ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর
গণপুর্ত অধিদপ্তরের ২ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের ও বদরুল আলমের বিরুদ্ধে বেপরোয়া কমিশন বানিজ্যের অভিযোগ ॥ দেখার কেউ নেই

গনপুর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা সার্কেল- ২ এর দুনীতিবাজ, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীর, অনৈতিক সুবিধা সহ বিভিন্ন মাধ্যমে কমিশন বানিজ্যর কারণে হিম শিম খাচ্ছেন তার অধিনে অধিনস্ত কর্মকর্তারা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিষ্ঠ হয়ে পরেছেন গনপুর্ত অধিদপ্তরের সার্কেল -২এর ঠিকাদার গন সহ কর্মকর্তারা। সুত্রে যানা জায়, বিগত স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর আত্মীয় পরিচয়ে, তেজগাঁও এলেন বাড়ী গনপুর্ত সম্পদ বিভাগের সাবেক নিবাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থেকে ঘুষ, দুনীতি, কমিশন বানিজ্য চালিয়ে গেছেন দের্দাচ্ছে।
লীগের সুবিধাভোগী আবু নাসের চৌধুরীর ক্ষমতার পালাবদলে এখন আবার ভোল পাল্টে বিএনপি পন্থী সেজে নিজেকে জাহির করছেন গনপুর্ত অধিদপ্তরের কর্মরত সকল কর্মকর্তা দের মাঝে। তেজগাঁও গনপুর্ত সম্পদ বিভাগে নিবাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা কালিন সেখানে মসজিদের নির্মাণ কাজের দরপত্রের মাধ্যমে গোপন দর প্রদান করে এ এইচ, এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালিক আকরাম হোসেন এর নিকট থেকে কাজের বিল পরিশোধের বিপরীতে অগ্রীম ১০% হারে কমিশন বানিজ্য করেছিল। নির্মাণ ধীন মসজিদের অতি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার কারণে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী দপ্তরে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করে ও তার কোন পতিকার পায়নি শুধু মাত্র লীগের দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর দাপটের কারণে।
পতিত লীগ সরকারের মুন্ত্রীর ছত্র ছায়ায় থেকে ঘুষ দুনীতি সম্রাজ্য চালিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তেজগাঁও এলেন বাড়ী সম্পদ বিভাগের সাবেক নিবাহী প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু মুজিব কর্নার নির্মাণ করে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। লীগের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সহ অন্য অন্য লীগের নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু মুজিব কর্নার আনুষ্ঠানিক ভাবে উব্ধধোন করছিল। সেই কাজটিও করেছিল এ,এইচ এন্টারপ্রাইজ এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আকরাম। এলেন বাড়ী সম্পদ বিভাগের কর্মরত থেকে অর্থ বরাদ্দের বিপরীতে নাম মাত্র তার মনোনীত ঠিকাদার দিয়ে কাজ করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করে নিজেই ভুয়া বিল ভাওছার বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন আবু নাসের। একাধিক সুত্রে আরও জানা জায়, এলেন বাড়ী সম্পদ বিভাগের অধিনে বড় একটি পুকুর আছে। সেই পুকুর থেকে রাতের আধারে মাছ চুরী করতেও পিচ পা হয়নী ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর আবু নাসের চৌধুরী।
সুত্র মতে, গনপুর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দের পুর্বের অফিসিয়াল অনুমতি ছাড়া সাবেক নিবাহী প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীর যোগসাজশে এলেন বাড়ীর পুকুরের পানি সেচের কাজ নিয়ে মাছ চুরি গণপূর্তের ঠিকাদার ও তিন প্রকৌশলী মাছ ভাগ করে নিয়েছিল তত্ত্বকালিন সময়ে ,বাজারে বিক্রি করে মাছ বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করছিল বলে অভিযোগ ছিল ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে।
রাজধানীর এলেনবাড়ী গণপূর্ত অধিদপ্তরের পুকুরের মাছ চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছিল তত্ত্ব কালিন বিএনপি পন্থী একজন ঠিকাদার। ওই ঠিকাদারকে পুকুরের পানি সেচের কাজ দেওয়া হয়। তিনি পানি সেচে পুকুর থেকে প্রায় ৫ মন মাছ ধরে নিয়ে গেছেন। রাতের আঁধারে নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনা দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালেও তারা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কারণ নিবাহী প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীর নির্দেশনা ছিল বলে ঐ ঠিকাদার কর্মচারীদের জানান।
ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সহ অন্য অন্য কাজের নিম্ন মানের কাজকরার অভিযোগ উঠলেও তাকে সব বিল পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু মাত্র আবু নাসের চৌধুরীর আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণে। গনপুর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ ওই কাজের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিলেও কর্মকর্তা দের কে বৃদ্ধ আঙুল দেখিয়ে থানায় মামলা হয়নি। উপরন্তু ঠিকাদারকে বাঁচাতে লড়ছেন এলেনবাড়ী গণপূর্তের সম্পদ বিভাগের সাবেক নিবাহী প্রকৌশলী আবু নাসের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এলেনবাড়ীতে গণপূর্তের প্রশিক্ষণ একাডেমি, ল্যাবরেটরি, কোয়ার্টার, সম্পদ বিভাগের কার্যালয় রয়েছে। ওই ক্যাম্পাসে একটি বড় পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরে নানা প্রজাতির মাছ ছিল। সরকারি পুকুর হওয়ায় এবং মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় কেউ ওই মাছ ধরত না। ফলে মাছগুলো বিশালাকৃতির হয়। বিগত সময়ে ওই পুকুরের পানিতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে কর্তৃপক্ষ পানি সেচ করতে চৌধুরী কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তার দায়িত্ব পানি সেচ করবে তবে মাছগুলো যাতে মরে না যায়, সেই পরিমাণ পানি পুকুরে রাখবে। তবে তিনি শর্ত ভেঙে পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে কর্মকর্তা দের মাঝে বন্টন ও বিক্রি করে। রাতের বেলায় তারা আনুমানিক ৫ মন মাছ ধরে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীর। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন -এলেনবাড়ী গণপূর্তের সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন খান, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তৌহিদ হাসান ওহী, উপসহকারী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ইসহাক এর নেতৃত্বে।
লীগের দোসর দুনীতিবাজ বর্তমান কর্মকর্তা গনপুর্ত ঢাকা সার্কেল-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী : কয়েক কোটি টাকা খরচ করে, ঢাকা গণপূর্তর সার্কেল-২ পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন বলে প্রকাশ আছে। লীগের দোসর আবু নাসের চৌধুরী হাসিনা সরকারের আমলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে দীর্ঘদিন গণপূর্ত সম্পদ বিভাগে থেকে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং টেন্ডার বাণিজ্যে করছেন।
একইভাবে বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের এ/ সি,হিসেবে পদায়ন পাওয়ার পরে প্রকৌশলী হিসাবে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান অনুমতি দিয়ে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বগুড়ায় কর্মরত থাকা কালিন, বগুড়া গণপূর্ত বিভাগে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে আবু নাসের চৌধুরী ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান অনুমতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দের কাজ ও এপিপির কাজ দিয়ে ১০% কমিশন হাতিয়ে নিয়েছেন। উক্ত ওটিএম দরপত্র আহ্বানের আইডিগুলো হলো Id.no.1111781 Id.no.1119316 Id.no.1113079 Id.no.1111563 Id.no.1111558 Id.no.1111559 Id.no.1111560 Id.no.1111570 Id.no.1111567 Id.no.1111569 Id.no.1111561 Id.no.1111564 Id.no.1111565 Id.no.1111566 Id.no1081546 Id.no.1100790 Id.no.1102028 Id.no.1091973 Id.no.1091974 Id.no.1091975 Id.no.1091976 Id.no.1091977 Id.no.1091978 Id.no.1091979 Id.no.1082159 Id.no.1080235 Id.no.1080236 Id.no.1069131 Id.no.1070874 Id.no.1070875 Id.no.1070876 Id.no.1071265 Id.no.1043248 Id.no.1029596 Id.no.1018159
এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের ভেরিয়েশন সুবিধা ঠিকাদার নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আবু নাসের চৌধুরীর বলে নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে জানান। রাজধানী তেজগাঁও তেজকুনি পাড়া ৫ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা দিয়ে। এছাড়া ও গুলশান (২) মিরপুর, বাড্ডা সহ বিভিন্ন এলাকায় নামে, বে- নামে একাধিক প্লট ফ্ল্যাট রয়েছে না-কি তার। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তেজগাঁও বাসী।
অন্য দিকে, ঢাকা গনপুর্ত সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. বদরুল আলম : তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। নিজেকে নতুন রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন গনপুর্ত অধিদপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তা দের নিকট। তার দুনীতির আবারও কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে চলছে হরিলুট। তার গড়ে তোলা সিন্ডিকেট বাহিনী দিয়ে চলছে কমিশন বানিজ্য বেপরোয়া হয়ে। এ যেন দেখা’র কেউ নেই। গৃহায়ণ ও গনপুর্ত মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মো. নজরুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘বৃহত্তর কুমিল্লা’ পরিচয়ের সূত্র ধরে সচিবালয়ে বিশেষ প্রভাব রয়েছে নাকি তার। ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকার কিছু ঠিকাদারকে নিয়ে শক্তিশালী একটি গ্রুপ গড়ে তুলেছেন বদরুল। এই গ্রুপকে কাজ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের ওপর ফোনে ও সরাসরি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মকর্তা কর্মচারী দের বদলির নামে হয়রানি ও কোটি কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অসহায় হয়ে পরেছেন গনপুর্ত অধিদপ্তরের কর্মরত সাধারণ কর্মকর্তারা বলে একাধিক সুত্রে আরও জানা জায়।
