শুরু দেশের বৃহত্তম চট্টগ্রাম ফুল উৎসব ডিসি পার্কে ফুল, সংস্কৃতি ও বিনোদনের মেলা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারী ৮, ২০২৬ ১৫:০৩:৪৮

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসব— চট্টগ্রাম ফুল উৎসব ২০২৬। এ উপলক্ষে সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর এলাকার সাগরপাড়ে অবস্থিত ডিসি পার্ককে সাজানো হয়েছে আকর্ষণীয় ও বর্ণিল রূপে। প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা দেখতে আজ ডিসি পার্ক পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এই সময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, আসলে আমার কাছে মনে হয় এই ফুল উৎসব এখন আর ডিসি পার্কের ফুল উৎসব নয়,এটি আসলে চট্টগ্রামবাসীর উৎসব,চট্টগ্রামের উৎসব। আমরা রংধনুর রঙে সাজিয়েছি এই ডিসি পার্ককে।

তিনি বলেন আমরা বিশ্বাস করি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে  রয়েছে একটি বিমানবন্দর, একটি সুমুদ্রবন্দর,রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান। এই নগরীর মানুষের ব্যস্ততা অনেক। এই ব্যস্ততার মধ্যে শীতের সময়ে এই জীবনটাকে একটু উপভোগ করার জন্য,একটু সতেজ রঙিন ছোয়া দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন প্রতিবারের ন্যায় এবারো এই আয়োজন করেছে। এবারের ফুল উৎসবে  নতুন অনেকগুলো বিষয় সংযোজন করা হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন,আপনারা জানেন প্রতিবছর এই ফুল উৎসব ঘিরে  আমাদের যে গ্রামীণ সংস্কৃতি আছে,সেই সংস্কৃতিগুলো আমরা বিকাশ ঘটিয়ে থাকি। পাশাপাশি আমাদের সংস্কৃতির সাথে বিদেশি সংস্কৃতির একটা মেলবন্ধনও তৈরি হয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে। এখানে ১৬ টি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংস্কৃতিক কর্মীরা আসবেন তাদের  সংস্কৃতি আমাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। আমাদের সংস্কৃতির সাথে,তাদের সংস্কৃতির   মেলবন্ধন ঘটাবেন। বিভিন্ন ধরনের আয়োজনের বর্ণনা করে তিনি আরো বলেন, আমরা সকল বয়সীদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন রেখেছি। যেমন পুকুরের ওই পাশটায় বাচ্চাদের জন্য কিড জুন করে দিয়েছি। আমাদের ইয়াং ছেলেদের জন্য জি প্লানিং অত্যন্ত আকর্ষণীয়। প্যাটেল বুট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের নতুন বিষয় আমরা সংযুক্ত করেছি। পাশাপাশি বেশকিছু নতুন অবকাঠামোও তৈরি করেছে। যেমন একটি ফ্লাওয়ার ট্রি তৈরি করেছি,ফ্লাওয়ার  বট  তৈরি করেছে। ফুল উৎসব ঘিরে ইতিপূর্বে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তরে বলেন আমি  আমি সেটা অবগত আছি। আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন,এটি চট্টগ্রামের প্রোগ্রাম, চট্টগ্রামকে প্রমোট করার প্রোগ্রাম। চট্টগ্রামকে উদ্ভাসিত করে প্রোগ্রাম। চট্টগ্রামের যত ধরনের সংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আছে, সমস্ত সাংস্কৃতিকে আমরা তুলে ধরব। প্রত্যেকটা উপজেলা থেকে সাংস্কৃতিক দল আসবে। তারা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা তুলে ধরবেন ফুল উঠসবে। আমি বিশ্বাস করি যারা এবার ফুল উৎসবে আসবেন,তারা তাদের প্রতিটা সময় উপভোগ করতে পারবেন। তিনি সবাইকে সারাদিনের জন্য এই ফুল উৎসবে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা গাড়ি পার্কিং থেকে শুরু করে সবকিছুই আমাদের প্যাটার্ন অনুযায়ী, সিস্টেম অনুযায়ী  সাজিয়েছি । আমাদের সম্মানিত নাগরিকগন যারা আসবেন তাদের আশা ও যাওয়ার পথে কোন ধরনের ভোগান্তির  মধ্যে পড়তে হবে না।

১৯৪ একর আয়তনের ডিসি পার্কে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এই মাসব্যাপী ফুল উৎসবে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুল প্রদর্শন করা হবে বলে জানান তিনি । ফুলের রঙ ও সৌরভে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে এই আয়োজন—এমনটাই প্রত্যাশা চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার। আগামীকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আহসান হাবীব পলাশ এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক  মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এবারের ফুল উৎসবে নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টি। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও মাসব্যাপী গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেইম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ সংযোজন হিসেবে থাকছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬–এর প্রচারণামূলক একটি স্টল। ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ফুল উৎসব চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফুল, সংস্কৃতি ও বিনোদনের সমন্বয়ে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের আশা করছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।