ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রথম জানাজা সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:৩৫:৩৩

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজার নামাজও আদায় করা হয়। তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সকাল আটটায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা নামাজে ইমামতি করেন প্রখ্যাত শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তাবরিজি। এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি তার পিতার জানাজা পড়াবেন না। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকেই তেহরান মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জানাজার নামাজ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য নামাজ আদায় করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে তার পরিবারের সদস্য সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি এবং জাহরা হাদ্দাদ আদেলর জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ধাপে তার নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জন্য জানাজার নামাজ আদায় করা হয়।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর, দেশটিতে তার জন্য নয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকপালন ও শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রা ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাবেক এই আয়াতুল্লাহর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।

শনিবার সকাল স্থানীয় সময় ভোর ছয়টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, সেখানে দর্শনার্থীরা রোববার বিকাল পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৬ বছর।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ জুলাই খামেনির মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ এবং কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই ইমাম রেজা মাজারে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হয়েছিলেন দেশটির এই শীর্ষ নেতা। দীর্ঘ চার মাস পর তার মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়া শুরু করে ইরান সরকার। এই উপলক্ষে দেশটিতে নয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং শেষ বিদায়ের জন্য বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সাবেক এই আয়াতুল্লাহর মরদেহ রাখা হয়েছিল, যেখানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন।