ক্রুদের পাসপোর্ট ও সিডিসি ছিনতাই

অবশেষে সেই আলোচিত এ জেড কিংডাও বিদেশী জাহাজ প্রতারক চক্রের কবলে

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৩ ১৯:২৭:১৫

সম্প্রতি বাংলাদেশে পণ্যবাহী বঙ্গোপসাগরে ভেসে আসা সেই আলোচিত জাহাজের মালিক দুবাইয়ের ব্যবসায়ী মিঃ অনিল ম্যারাঙ্গলী থমাস ও তাহার লিগ্যাল চার্টার প্রনয় তালুকদার এর “এ জেড কিংডাও পি০৪৬৫৬১, আইডি-এ০০০৩৫৩৩ ষ্টীল ফ্ল্যাট টপ ডেক কার্গো বার্জ” ও উক্ত কার্গো বার্জটিকে টেনে আনা “এ এম এ্যাকর্ড” নামক ইঞ্জিনবাহী টাগ বোট নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশী ইম্পোর্টার কোম্পানী রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিষ্টিকস লিঃ, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, (২য় তলা), ১০২ আগ্রাবাদ বা/এ, চট্রগ্রাম, বাংলাদেশ এর ইম্পোর্টকৃত পাথর পণ্য বহন করে আনার জন্য  দুবাই, ইউ এ ই, এর দি মিডেল ইষ্ট মেরিন এলএলসি কোম্পানীর মালিকানাধীন ও এঞ্জেল এক্সপোট, গুজরাট, ভারতীয় চার্টারাধীন “এ জেড কিংডাও পি০৪৬৫৬১, আইডি-এ০০০৩৫৩৩ ষ্টীল ফ্ল্যাট টপ ডেক কার্গো বার্জ” ও উক্ত কার্গো বার্জটিকে টেনে আনা “এ এম এ্যাকর্ড” নামক ইঞ্জিনবাহী টাগ বোট ভাড়া নেন। 

চুক্তি অনুসারে দুবাই, ইউ এ ই, এর দি মিডেল ইষ্ট মেরিন এলএলসি কোম্পানীর মালিকানাধীন জাহাজ এঞ্জেল এক্সপোট, গুজরাট, ভারতীয় চার্টার, পণ্য বোঝাই করে “এ জেড কিংডাও পি০৪৬৫৬১, আইডি-এ০০০৩৫৩৩ ষ্টীল ফ্ল্যাট টপ ডেক কার্গো বার্জ” ও উক্ত কার্গো বার্জটিকে টেনে আনা “এ এম এ্যাকর্ড” নামক ইঞ্জিনবাহী টাগ বোট এ ১৬ জন নাবিককে তাহাদের পাসপোর্ট ও সিডিসি সহ পণ্য সেবায় নিয়োগ করে পণ্য সহ কার্গো বার্জ ও টাগবোট বাংলাদেশে প্রেরণ করেন।
             
অত:পর প্রাকৃতিক দূর্যোগ তথা ঝড়ের কবলে পড়ে বঙ্গোপ সাগরে পণ্যবাহী “এ জেড কিংডাও পি০৪৬৫৬১, আইডি-এ০০০৩৫৩৩ ষ্টীল ফ্ল্যাট টপ ডেক কার্গো বার্জ” টি উক্ত কার্গো বার্জটিকে টেনে আনা “এ এম এ্যাকর্ড” নামক ইঞ্জিনবাহী টাগ বোট থেকে পৃথক হয়ে হারিয়ে যায়। “এ জেড কিংডাও নামক কার্গো বার্জ” টি বোঝাইকৃত পাথর পণ্য সহ ভাসতে ভাসতে নোয়াখালীর হাতিয়া চরে এসে পৌঁছে। এরই মধ্যে ঘূর্নিঝড় চিত্রাং আঘাত হানলে নোয়াখালীর হাতিয়ায় পাথর পণ্য বোঝাই কার্গো বার্জ টি তুফানের আঘাতে হাতিয়ার চরে ঠেকে মাঝ খান থেকে ভেঙ্গে সামান্য পৃথক দূরত্বে হয়ে যায় ও বোঝাই থাকা পাথর পণ্য হাতিয়া চরে স্তুপ হয়ে পড়ে থাকে। আবারও উক্ত চিত্রাংয়ের তোড়ে প্রবল ঢেউ কার্গো বার্জ এর ভেঙ্গে পৃথক হওয়া এক অংশ পাথর স্তুপের সাথে পাথর পণ্য সহ হাতিয়া চরেই স্থির থেকে যায় ও ভাঙ্গা কার্গো বার্জ এর অপর অংশ সেখানে পাথর পণ্য স্তুপ আকারে ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণ খালি অবস্থায় ভাসতে ভাতে ভোলার চর নিজামে গিয়ে পৌঁছে যা এখন পর্যন্ত ভোলার চর নিজামেই আছে। 

