিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন এখন তার চোখে।বাহারছড়া ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন,ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ঘরগুলো নির্মাণে উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি নিবিড়ভাবে তদারকি করে ঘরগুলো প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। টেকনাফ উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) এসিল্যান্ড  এরফানুল হক চৌধুরী জানান,এখানে ঘর পাওয়া মানুষগুলো গৃণহীন ও ভূমিহীন। তবে এদের অনেকেই আগে থেকে এখানে সরকারি খাস জমির ওপর বসবাস করতেন। তাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাকা ঘর করে দিয়েছেন। নতুন করেও অনেককে জমি ও ঘর দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই এখানে বসবাস করছেন।এতে হতদরিদ্র সুবিধাভোগীরা দারুণ খুশি বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এবিষয়ে টেকনাফের সাবেক ইউএনও কায়ছার খসরু বলে, আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার‘ এ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না। এ লক্ষ্যেই  টেকনাফে সরকারি খাস জায়গার ওপর ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। যাদের কোনও ঘর ও জমি নেই, তাদের এখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।প্রত্যেক পরিবারকে জমির মালিকানাসহ লিখে দেওয়া হচ্ছে দুই কক্ষের একটি বসতঘর।  তার সঙ্গে থাকছে রান্নাঘর, বাথরুম ও সামনে খোলা বারান্দা।এরপরেই বদলে যায় তাদের জীবন-বাস্তবতা। চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রীর উপহার গৃহ ও ভূমিহীনদের মধ্যে পৌঁছে দিতে। টেকনাফ থেকে বদলী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। উদ্বোধন করার সময় আসবেন বলেও জানান তিনি।