আরো দুই শতাধিক  নিদর্শন নিয়ে উদ্বোধনের প্রতিক্ষায় নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের নতুন গ্যালারী 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৪ ১৭:৩১:০৪

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা নবাব ফয়জুন্নেছা চেীধুরানীর স্মৃতি বিজড়িত  লাকসাম পশ্চিমগাঁও নবাব বাড়িতে জদুঘরের কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য ২৭ মে ২০২৪ ঢাকায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক আবু সালেহ মহিউদ্দিন খাঁ ও জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো: কামরুজ্জামান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে হস্তান্তর করেন। 

উক্ত সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট এম এস দোহা, সাবেক ওয়াকফ উপ প্রশাসক এআরএম খালেকুজ্জামান, কামরুজ্জামান, আবদুল কুদ্দুস,  জাতীয় জাদুঘরের উপ-পরিচালক আমান উল্লাহ নুরী, উপ-পরিচালক মনিরুল হক,সহকারী ওয়াকফ প্রশাসক গোলাম সারোয়ার, মোতাহার হোসেন, জহিরুল হক তরফদার,আবুল কাশেম, জাহাংগীর আলম,সাসাদ্দের রায়হান খান ও ব্যারিষ্টার মো: সাজেদুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য , ৬ নভেম্বর২০২৩ অনুষ্ঠানিকভাবে নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বড়ী যাদুঘর উদ্বোধনের করা হয়। 
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম এই যাদুঘর উদ্ধোধন করেন। 

উল্লেখ্য,দীর্ঘদিন বিভিন্ন জটিলতার কারনে সংস্কার, অযত্ন ও অবহেলার কারনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে নওয়াব ফয়জুন্নেসার স্মৃতিবিজড়িত পশ্চিমগাঁয়ের বাড়িটি। অধিকাংশ দরজা জানালা উধাও। ১০বছর যাবত পুর্ব দিকের প্রবেশ গেট বন্ধ করে দেয় ভুমিদস্যুরা। বেদখল হয়ে গেছে ওয়াকফ এস্টেটের অনেক জায়গা। লুটপাট হয়েছে অনেক ঐতিহাসিক ও মুল্যবান নিদর্শন। ধীরে বাড়ির  ইট বালু খুলে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিলো। যা এখন স্হানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলামের হস্তক্ষেপে  জাদুঘরে রুপান্তিত হয়েছে। 

২০১৭ সালে গেজেট ও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের প্রত্বতত্ব অধিদপ্তর লাকসাম পশ্চিমগাওঁ নওয়াব বাড়ী ও তার সংলগ্ন ৪:৫৫ একর জায়গার অধিগ্রহন করেন।

কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারনে বিগত ৬ বছর কোন উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। বরং ভূমিদস্যু ও অসাধু মহলের কারসাজিতে নওয়াববাড়ীর অনেক মূল্যবান ঐতিয্য ও স্থাপনা ধ্বংস ও বিলিপ্তর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে।

এলজিআরডি মন্ত্রী এই কাজটি সমন্বয়েরর জন্য বিশিষ্ঠ সাংবাদিক এম.এস. দোহাকে দায়িত্ব দেন। মন্ত্রী মো:তাজুল ইসলামের আহবানে সাড়া দিয়ে সাংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে.এম.খালিদ গত ২জুন ২০২৩ নবাব ফয়জুন্নেছার বাড়ী পরির্দশন করেন এবং যাদুঘর প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। 

গত ২০সেপ্টেম্বর ২০২৩ সচিবালয়ে সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের সচিব খলিল আহমেদের উপস্থিতিতে প্রত্বতত্ব অধিদপ্তর মহাপরিচালক ও জাতীয় যাদুঘরের মহাপরিচালক পশ্চিমগাঁও নবাব বাড়িতে যাদুঘর প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
, লাকসাম নবাব বাড়ীতে যাদুঘর প্রতিষ্ঠার ব্যপারে কাজের অগ্রগতি ও সমস্যা সমাধানের লক্ষে স্হানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়  মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম গত ২৭ সেপ্টে¤¦র ২০২৩ সচিবালয়ে তার দপ্তরে যাদুঘরের মহাপরিচালক প্রত্বতত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,নওয়াব ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়ল্লী সৈয়দ মাসুদুল হক, সৈয়দ কামরুল হক ও সাংবাদিক এম.এস দোহার সাথে আলোচনা করেন। 

সর্বশেষ ওয়াকফ প্রশাসনের সাথে  জাতীয় জাদুঘরের সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সকল প্রতিবন্ধকতার অবসান হলো।

প্রসঙ্গত, এলজিআরডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম  নওয়াব ফয়জুন্নেছার বাড়ীর আশেপাশে সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। লাকসাম পৌরসভার তত্ববধান  উক্ত উন্নয়ন কাজ চলমান। 
নবাববাড়ির সামনে ডাকাতিয়া নদীতে ঘাটলা, ফয়জুন্নেছা মসজিদের পুকুর সৌন্দর্যকরন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সামনীর পুল থেকে নবাব বাড়ি পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। 

ইতিমধ্যে, জাদুঘর কতৃপক্ষ নবাব ফয়জুন্নেছা স্মৃতি বিজড়িত আরো ২শতাধিক নিদর্শন সংগ্রহ করে তা ডিসপ্লের পদক্ষেপ নিয়েছে।