লামা বন বিভাগে বিলুপ্তপ্রায় গাছ পাচারে চলছে মহোৎসব
ডিএফও’র নির্দেশ অমান্য করে জব্দ গাড়ি ছাড়লেন ফরেস্টার আলতাফ হোসেন

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিলুপ্তপ্রায় গাছ কাটার ঘটনায় জব্দ করা কাঠ ও যানবাহন ছেড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে লামা বন বিভাগের স্পেশাল টহল দলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি স্বার্থে এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের কারণে তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৩ জুন দিবাগত রাতে লামা বন বিভাগের ডলুছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন শিলের ঝিরি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগের একটি টহলদল। অভিযানে বিলুপ্তপ্রায় গর্জন ও চম্পাফুল প্রজাতির গাছ থেকে সংগ্রহ করা আনুমানিক ২০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই কাঠগুলো হাতি দ্বারা টেনে নদীপথে আনা হয়, পরে সড়কপথে পাচারের সময় বন টহলদল অভিযান চালায়। কিন্তু বন কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা কাঠ ফেলে রেখে গাড়িসহ পালিয়ে যায়।
অভিযানে জব্দ হওয়া কাঠের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি স্পেশাল আলতাফ হোসেন অসংগতিপূর্ণ বক্তব্য দেন। তবে স্থানীয় সূত্র এবং বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, এই কাঠগুলো এসেছে তৈন রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে। অভিযোগ রয়েছে, রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গাছগুলো এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র ১.৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ঈদের ছুটি, বৃষ্টি এবং মাতামুহুরী নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে গাছগুলো নদীপথে সরিয়ে আনা হয়। পরে ডলুছড়ি রেঞ্জের টিটিএনটিসি এলাকায় কাঠ তোলা হয়, যাতে সড়কপথে তা চকরিয়ার ফাইতং এলাকায় পৌঁছানো যায়।
তবে অভিযানে বাধ্য হয়ে কিছু কাঠ জব্দ করলেও ওসি আলতাফ হোসেন অভিযান পরিচালনায় অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন এবং পাচারকারীদের আগেভাগেই স্থান ত্যাগ করতে সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কাঠ পাচারের পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকা দুই বন কর্মকর্তা দুই লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কিন্তু কাঠের একটি অংশ জব্দ হওয়ায় পাচারকারী সিন্ডিকেট দেড় লাখ টাকা ফেরতের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। ফেরত না দিলে “থলের বিড়াল বের করে দেওয়ার” হুমকি দিয়েছে তারা। সি.এফ মোল্লা রেজাউল করিমের কাছের লোক হওয়ায় ধরা কে সরা জ্ঞান করছেন না আলতাফ। সংরক্ষিত বন ধ্বংসে এই ২ বন কর্মকর্তা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
এই ঘটনার পর এলাকায় সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, “বন রক্ষকরা যখন ভক্ষকে পরিণত হয়, তখন প্রকৃতির আর রক্ষা থাকে না।”
পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই ঘটনা প্রকৃতি ধ্বংস, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও জনগণের সম্পদ লুটপাটের নগ্ন চিত্র তুলে ধরে। প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্ত, জবাবদিহি, এবং বন কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
এব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বলেন, ফরেস্টার এ.কে.এম আলতাফ হোসেন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ঘনিষ্টজন পরিচয়ে ড্যামকেয়ার ভাব প্রদর্শন করে থাকেন। তিনি আমার বৈধ আদেশ নির্দেশ ও থোড়াই কেয়ার করেন। ফলে ডিভিশন চালানোই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
