প্রধান বয়লার পরিদর্শক মান্নানের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এসব অভিযোগ তদন্তে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে। ২০১৫ সালে তাঁর সিনিয়রকে টপকিয়ে এ কার্যালয়ের প্রধান বয়লার পরিদর্শক পদে নিয়োগ পেয়ে টানা ১০ বছর একই পদে বহাল থেকে তিনি নানাভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৭ জুলাই শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে মান্নানকে অপসারণসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান যুগ্ম সচিব দিলসাদ বেগম এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী সচিব সোহেরা নাসরীন। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (অনিক) ও মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. সাইফুল ইসলাম ডিজিটাল অভিযোগ যাচাই শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ জুলাই উপপ্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বির কাছে তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব স্বীকার করেছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, “তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগ রয়েছে, মান্নান বয়লার ডিজাইন অনুমোদন, নিবন্ধন, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং অপারেটর সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট গড়ে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। “টেকনো কেয়ার” নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে ডিজাইন করানো হতো। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজাইন করা হলে অনুমোদন মিলত না।
এছাড়া বয়লার অপারেটর সনদ প্রদানে আত্মীয়স্বজনকে জড়িয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করেন তিনি। এই সিন্ডিকেটের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হচ্ছে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের আপন ভাগিনা মোহাম্মদ শরীফ হোসেন (১ম শ্রেণির বয়লার অপারেটর)। অন্যজন প্রথম শ্রেণির বয়লার অপারেটর মো. ইমন হাসান। উক্ত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সনদ প্রার্থী পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে অসাধু পন্থায় সনদ প্রদান করা হয়। এই সিন্ডিকেট পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঘুষের বিনিময়ে সনদ প্রদান করত বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ে দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিরপুর ডিওএইচএস এর ৬ নম্বর রোডের ৪১৬ নম্বর গ্রিন উড সাউথ শাইন বিল্ডিং ২২৫০ বর্গফুটের দুইটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার মূল্য ৭ কোটি টাকা। রাজবাড়ি শহরে প্রায় ১০ টাকা মূল্যের একটি ডাবল ইউনিটের বহুতল আলিসান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। রাজবাড়ি সদর হাসপাতালের কাছে ৫ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০ কাঠা জমি, ঢাকার হেমায়েতপুরে সুগন্ধা হাউজিংয়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৮ কাঠার একটি প্লট কিনেছেন। এ ছাড়া ঢাকার অভিজাত এলাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট এবং প্লট রয়েছে।
মান্নান ২০০৪ সালে প্রথম বয়লার পরিদর্শক পদে যোগ দেন। ২০১৩ সালে পদোন্নতি পেয়ে উপপ্রধান বয়লার পরিদর্শক এবং ২০১৫ সালে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে মান্নান প্রধান বয়লার পরিদর্শক পদে নিয়োগ পান। এরপর টানা ১০ বছর একই পদে বহাল থেকে তিনি নানাভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক অভিযোগে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে- কীভাবে এক দশক ধরে তিনি একই পদে বহাল রয়েছেন।
