রাবেয়া খাতুন এর নিয়োগ অবৈধ, এমপিও বাতিল
২০ বছর পর অভিশাপ মুক্ত কুশমাইল টেকিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়

কুশমাইল টেকিপারা উচ্চ বিদ্যালয়,ফুলবাড়িয়া ময়মনসিংহ ২০০৪ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি রাবেয়া খাতুনকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন । নিয়োগের পরে জনাব রাবেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে ওঠে নানা অভিযোগ। তার মধ্যে অন্যতম , প্রধান শিক্ষক পদের জন্য কাম্য যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা ছিলনা ,১৯৯৫ সালের বিধি অনুযায়ী তিনি বিএড সার্টিফিকেটধারী নন, ইনডেক্সাধারি শিক্ষক হিসেবে কোথাও কর্মরত ছিলেননা, তার দেওয়া সঞ্চয়ী ব্যাংক একাউন্ট হিসাবটি সঠিক নয় ।এতসব অভিযোগের ফলে ২০০৬ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি তার কাছে বৈধ কাগজপত্র চাইলে, তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে বহিষ্কার করেন।
অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০০৬ সাল থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত রাবেয়া খাতুন স্কুলে কর্মরত না থেকেও অবৈধ পন্থায় নিয়েছেন এমপিওভক্তি ।এরই আলোকে গত ১৯-৫-২৫ ইং তারিখ যার স্বারক নাম্বার কু/টে/উ/বি /১৯/২০২৫ এডহক কমিটি তার বিরুদ্ধে উপরে উল্লেখিত অভিযোগ সহ আরো নানা অভিযোগ উত্থাপন পূর্বক তার এমপিও বাতিলের জন্য আবেদন করে ।আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা অধিদপ্তর/ মাউশি অভিযোগটি আমল নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। একাধিক তদন্তের ভিত্তিতে এবং র্দীঘ শুনানি শেষে এস এম মোসলেম উদ্দিন,সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) স্বাক্ষরিত, এমপিও বন্ধ/ বাতিলের জন্য চিটি প্রেরণ করেন । যার স্বারক নং ৪জি-৫৮৭-ম/১১.২০৩১ এবং তারিখ ২৩/১১/২১০২৫ ইং।
উক্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় , ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলাধীন কুশমাইল টেকিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈধ পন্থায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও বিধি বহির্ভূতভাবে এমপিওভুক্ত প্রধান শিক্ষক জনাব রাবেয়া খাতুন এর এমপিও বাতিলকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে উপপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ময়মনসিংহ অঞ্চল, ময়মনসিংহ কে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য অধিদপ্তর হতে পত্র দেয়া হলে উপপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ময়মনসিংহ অঞ্চল, ময়মনসিংহ সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রধান শিক্ষক জনাব রাবেয়া খাতুন-কে কারণ দর্শানো হলে তিনি তাঁর জবাব প্রদান করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকার শিক্ষা কর্মকর্তা (আইন-২) এর উপস্থিতিতে বিগত ২৯/০৯/২০২৫খ্রি. দীর্ঘ শুনানী গ্রহণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন ও শুনানীঅন্তে দেখা যায় জনাব রাবেয়া খাতুন এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে ২৬/০৪/২০০৪ খ্রি যোগদান করেন।
বিধি মতে প্রধান শিক্ষক হতে হলে সহকারী প্রধান-শিক্ষক পদে ০৩ বছরসহ-১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু রাবেয়া খাতুনের তা ছিলনা। ফলে নিয়োগ ও যোগদান বিধিসম্মত না হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকা এর স্মারক নং-ম/০৭/১০৯৯৯/৩, তারিখ: ১২/১১/২০০৮খ্রি, এবং স্মারক নং-২১২/৪জি/৩৫৬৯-ম/০৭/৭৪৩৭/৩-ম, তারিখঃ ০৫/০৬/২০০৮খ্রি. কাম্য অভিজ্ঞতা না থাকায় এমপিওভুক্তির সুযোগ নেই মর্মে অধিদপ্তর হতে পত্র প্রেরণ করা হয়। তিনি অবৈধ ভাবে মার্চ-২০০৯খ্রি. ৫৫,৬১১ টাকা বকেয়াসহ প্রথম এমপিওভুক্ত হন।
শুনানীতে প্রমানিত হয় যে, জনাব রাবেয়া খাতুন, প্রধান শিক্ষক (ইনডেক্স নং- ১০৩৭৭০৩) নিয়োগ যথাযথ হয়নি। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতাবিহীন প্রধান শিক্ষক পদে এমপিওভুক্তির কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া তিনি এখন পর্যন্ত এমপিও বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে পারেননি। রাবেয়া খাতুন ২০০৬ সাল থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছেন। রাবেযা খাতুনের এমপিও সীটে উল্লেখিত সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর-১১৭৪৯ সঠিক নয়। তাই প্রধান শিক্ষক জনাব রাবেয়া খাতুন ইনডেক্স নং- ১০৩৭৭০৩ এর বেতন ভাতার সরকারি অংশ (এমপিও) স্থগিত (stop payment) এর জন্য ইএমআইএস-সেল এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশন প্রদান করা হয় ।
