আশুগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শতভাগ পাসে ইউএনওর উদ্যোগ

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬ ২০:৩৪:৫৮

আগামী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শতভাগ শিক্ষার্থী পাশের লক্ষ্যে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুল ও মাদ্রাসায় গতকাল রোববার থেকে একযোগে বিশেষ মডেল টেস্ট শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিষয় ভিত্তিক পারদর্শী শিক্ষকদের মাধ্যমে বোর্ডের সিলেবাসের আদলে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় বসছে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী। এদিকে এ লক্ষ্য অর্জনে এর আগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার অভিভাবক-শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশের আয়োজনসহ নিয়মিত শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময়, শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম পরিদর্শন, প্রাক-নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা যত্ন নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী রাফে মোহাম্মদ ছড়া গত বছর আশুগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের তিনি পরপরই উপজেলায় ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশনা দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস উপজেলার প্রতিটি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে একাধিকবার সমাবেশ করে। সন্ধার পর শিক্ষার্থীরা যাতে বাহিরে অযথা ঘুরাফেরা না করতে পারে এজন্য নেয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। প্রাক-নির্বাচনি ও নির্বাচনী পরীক্ষায় তদারকিসহ ফলাফল পর্যালোচনা স্কুল পর্যায়ে এসএসসি পর্যায়ে ১৭ প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১২২ জন, ৫টি মাদ্রাসার দাখিল পর্যায়ে ৩১৯ জন এবং একিভুত ৪টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ১৫০ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফরম ফিলআপ কওে চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এদের মধ্যে দুর্বল শিক্ষর্থীদের জন্য নেয়া হয় বিশেষ তদারকি ও ক্লাস। অভিভাবকগণ শিক্ষার্থীদেও পড়াশনার প্রতি খেয়াল রাখতে অনুরুধ জানান শিক্ষক ও উপজেলা প্রশাসন।

মডেল টেষ্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারি রওশন আরা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাত আরা সামিয়া, মরিয়ম আক্তারসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ব্যবস্থার কারণে তাদেও পড়াশুনা ভাল হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় তারা ভাল ফলাফল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অভিভাবক আহম্দে মুছা জানান, পরীক্ষার আগে পরীক্ষা হওয়ায় ছেলে মেয়েদেও কিছু বাড়তি চাপে থাকায় পড়াশনা করতে হচ্ছে একটু বেশি। এতে তারা চুড়ান্ত পরীক্ষায় ভাল করবে। তিনি প্রশাসনের এধরনের উদ্যোগের প্রশংশা করেন।

চরচারতলা আলিয়া অধ্যক্ষ কাজী মহিউদ্দিন মোল্যা বলেন, ছেলে মেয়েরা এখন নানা কারণে পড়াশনায় মনোযোগী নয়। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে তারা কিছুটা হলেও মনোযোগী হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক ভাল ফলাফল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরি বলেন, বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ায় আগামী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এ উপজেলার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভাল ফলাফল করবে।

এব্যাপারে আশুগঞ্জের ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদেও পড়াশুনায় টেবিলে ফিওে আনা চেষ্ট করা হয়েছে। চুড়ান্ত পরীক্ষার আগে যেটুকু সময় হাতে রয়েছে সে সময়টুকু যদি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মনোযোগ সহকাওে পড়াশুনা চালিয়ে যায় তবেই কাংখিত শতভাগ পাশ সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার এ উদ্যোগে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেও সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।