অত:পর  ১। এস এম কুতুব উদ্দিন, পিতা-এস এম ইয়াছিন, ৫৭০/এ খাজা ভিলা, ফকিরহাটরোড, ঠান্ডামিয়ালেন, মধ্যম ঘোষাইর ডাঙ্গা, বন্দর চট্রগ্রাম, ২। কাঞ্চন মাঝি, পিতা-অজ্ঞাত, হাতিয়া, নোয়াখালী, ৩। চেয়ারম্যান, রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিষ্টিকস লিঃ, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, (২য় তলা), ১০২ আগ্রাবাদ বা/এ, চট্রগ্রাম,  ৪। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স- এ এ এল শিপিং লাইন্স লিঃ, ১০৮ আগ্রাবাদ বা/এ, চট্রগ্রাম, ৫। মোঃ আকরাম উদ্দিন , প্রোপ্রাইটর,  মেসার্স- আলো এন্টারপ্রাইজ, ২০২৫, মিস্ত্রি পাড়া, দ্বীপ কটেজ, পাঠানতলী, চৌমহনী, আগ্রাবাদ, চট্রগ্রাম, গণ নোয়াখালীর হাতিয়া চর থেকে মিডিয়াম জাহাজ ও ট্রলার বোঝাই করে হাতিয়ার চর থেকে সমূহ পাথর পণ্য নিয়া যান ও তাদের ক্লায়েন্টের নিকট তা সরবরাহ করেন। 

অন্যদিকে তারা পরস্পর যোগ সাজসে নোয়াখালীর হাতিয়া চর হতে রাতের অন্ধকারে “ভেঙ্গে যাওয়া কার্গো বার্জ এর অর্ধেক” অংশটি চুরি করে নিয়া যান। এতেও তারা ক্ষান্ত না হয়ে কার্গো বার্জ থেকে ঝড়ে পৃথক হয়ে যাওয়া “এ এম এ্যাকর্ড” নামক ইঞ্জিনবাহী টাগ বোট এর দিকে অশুভ দৃষ্টি দেন। যা ইতিমধ্যে দুবাইয়ের মিঃ অনিল ম্যারাঙ্গলী থমাস ও তাহার লিগ্যাল চার্টার ভারতের প্রনয় তালুকদার বাংলাদেশের “এম কে শিপিং” কোম্পানীর মাধ্যমে বঙ্গোপ সাগরে দীর্ঘ খোঁজাখুজি করে ১৬ (ষোল) জন নাবিক সহ উদ্ধার করে চট্রগ্রামে নিয়ে আসেন ও সকল নাবিকদের পেছনে খাওয়া, চিকিৎসা ও বস্ত্র সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেন। যার সমূহ বিলও তারা পরিশোধ করেন। 

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো যে, যেখানে বিদেশী অসহায় নাবিকদেরকে ছবিতে কথিত কুতুব উদ্দিন ও রাশি গং তথা রিলায়েন্স শিপিং কোম্পানী সহায়তা করার কথা, সেখানে সেটা না করে তারা ইনচার্জ,  কোষ্ট গার্ড, হাতিয়া, নোয়াখালী; ইনচার্জ, নৌ পুলিশ, হাতিয়া, নোয়াখালী; ইনচার্জ, সিআইডি, হাতিয়া, নোয়াখালী; অফিসার ইনচার্জ, হাতিয়া থানা, নোয়াখালী; পুলিশ সুপার, সিআইডি, নোয়াখালী; পুলিশ সুপার, নোয়াখালী গণকে ভুল বুঝিয়ে তাদের প্রশাসনিক অন্যায় সহযোগিতায় তারা “এ এম এ্যাকর্ড” নামক ইঞ্জিনবাহী টাগ বোট এর ‘ক্র্যু’ তথা নাবিকদের নিকট হতে তাদের সাথে থাকা “পাসপোর্ট” ও “সিডিসি” অন্যায় ভাবে বলপ্রয়োগ করে ছিনিয়ে নেয়। 

