জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় রাখতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:২৯:৩৪  আপডেট :  জুলাই ৪, ২০২৬ ২১:১৫:১৫

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের পুনর্বাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার( ০৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ তিনি বলেন, শহীদদের সর্বোচ্চ সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আহতদের জীবনমান উন্নয়ন, পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।

বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। তবে বিচার প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অবিচারের শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

“একটু বিলম্ব হলেও প্রকৃত অপরাধীর সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচারের নামে যেন কারও প্রতি অবিচার না হয়,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে তার বারবার মনে হয়েছে, যদি তিনি তার মাকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন, তার ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত কি না। “আমার বিশ্বাস, মা বলতেন—এখন তোমার কাজ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। আমার ভাইকেও যদি জিজ্ঞাসা করতাম, তিনিও একই কথা বলতেন।”

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন। তাই ৫ আগস্টের পরিবর্তন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়; এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল।

জাতিকে বিভক্ত করে উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা আপনজন হারিয়েছেন, কেউ কেউ শরীরের অঙ্গ হারিয়েছেন। সেই ক্ষতি কখনো পূরণ হবে না। কিন্তু আমরা যদি সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তাহলে একদিন বলতে পারবেন আপনজনের আত্মত্যাগ দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি সবাইকে দেশ, মাটি ও মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের কয়েকজন প্রতিনিধির হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত আন্দোলনকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। স্বজন হারানোর বেদনা ও আহতদের স্মৃতিচারণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা জামিল সিদ্দিকী । পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মেহেদী হাসান মিরাজ, রংপুর থেকে আসা শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন, যাত্রাবাড়ী থেকে আসা শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়া, কক্সবাজার থেকে আসা শহীদ ওয়াসিমের বাবা, উত্তরা থেকে আসা আব্দুল শাহ বিন জাহিদের মা সহ বিভিন্ন জেলা আগত আহত ও শহীদ পরিবারের ব্যক্তিবর্গরা । তাদের দাবি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শেখ হাসিনার ফাঁসি চেয়ে হাজারও স্লোগান ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই। 

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।