নাচোল থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ লোকদের হয়রানীর অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ লোকদের হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ঝিকড়া গ্রামের হাজরা দিঘিতে মাছ মারাকে কেন্দ্র করে এ মামলা হয়। মিথ্যা মামলার আসামী হাজরাদিঘি গ্রামের মৃত সাজ্জাদ মেম্বারের ছেলে রফিকুল ইসলাম জানান, নাচোল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাবু ও নাচোল পৌর এলাকার বান্দ্রা গ্রামের মেরাজের মধ্যে পুকুরের দখলীয় স্বত্ত নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত ১০/১২/২০২২ইং তারিখে নাচোল থানায় মাছ লুটের মামলা হয়। ওই পুকুরে গত ৮/১২/২০২২ইং তারিখে বেলা আনুমানিক ১১টার সময় বেড় জাল দিয়ে মাছ ধরেন মেরাজ ও তার লোকজন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশনায় ওই পুকুরে মাছ ধরতে নিষেধ করেন স্থানীয় দু’টি মসজিদ কমিটির লোকজন। মেরাজের লোকজন প্রায় ৪০/৫০ মন মাছ ধরে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। ওইদিন জেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে নাচোল মৎস্য খামার ব্যবস্থাপক আব্দুর রহিম মেরাজের লোকদেরকে মাছ ধরতে দেখেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের টেলিফেনিক আদেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাচোল থানায় ৩৩.০২.৭০৫৬.৫০২.২২.০০২.২১.৬৭স্মরকপত্রে অবহিত করেন।
সেই সাথে বিষয়টি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাচোল ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকেও অবহিত করেন। কিন্তু নাচোল থানার ওসি মিন্টু রহমান ওই স্মারকপত্র আমলে না নিয়ে ১০/১২/২০২২ইং তারিখে অসৎ উদ্দেশ্যে বান্দ্রা গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে মেরাজকে বাদী করে ১৫জনসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে একটি মাছ লুটের মামলা দায়ের করান।
হাজরাদিঘি পাড়স্থ দু’টি মসজিদ কমিটির মুসুল্লিদের অভিযোগ, মেরাজ মাছ ধরে নিয়ে গেলেও উল্লেখিত পুকুর পাড়ের নিরীহ লোকজনকে ঘটনাস্থলে না থেকেও মাছ লুটের মামলার আসামী করা হয়েছে। ওই মামলার ৫নং আসামী নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে বা ঘটনার সাথে জড়িত না থেকেও তাঁকে এবং ৩নং ওয়ার্ড সদস্য সাদিকুল ইসলামকেও হয়রানীর উদ্দেশ্যে ওই মামলার আসামী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, বিজ্ঞ নাচোল সহকারি জজ আদালতের ১৯/১০/২০২২ ইং তারিখের আদেশবলে ১৩৭/২২ নং রিসিভার হিসেবে ওই পুকুরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু নাচোল পৌর এলাকার বান্দ্রা গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে মেরাজ কোন ক্ষমতাবলে ওই পুকুরে মাছ ধরতে গেল তা বোধগম্য নয়। কোন পক্ষই যেন মাছ ধরতে না পারে এজন্য স্থানীয়দেরকে মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাইমেনা শারমীন জানান, বিজ্ঞ আদালতের আদেশে রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে। তবে গত ৮ ডিসেম্বর কে মাছ মেরেছে তা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমান জানান, মেরাজ উপজেলা জলমহল কমিটির সভাপতির দেওয়া একসনা লীজের ডিসিআর বলে মেরাজ ও তার লোকজন ওইপুকুরে গত ৮ ডিসেম্বর/’২২ তারিখে জাল নিয়ে মাছ ধরতে যায়।
মেরাজের লোকজনকে স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠায়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ ডিসেম্বর/’২২ তারিখে মেরাজ বাদী হয়ে মাছ লুটের একটি মামলা (নং-১১, তারিখ ১০/১২/’২২)দায়ের করে নাচোল থানায়। মামলার পরেও মেরাজ ওই পুকুরে মাছ মেরেছে। ওই মামলার বাদী মেরাজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