এহন কর্মকান্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি প্রতিবেশী ভারতে ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাংঘাতিক ভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ইহা বাংলাদেশ দন্ড বিধির যাবজ্জীবন কারাদন্ডের অপরাধ সহ প্রায় ১৫টি মারাত্মক ধারার জঘণ্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আইনত: বিবেচিত।

এ পরিস্থিতিতে কার্গো বার্জটির ভাঙ্গা একাংশ যা ১। এস এম কুতুব উদ্দিন, ২। কাঞ্চন মাঝি, ৩। চেয়ারম্যান, রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিষ্টিকস লিঃ, ৪। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স- এ এ এল শিপিং লাইন্স লিঃ, ৫। মোঃ আকরাম উদ্দিন , প্রোপ্রাইটর,  মেসার্স- আলো এন্টারপ্রাইজ, গণ চুরি করেছেন, তা যথাস্থানে হাতিয় চরে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং তারা যে ইনচার্জ,  কোষ্ট গার্ড, হাতিয়া, নোয়াখালী, ইনচার্জ, নৌ পুলিশ, হাতিয়া, নোয়াখালী, ইনচার্জ, সিআইডি, হাতিয়া, নোয়াখালী, অফিসার ইনচার্জ, হাতিয়া থানা, নোয়াখালী, পুলিশ সুপার, সিআইডি, নোয়াখালী, পুলিশ সুপার, নোয়াখালী গণকে ভুল বুঝিয়ে “এ এম এ্যাকর্ড” টাগ বোট এর নাবিকদের নিকট হতে তাদের যে “পাসপোর্ট” ও “সিডিসি” তারা অন্যায় ভাবে বলপ্রয়োগ করে ছিনিয়ে নিয়েছেন তা সমূহ ফেরত দেওয়ার জন্য ৭ দিনের সময় দিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ম স ম মোশাররফ হোসাইন একটি লিগ্যাল নোটিশ  প্রেরণ করেছেন। অন্যথায় জাহাজের মালিক দুবাইয়ের মিঃ অনিল ম্যারাঙ্গলী থমাস ও তাহার লিগ্যাল চার্টার ভারতের  প্রনয় তালুকদার এর পক্ষে তাদের নিযুক্ত আমমোক্তার দেশের প্রচলিত আইনে উপযুক্ত আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। আর সেক্ষেত্রে ছবিতে মূল হোতা এস এম কুতুব উদ্দিন ও রাশিকে তারা কোন মতেই ছাড়বেননা বলে দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন।

এছাড়াও ১। এস এম কুতুব উদ্দিন, ২। কাঞ্চন মাঝি, ৩। চেয়ারম্যান, রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিষ্টিকস লিঃ, ৪। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স- এ এ এল শিপিং লাইন্স লিঃ, ৫। মোঃ আকরাম উদ্দিন , প্রোপ্রাইটর,  মেসার্স- আলো এন্টারপ্রাইজ ও ৬। রাশি গণ তাদের অপরাধ আড়াল করার জন্য শিল্প মন্ত্রনালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের চিঠি জাল করা সহ কার্গো বার্জ হজম করার প্রয়াশে ভ’য়া ক্ষমতার্পণ পত্র ও ভ’য়া চুক্তি পত্র সৃজন করে প্রশানকে অপব্যবহারের যে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তা অচিরেই মিঃ অনিল ম্যারাঙ্গলী থমাস ও তাহার লিগ্যাল চার্টার প্রনয় তালুকদার দের রাষ্ট্র দ্বয় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রনায়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও মাননীয় মন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টনকে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর রয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, বিষয়টির উপর ইতিমধ্যে রাজধানীর মতিঝিল থানায় জি.ডি. নং ১৮১২, তাং ২৫/০১/২০২৩ রুজু হয়েছে। প্রচলিত আইনে মামলার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।