চাঞ্চল্যকর হামিদুল হক মেম্বার হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার

গোপালগঞ্জের চাঞ্চল্যকর হামিদুল হক মেম্বার হত্যা মামলার প্রধান আসামী রবিউল শরীফ (৫৭) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার রাত ১১টার দিকে পুরান ঢাকার পাটুয়াটলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ, কারিগরি তথ্য, রুপসা ব্রীজে টোল প্লাজার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এবং মনিরের (যশোর) পেট্রোল পাম্প এর সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, মূল আসামী রবি শরীফ গত ১১ ডিসেম্বর তার পূর্ব পরিচিত যশোরবাসী চশমার দোকানের মালিক আমির মোল্লাকে মোটর সাইকেলে করে যশোর থেকে গোপালগঞ্জ পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। তার কথা মত আমির মোল্লা তার মোটর সাইকেল (গোপালগঞ্জ ল-১১-১৪৮১) নিয়ে যশোর সদর হাসপাতালের সামনে আনুমানিক দেড়টার সময় অপেক্ষা করতে থাকে।
এ সময় রবি শরীফ কালো ব্লেজার, জিন্স প্যান্ট, কালো পিক্যাপ এবং সাদা সার্জিকাল মাস্ক পরিহিত ছিল। সেখান থেকে তারা বেলা ২টার সময় যশোরের মনিরুদ্দিন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে যায়। সেখানে তারা এক হাজার টাকা সমমূল্যের তেল নেয় এবং আসামী রবি শরীফ ঐ টাকা পরিশোধ করে। পরবর্তীতে গোপালগঞ্জে যাওয়ার পথে কালনাঘাটের একটি চায়ের দোকানে চা পান করে গোপালপুর বাজারে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেয়।
এ সময় মূল আসামী মোটর সাইকেল হতে খানিকটা দূরে গিয়ে বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলে আমিরের প্রাথমিক জবানবন্দি হতে জানা যায়।
এ সময় আমির মোল্লা মূল আসামী রবি শরীফের হাতে একটি সিলভার কালারের নকিয়া ফোন দেখতে পায়। সেই সময় গোপিনাথপুরে হামিদুল হক মেম্বার এলাকার পরিচিত ভ্যান চালক সাগর কে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করে তার মায়ের জন্য ঔষধ আনতে যায়। ফিরে এসে তিনি নাসিরের ফলের দোকানে মিজান মেম্বার ও পলাশ শেখের সাথে গল্প করার পর আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ভ্যান করে হাইস্কুল গেটের সামনে আসেন। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে গোপিনাথপুর বাজার থেকে একই মোটর সাইকেলে রবি শরীফ গোপিনাথপুর হাইস্কুলের গেটের সামনে রাস্তার পূর্ব পাশে পৌঁছালে মূল আসামী রবি শরীফ কাজের কথা বলে দ্রত মোটর সাইকেল থামিয়ে নেমে যায় এবং আমির মোল্লাকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলে।
এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে ভ্যানে চড়ে দাওয়াতের পথে রওনা দেওয়া হামিদুল হক মেম্বারকে অত্যন্ত কাছ থেকে পিস্তল দিয়ে বুকের বাম পাশে ০৪ (চার) টি গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে হামিদুল হক মেম্বার রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। ঘটনার পর ভ্যান চালক সাগর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হত্যার পর আসামী রবি শরীফ অপেক্ষারত মোটর সাইকেল চালক আমির মোল্লা কে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার আকস্মিকতায় আমিরুল এলোমেলো হয়ে পড়লেও মূল আসামী তাকে পুলিশের ভয় দেখায় এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যশোর পৌঁছে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। যশোর যাওয়ার পথে রুপসা ব্রীজের টোল প্লাজার সিসি ক্যামেরায় তাদের অবস্থানের বিষয়টি আনুমানিক রাত্ ০৮টায় ধরা পড়ে। সেখান থেকে যশোরের দড়াটোনা মোড়ে এসে রবি শরীফ নেমে পরে এবং সেখানে একটি রুটি কিনে মূল আসামী রবি শরীফ আবার মোটর সাইকেলে করে যশোরের গোপ পাড়া রোডে চলে আসে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পুনরায় চালু করে। এরপর আমিরকে শাসিয়ে নিজ বাসায় চলে যাওয়ার জন্য বলে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার হামিদুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আততায়ী পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তদন্ত কলাকৌশল ব্যবহার করে সিআইডি হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল (গোপালগঞ্জ ল-১১-১৪৮১) এর মালিক ও চালক আমির মোল্লাকে সনাক্ত করতে সমর্থ হয়। আমির মোল্লাকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডের মূল আসামী রবিউল শরীফকে গ্রেফতারের জন্য সিআইডি যশোর ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে।
এ বিষয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর ১৩।
