দস্তয়ভস্কির গল্প অবলম্বনে ‘ভাসানে উজান’ আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে মুন্সীগঞ্জে

তোফাজ্জল হোসেন শিহাব, মুন্সিগঞ্জ
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব, মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২২, ২০২৬ ১৭:২৫:২৫

মুন্সীগঞ্জে আবারও মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে দস্তয়ভস্কির বিখ্যাত ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে নির্মিত আলোচিত একক নাটক ‘ভাসানে উজান’। (২৩ জানুয়ারি) শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, মুন্সীগঞ্জ মিলনায়তনে হিরণ কিরণ নাট্যদল, মুন্সীগঞ্জ-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিরণ কিরণ নাট্যোৎসব ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে নাটকটি দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হবে।

মানুষের অন্তর্গত নীরবতা, অপরাধবোধ, ভালোবাসা ও একাকিত্বের সূক্ষ্ম দ্বন্দ্বকে উপজীব্য করে নির্মিত ‘ভাসানে উজান’ মূলত এক অন্তর্মুখী যাত্রার নাট্যরূপ। একক চরিত্রের মধ্য দিয়েই উন্মোচিত হয় মানুষের অন্তর্লোকের জটিল মনস্তত্ত্ব। এখানে সংলাপের চেয়ে অনুভবের ভাষাই হয়ে ওঠে মুখ্য; নীরবতাই প্রকাশ পায় সবচেয়ে শক্তিশালী উচ্চারণ হিসেবে।

দস্তয়ভস্কির গভীর মনস্তাত্ত্বিক বয়ানকে বাংলা নাট্যমঞ্চের উপযোগী করে নাট্যরূপ দিয়েছেন অপূর্ব কুমার কুণ্ডু এবং নির্দেশনায় রয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের আলোচিত অভিনেতা মো. এরশাদ হাসান।

দেশের প্রাচীনতম নাট্যদল থিয়েটার (বেইলী রোড)-এর সঙ্গে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নাট্যচর্চায় অভ্যস্ত এরশাদ হাসানের অভিনয়ে ‘ভাসানে উজান’ পেয়েছে এক নতুন মাত্রা—এমনটাই মনে করছেন নাট্যপ্রেমীরা। সংযত অভিনয়, গভীর অভিব্যক্তি ও নিয়ন্ত্রিত শরীরী ভাষার মাধ্যমে তিনি দর্শকদের ভেতরে জন্ম দেন এক ধরনের আত্মসংলাপ, যা নাটক শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ রয়ে যায়।

নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় বলেন, “দস্তয়ভস্কির গল্পের মনস্তত্ত্ব, অপূর্ব কুমার কুণ্ডুর সংবেদনশীল নাট্যরূপ এবং এরশাদ হাসানের শক্তিশালী একক উপস্থিতি—এই তিনের সমন্বয়ে ‘ভাসানে উজান’ আমাদের জন্য ছিল এক চ্যালেঞ্জিং প্রয়াস। তবে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছি।”

নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু বলেন, “মানুষ সত্যিকার অর্থে ভালো হয়ে শেষ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে কি না—এই প্রশ্নের অনুসন্ধানই ‘ভাসানে উজান’-এর মূল কথা। এরশাদ হাসানের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার অভিনয়ে এই প্রশ্নটি আরও গভীরভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছেছে।”

নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন পলাশ হেনড্রী সেন, সংগীত পরিচালনায় হামিদুর রহমান পাপ্পু, পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি, প্রপস পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্ণো এবং কোরিওগ্রাফিতে রবিন বসাক।

নাট্যকার নির্দেশক নাট্য ঐক্য মঞ্চের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ঢালী জানান, ভাসানে ওজান নাটকটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর লেগেছে আমার কাছে৷ ঢাকায় নাটকটি দেখেছি আমি। আমি চাই মুন্সিগঞ্জের মানুষ নাটকটি উপভোগ করুক। সে চেষ্টা থেকে হিরণ কিরণ থিয়েটার এবং জাতীয় নাট্যোৎসবের অংশ হিসেবে ভাসানে ওজান নাটকটি শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সকলকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছি। 

নাট্যপ্রেমীদের প্রত্যাশা, চতুর্থ প্রদর্শনীতেও দর্শক ‘ভাসানে উজান’-এর গভীর মানবিক আবেদন অনুভব করবেন এবং একক নাটকের এই নিরীক্ষাধর্মী প্রয়াস বাংলা থিয়েটারে নতুন আলোচনার জন্ম দেবে। উল্লেখ্য, নাটকটি ইতোমধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক নাট্যোৎসবের আমন্ত্রণ পেয়েছে।