দোর্দান্ত ক্ষমতাধর মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়া হায়দারের বিরুদ্ধে সীমাহীন ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্বেও নির্বিকার মন্ত্রণালয়

শেখ নাজমুল
শেখ নাজমুল
প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৫ ১৮:৪২:৫৩

মৎস্য অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত মহা পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী ক্ষমতা দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন এখনো মৎস্য অধিদপ্তরে। তার আর্থিক অনিয়ম দুনীতি কারণে ডুবতে বসেছে মৎস্য অধিদপ্তরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

অসাধু কর্মকর্তা জিয়া হায়দার চৌধুরী দুর্নীতির কারণে সাম্প্রতিক নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে মৎস্য অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে। গত ৪ ই আগষ্ট ২০২৪ মৎস্য ভবনের সামনে শান্তি সমাবেশ এর বৈসম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিরুদ্ধে  লীগ সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর র্পুর্বক সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের লীগের পক্ষে শান্তি সমাবেশ যোগ দিতে বাধ্য করেছিলেন সৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের দোসর জিয়া হায়দার চৌধুরী। তারপর ও এখনো বহাল তরিয়াতে আছেন মৎস্য অধিদপ্তরে।সরকারি চাকরি সীমিত আয় অথচ নামে - বেনামে গড়েছেন অঢেল সম্পদ।এত সম্পাদ পেলেন কোন পথে।

একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ পেলেও জিয়া হায়দার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গড়িমসি করছেন মৎস্য ও প্রনি সম্পদ মন্ত্রণালয়। তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম , ঘুষ , দুর্নীতির অভিযোগ চাউর হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।একের পর এক নানা বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন এ অসাধু কর্মকর্তা। মৎস্যঅধিদপ্তর   একটি আস্থাশীল প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি লাভ করলেও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন শুধু মাত্র তার আর্থিক দুনীতির কারনে। সাবেক সাসটেইনেবল কোষ্টালএন্ড মেরিন ফিসারিজ প্রকল্পের পিডি থাকা কালিন কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আত্মসাৎ করেছেন তিনি। প্রকল্পের অধিনে খাল খননের বিপরীতে কাজ না করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া আনুষ্ঠানিক খাতে ও ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। খুলনা অঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলা সহ কয়রা উপজেলা খুলনা রুপসা উপজেলা ডুমুরিয়া উপজেলা সহ বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় পারি প্রকল্পের অধিনে যে সকল খাল - পুকুর খনন করা হয়েছিল এখন পুর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে। শুধু মাত্র পিডির আর্থিক দুনীতি কারণে। সাধারণ জনগন এর উপকার না হলে ও উপকার হয়েছে পিডি ও তার সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাদের বলে খুলনার পাইকগাছা সাবেক চেয়ারম্যান ইসরাফিল মিয়া এই প্রতিবেদককে বলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মৎস্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা আজকের সংবাদ কে জানান মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর অতিরিক্ত মহা পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী ঘুষ, দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারণে বার বার আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর এর নাম।  তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কার্যক্রম এবং উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে অনিয়ম-দুর্নীতি এখন বেড়ে চলছে। সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে প্রচলিত আছে জিয়া হায়দার চৌধুরী মানে মিস্টার ১০% নামে সু পরিচিত। অতিরিক্ত মহা পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী নিকট সংস্থাটির সেবার মান নিয়ে যেন বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না  আর এসব দুর্নীতির কারনে। লীগের দাপটে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল দেদার্সে এখন আবারও অন্তবর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে ও উপর  মহলের কর্তাদের সাথে রয়েছে নাকি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যে কারণে বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন হরহামেশাই জিয়া হায়দার চৌধুরী। বিভিন্ন  আর্থিক সুবিধা নিয়ে বদলীর বিষয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক কর্মকর্তারা। ফলে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক সার্বিক জবাবদিহি কাঠামো কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন ব্যহত হচ্ছে।

অনুসন্ধান জানা যায়  মৎস্য অধিদপ্তরের চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশাল ধন সম্পদের মালিক বনে গেছেন জিয়া হায়দার চৌধুরী। মৎস্য অধিদপ্তর এ  চাকরি করে কখনও পেছনে তাকাতে হয়নি। সরকারের একজন দাপুটে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছে। তাঁর আচরণ ছিল একজন রাজনৈতিক নেতার মতন। সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের , কাউকে তোয়াক্কা না করে সবার সাথে একরোখা আচরণ করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন সৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে তিনি। জিয়া হায়দার এর  অবৈধ সম্পদের পাহাড় : মীরপুর-৬, বাজারের সাথে মসজিদের পাশে ৫ তলা বাড়ি। আশুলিয়ায় একটি বাণিজ্যিক প্লট, যেখানে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। উত্তরা দিয়াবাড়ীতে “ ৩.৫ কাঠার একটি প্লট রয়েছে , যেখানে বাগানবাড়ি নির্মাণ করে রেখেছেন। বাগানবাড়ী। উচ্চ মূল্যের ব্যক্তিগত একটি প্রাইভেটকার রয়েছে(মেরুন রঙের প্রিমিও) এছাড়াও, অতিরিক্ত মহা পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী  নামে-বেনামে আরও অনেক সম্পত্তি ও ব্যাংক এফডিয়ার অন্যান্য সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। গণমাধ্যম কর্মীদের  সাথে সন্ত্রাসীসূলভ আচরণ ; গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য প্রদানে গড়িমসির অভিযোগ চাউর হয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য একটি নির্দেশ মূলক বিধান।এর মাধ্যমে জনগণের সেবাকে তাদের প্রধান কর্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুতরাং ২১(২) অনুচ্ছেদ টি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য জনগণের সেবা করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। একজন অতিরিক্ত মহা পরিচালক  প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা। সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসছে। সংবাদ প্রকাশ করার স্বার্থে উক্ত বিষয় মতামত জানার জন্য তার মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোন মতামত পাওয়া যায়নি। আর্থিক অনিয়মের দুনীতি এসব বিষয় জানতে চাওয়া হলে ফোন কল গ্রহণ করেননি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠালেও কোন জবাব পাওয়া যায় নি।