নির্বাচনী তফসিলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপকূলীয় বন বিভাগে বিতর্কিত বদলি বাণিজ্য

চট্টগ্রাম থেকে মো: আলমগীর
চট্টগ্রাম থেকে মো: আলমগীর
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ১৯:৩৮:০৫

উপকূলীয় বন বিভাগে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলেও, সেই বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৫ জন কর্মকর্তাকে বদলি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনার নেপথ্যে: অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ০৮/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যায় উপকূলীয় বন বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন এম এ হাসান, উপ বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম  দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তিনি প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড এবং নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বদলি প্রক্রিয়ায় হাত দেন। সাধারণত ডিএফও বদলির পর নতুন ডিএফও চার্জ গ্রহণের পর একটি বদলি কমিটি পুনর্গঠন করে বন সংরক্ষকের (সিএফ) অনুমতি নিতে ৫ হতে ৭ দিন সময়ের প্রয়োজন হয়, তিনি সেই সময়টুকুও অপেক্ষা করেননি। এমনকি অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার পর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা বদলি আদেশ করতে পারবে কিনা এ বিষয়ে বন অধিদপ্তর বিধিমালা অস্পষ্ট তবে বদলি আদেশ করতে হলে নিতে হবে সিসিএফ এর লিখিত অনুমতি।

তফসিল নিয়ে জালিয়াতি: সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে নির্বাচনী তফসিল নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর জরুরি কারণ ছাড়া কোনো বদলি করা যায় না। কিন্তু জনাব এম এ হাসান প্রধান বন সংরক্ষকের অনুমতি না নিয়েই ১৮/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখে একটি বদলি আদেশ (অফিস আদেশ নং- ৮৫) জারি করেন। তবে আইনি জটিলতা এড়াতে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আদেশে ১১/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখ (তফসিল ঘোষণার দিন) ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা: অভিযোগ রয়েছে, এই বদলি আদেশের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে। ৫ জন ফরেস্ট রেঞ্জার ও ডেপুটি রেঞ্জারের এই বদলিতে সরাসরি আর্থিক সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আদেশের কার্যকারিতা নিয়ে তদন্তে দেখা গেছে, বদলিকৃতদের মধ্যে ১ জন ফরেস্ট রেঞ্জার এবং ৩ জন ডেপুটি রেঞ্জার এখন পর্যন্ত বিভাগীয় কার্যালয়ে  যোগাযোগ করেননি। অথচ ‘যোগদান সাপেক্ষে’ তড়িঘড়ি করে আদেশটি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা বিভাগীয় প্রশাসনের ভেতরেও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এই বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বন অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনী সময়ে এ ধরনের বদলি আদেশ সম্পূর্ণ নজিরবিহীন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য নির্বাচনকালীন সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি সংক্রান্ত আইনি বিধান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’ এবং ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু পদে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা ছাড়া বদলি করা যাবে না। চাকরি নির্বাচন কমিশনে ন্যস্তকরণ নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য তাঁদের চাকরি সাময়িকভাবে নির্বাচন কমিশনে ন্যস্ত থাকে। নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত, নির্বাচনী প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনোভাবেই বদলি করা যাবে না।