বিআইডব্লিউটিসির ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদ’র উদ্বোধন ১৫ নভেম্বর

বিআইডব্লিউটিসির ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদ এর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তাঁরিখে। সুত্রে জানা যায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মোঃ সলিম উল্লাহ (অতিরিক্ত সচিব) তার একান্ত প্রচেষ্টায় শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পুনরায় বানিজ্যিক ও পর্যটন শিল্পের দার গোড়ায় পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উক্ত প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদ এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদায় জ্ঞাপন করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নৌ -পরিবহন মন্ত্রণালয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ)ড. এম সাখাওয়াত হোসেন সহ অন্তবর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তীবর্গ গন। এছাড়াও বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মোঃ সলিম উল্লাহ সহ উদ্ধোতন কর্মকর্তারা উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। বিআইডব্লিউটিসির পি আরও নজরুল ইসলাম মিশা আজকের সংবাদ কে জানান বর্তমান চেয়ারম্যান সলিম উল্লাহ গত ৬/৩/২৫ তাঁরিখে যোগদান করে বিআইডব্লিউটিসিকে উন্নয়ন ও লাভজনক করার লক্ষে সকল কর্মকর্তাদের একান্ত সহোযোগিতায় নিয়ে তাঁর নেতৃত্বে ও একান্ত প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছেন তিনি।
সুত্র মতে বিআইডব্লিউটিসির প্রতিনিধি গত বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী ও বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান সলিম উল্লাহ।
প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এ তথ্য জানান।প্যাডেল স্টিমারটি চালু হলে তা দেশে ও বিদেশের বহু পর্যটকের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করছেন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা চেয়ারম্যান সলিম উল্লাহ । বিদেশি পর্যটকদের জন্য এতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, বাংলা গানের পরিবেশনাসহ নানান আকর্ষণ থাকবে।
চেয়ারম্যান সলিম উল্লাহ জানান, সপ্তাহে সাতদিনই প্রমোদতরীগুলো চলবে। পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘযাত্রার পাশাপাশি দুই-তিন ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত যাত্রার ব্যবস্থাও থাকবে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই প্যাডেল স্টিমারগুলোতে ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে। যারা এতে যাত্রা করবে তারা যেন ইতিহাসটা জানতে পারে। কত বছর আগের স্টিমার, কী নাম, তখনকার দিনে কত আনা ভাড়া নিতো, এর পেছনের গল্পটা কী সেগুলো যেন সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়।’ এসময় নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পি এস মাহসুদ কেবল একটি নৌযান নয়, এটি বাংলাদেশের নদীজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম কাছ থেকে দেখুক, একসময় নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও সংস্কৃতির প্রাণ।’ পি এস মাহসুদের পাশাপাশি পি এস অস্ট্রিচ ও পি এস লেপচাসহ অন্য পুরোনো স্টিমারগুলোও সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং চট্টগ্রামের কাপ্তাই লেকেও প্রমোদতরী হিসেবে একটি স্টিমার চালুর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন - বিআইডব্লিউটিসির শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদকে ১৫ নভেম্বর থেকে পর্যটন সার্ভিসে নিয়োজিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক গৌরব ঐতিহ্য রয়েছে যেগুলো বিশ্বের কাছে আমাদেরকে সম্মানিত করে বাংলাদেশের প্যাডেল স্টিমার গুলো আমাদের বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে পরিগণিত যা দিয়ে আমরা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবো বলে মনে করেন চেয়ারম্যান সলিম উল্লাহ তাঁর সাথে আলাপ চারিতায় আরও জানান। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হাতেগোনা যে কয়েকটি প্যাডেল স্টিমার রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন বিআইডব্লিউটিসি’র নিকট ০৪ টি শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস অস্ট্রিচ, ‘পিএস মাহসুদ’, পিএস টার্ণ ও ‘পিএস লেপচা’ সংস্থার বহরে রয়েছে।
জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে এ স্টিমারগুলোকে পরিচিতকরণের লক্ষ্যে প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’কে দীর্ঘ সংরক্ষণ ও সম্প্রতি মেরামত করে পর্যটন সার্ভিসে নিয়োজিত করা হচ্ছে।
ডেকোরেশনের মাধ্যমে জাহাজটির পুরনো চেহারা নতুনভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি জাহাজটিতে ডেফ্রন ‘প্যাডেল স্টিমার হেরিটেজ মিউজিয়াম’ স্থাপন করা হচ্ছে। শত বছরব্যাপী ভ্রমণ করা বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিবর্গের স্মৃতি বিজড়িত ছবি, কমেন্টস, স্মারক, স্বাক্ষর, রাষ্ট্র প্রকাশিত ডাক টিকেট এবং স্টিমার পরিচালনায় ব্যবহৃত নেভিগেশনাল হেরিটেজ ইকুপমেন্টসহ তৈজষপত্রের সমাহার ঘটানো হচ্ছে বলে তিনি আজকের সংবাদ কে জানান।
