দেশে ১০-১৫টি ব্যাংকই ‘যথেষ্ট’: গভর্নর

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২১, ২০২৬ ১৭:৪৭:৩৫

বাংলাদেশের ‘বাস্তবতায় ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকাই যথেষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, ‘‘দুটি রেখে বাকি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও মার্জ (একীভূত) করা যেতে পারে। এ বিষয়ে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’’

ভারতে ‘মাত্র চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক আছে’ মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, ‘‘আমাদের কি এতগুলো ব্যাংক দরকার? আমাদের বড় ও শক্তিশালী ব্যাংক দরকার। এতে ‘ওভারহেড’ খরচ কমবে; ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ৬১টি ব্যাংক তদারকি করা অত্যন্ত চাপের।’’

তিনি বলেন, ‘‘ব্যাংকের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী সুশাসনের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা সব পর্যায়েই হয়েছে— সরকারি পর্যায়ে হয়েছে, রাজনৈতিক পর্যায়ে হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে নির্দেশিত হয়ে ঋণ দেওয়া হয়েছে; নির্দেশিত হয়ে ব্যাংক অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

“একই পরিবার থেকে অনেক ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই হয়নি— এটা একটা বড় কারণ।’’

"এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন দিতে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন করতে হবে। সেটা না হলে পরবর্তী সময়ে কী হবে, তা বলতে পারব না।”

অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘‘ব্যাংকের ভল্ট খুলে টাকা নেওয়া সম্ভব হয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ইঙ্গিত থাকায়। না থাকলে এটা সম্ভব ছিল না।

‘‘টাকাগুলো কারা বের করে নিয়েছে, তার একটি বিবরণী প্রকাশ করা দরকার। এটা হলে আমরা জানতে পারব, কীভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে একটি নতুন ধনীক শ্রেণীর জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, “ব্যাংক খাত আজ কত নাজুক অবস্থায় চলে গেছে, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। পুনরুদ্ধারের যে চেষ্টা চলছে, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শরিফ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা ও অর্থনীতি সমিতির সদস্যসচিব অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।