এমূহর্তে অভিযান প্রয়োজন

চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজারস্থ ৪টি স-মিলে সংরক্ষিত বন থেকে অবৈধভাবে কেটে আনা কয়েক কোটি টাকার কাঠ মজুদ 

চট্টগ্রাম থেকে নজরুল ইসলাম
চট্টগ্রাম থেকে নজরুল ইসলাম
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৩ ১৭:১৭:৪৯

চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রস্থল কর্ণফুলী নদীর কোল ঘেঁষে ফিরিঙ্গিবাজার একটি ব্যবসায়িক স্থান। এখানে বেশ কিছুদিন যাবৎ অসৎ কালোবাজারি কাঠ ব্যবসায়ীদের জমে উঠেছে অবৈধ কাঠের রমরমা ব্যবসা। প্রতিদিন কাঠের স-মিল গুলোতে চিরাই হচ্ছে বন বিভাগের চিরাই অনুমতি ছাড়া হাজার হাজার ঘনফুট অবৈধ মূল্যবান গোল কাঠ। এসব কাঠ আহরন করা হচ্ছে সরকারী সংরক্ষিত বন থেকে।

ফিরিঙ্গিবাজারে বেশ কয়েকটি স-মিল রয়েছে। তারমধ্যে ৪টি স-মিলে বর্তমানে সদ্য কেটে আনা বন বিভাগের হাতুড়ি মার্কা ছাড়া অর্থাৎ বে-মার্ক অবৈধ গোল কাঠের প্রচুর মজুদ দেখা যায়। ভোলার সহিদ সওদাগরের স-মিলে মওজুদ রয়েছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ ঘনফুট গর্জন বে-মার্কা এবং বৈধ কাগজপত্র বিহীন গোল কাঠ।

রহমানিয়া স-মিলে রয়েছে কাদা মাখানো বড় বড় চাম্বাকুল গোল কাঠ। এসব চাম্বাকুল গোল কাঠে বন বিভাগের কোন হাতুড়ির চিহ্ন নেই এবং যথাযথ তদন্তে এসব কাঠের স্বপক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যাবে না। চাম্বাকুল কাঠ বনবিভাগ কর্তৃক বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতি হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরও কিভাবে এত বড় বড় চাম্বাকুল কাঠের টুকরা উক্ত স-মিলে এসে মজুদ হলো তা সর্বজনের জিজ্ঞাসা?

কাঠ সম্পর্কে যাদের একটু জ্ঞান আছে তারা দেখলেই এক বাক্যে বলবে এগুলো সরকার সংরক্ষিত বন থেকে সংগৃহীত। রহমানিয়া স-মিলে প্রায় ১ হাজার ঘনফুট চাম্বাকুল গোলকাঠ মজুদ রয়েছে। আব্দুল হালিম খানের স-মিলটির কোন লাইসেন্স নেই। সম্পূর্ণভাবে স-মিলটি চট্টগ্রাম উত্তর বিভাগের টাউন রেঞ্জের সাথে মাসিক আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে পরিচালিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

বন বিভাগ অবৈধ টাকা গ্রহণ করে লাভবান হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার। আব্দুল হালিম খানের অবৈধ স-মিলে বর্তমানে প্রায় ৭শ (সাতশত) ঘনফুট অবৈধ চাম্বাকুল গোলকাঠ এবং ১ হাজার ঘনফুট সেগুন ও অন্নান্য জাতের গোল কাঠ মজুদ আছে। স্টার সহিদ এর স-মিলের পিছনের মাঠে সদ্য কাটা কাঁচা সেগুন ও শীল কড়ই গোল কাঠের প্রচুর মজুদ দেখা যায়। এসব গোল কাঠের বন বিভাগের কোন হাতুড়ীর চিহ্ন, নেই কোন মালিকানা হাতুড়ির চিহ্ন। কাঠের স্বপক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র নেই বলে জানা যায়। মজুদ গোল কাঠের পরিমাণ কমপক্ষে ৩ হাজার ঘনফুট।

বর্ণিত স-মিল সমূহের আশে পাশের এবং পার্শ্ববর্তী মাঠে বিভিন্ন জাতের মূল্যবান বনজ গোল ও চিরাই কাঠের মজুদ দেখা যায়। যার পরিমাণ ৭০০০ হতে ৮০০০ ঘনফুট। গোপন সংবাদে জানা যায় কাঠ সমূহ বিভিন্ন সরকার সংরক্ষিত বন থেকে অবৈধ কালোবাজারি কাঠ ব্যবসায়ীরা বন বিভাগের কতিপয় দুর্নীতি পরায়ন বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে যোগ সাজসে অর্থের বিনিময়ে বন থেকে সংগ্রহ করে শহরে নিয়ে এসে মজুদ করেছে।

এই সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ? এসব কাঠ জব্দ করে সরকারিভাবে নিলামে বিক্রি করা হলে সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব পাবে বলে সর্বজন মনে করছে। এমূহর্তে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগথেকে এই ৪টি স-মিলে অভিযান চালালে সংরক্ষিত বন থেকে অবৈধভাবে আহরিত কয়েক কোটি টাকার কাঠ জব্দ করা যাবে বলে বৈধ কাঠ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।