এমন কোনো সংস্কার নেই যা এক মাসের মধ্যে সম্ভব না- সালাউদ্দিন আহমেদ 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৫ ২০:৫১:১৬

এমন কোনো সংস্কার নেই যা এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২ জুন) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের পর এসব কথা বলেন বিএনপির এ নেতা।

তিনি বলেন, শুধু সংবিধান ব্যতীত অন্যান্য যে সংস্কার গুলো আছে তা নির্বাহী আদেশে বা অডিয়েন্স এর মাধ্যমে এক মাসের ভিতরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। যেটা আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। সুতরাং নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে যাওয়ার একটি কারণও নেই।

বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সংস্কার কমিশনের বিস্তারিত মতামতের ভিভিত্তে বিস্তারিত মতামত দিয়েছি। সংস্কার বিষয়ে আমরা তিন দিন সংস্কার কমিশনের সাথে বৈঠক করেছি। সংস্কার কমিশন অন্যান্য দলের সাথেও বৈঠক করেছে। আমরা আমাদের মতামত লিখিতভাবেও দিয়েছি। আমরা আলোচনা মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কাছাকাছি আসতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমরা সেটাই গ্রহণ করব যেটাই জাতির জন্য বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ করবে। এটা জাতীয় নীতিতে গৃহীত হলে এ জাতির মধ্যে একটা ঐক্য তৈরি হবে। আমরা সেটাই গ্রহণ করবো যে প্রস্তাবগুলো সংবিধান ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে। রাষ্ট্রের সকল কিছু মধ্যে একটা ভারসাম্য সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে দিয়ে বৃহৎ সংখ্যক জনগোষ্ঠীর যে আকাঙ্ক্ষা তা বাস্তবায়ন করতে পারব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই মনে করি ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্ভব। এর আগেই জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচনমুখী যে সংস্কারগুলো চিহ্নিত করে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে তা আমরা বাস্তবায়ন করি।

বৈঠকে অধিকাংশ দলই ডিসেম্বরের আগে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা আশা করি প্রধান উপদেষ্টা সেটি বিবেচনা করবেন। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা নিরপেক্ষভাবে তার দায়িত্ব পালন করবেন। কারও প্রতি রাগ-বিরাগ, অভিমান প্রদর্শন করবেন না। তবে জাতি তার কাছে নিরপেক্ষতা আশা করে।

সংবিধান সংশোধনী যেসব প্রস্তাব বিভিন্ন দল দিয়েছে, আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উনারা যেভাবে আন্তরিকতা দেখেছেন তাতে আগামী এক মাসের মধ্যে একটা ঐক্যমতে আসা সম্ভব বলে মনে করি। কিছু কিছু বিষয়ে অবশ্যই দ্বিমত থাকবে, সব বিষয়ে সবাই একমত হবে এমনটা আমরা আশাও করি না। যেসব বিষয়ে আমার একমতে আসতে পারবে সেটা অবশ্যই পরবর্তী সংসদে সংশোধনী হবে। এসব বিষয়ে এখন ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সনদের স্বাক্ষরিত হলেই হবে। এটা আমাদের ইলেকশন মেনুফ্যাকচারেও আসবে। এটা অঙ্গীকার হিসেবে থাকবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে উনি (প্রধান উপদেষ্টা) যথেষ্ট আন্তরিক, তবে ইতিমধ্যে অনেক সময় ক্ষেপণ হয়েছে। আশা করি আর বেশি সময় নেবেন না। এই মাসের মধ্যে একটা কম্পাইল করা সম্ভব হবে। বিএনপির প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।