আসন্ন শীত মৌসুমে নির্বিঘ্নে বনজ সম্পদ চুরির লক্ষ্যে পেকুয়ায় ২০ সদস্যের সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২২ ১৭:৪৩:৩৫  আপডেট :  অক্টোবর ২৭, ২০২২ ১৮:১০:১০

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জে কর্মরত এক কর্মচারীর নেতৃত্বে স্থানীয় চোরাই কাঠ ব্যবসায়ী অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কারী ও পাহাড় খেকোদের সমন্বয় মোট ২০ সদস্যের সিন্ডিকেট তাদের অপকর্ম অব্যাহত রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আসন্ন শীত মৌসুমে বনজ সম্পদ উজাড় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে তারা নানা কৌশলে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বদলি, চাকরিচ্যুতি সহ যেকোন ভাবে সরানোর নিমিত্তে ৫ লাখ টাকা বাজেট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা গত অক্টোবর ২০২১ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২২ পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৭০০ ঘনফুট গর্জন, সেগুন সহ বিভিন্ন প্রজাতির গোলকাঠ জব্দসহ ১৭০ একর জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করে।

পাশাপাশি বালু, পাহাড়ের মাটি কাটা ও অবৈধ গাছ পরিবহনের অভিযোগে স্কেভেটর সহ ১৪ টি যানবাহন আটক করে। এ ব্যাপারে ঐ সকল অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রভাবশালীদের আসামি করে অর্ধশতাধিক বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত মৌসুমে বারবাকিয়া রেঞ্জের সাঁড়াশি অভিযানে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট, পাহাড়খেকো, ভুমিদস্যু সহ অবৈধ বালি পাচারাকারীরা একত্রিত হয়ে এ মৌসুমে যেন নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধ কার্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে সে জন্য কৌশল পরিবর্তন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায় গাছ,বালু ও পাহাড়খেকো সিন্ডিকেট নামে বেনামে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ নামা দাখিল করে রেঞ্জ কমর্কর্তা মোঃ হাবিবুল হক কে এখান থেকে বদলী করার ৫লক্ষ টাকার মিশনে  নেমেছে।বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে। এমনকি সিন্ডিকেটের কাজে বাধা দেওয়া হলে জীবন নাশের ও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়।

একাজে বারবাকিয়া রেঞ্জে কর্মরত একজন কর্মচারী এ সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে গত মৌসুমে কাঠ পাচারকারীদের সহযোগিতা করার নজির রয়েছে। তার  বিরূদ্ধে কাঠ পাচারে সরাসরি জড়িত থাকার প্রতিবেদন দাখিল হলেও অজানা কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয় নি। এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট তাদের পথের কাটা হিসাবে মনে করছে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃহাবিবুল হক কে।তাই তাকে বদলী,চাকুরিচ্যুিত সহ যে কোন ভাবে এই রেঞ্জ থেকে সরানোর মিশনে নেমেছে এই সিন্ডিকেট।

এছাড়া এই সিন্ডিকেট স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করিয়ে সরকারি সম্পদ রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপ/অভিযানগুলিকে ব্যাহত ও বাধাগ্রস্থ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। পর্যবেক্ষক মহলের মতে বনজ সম্পদ উজাড়ে সহযোগী এ বন কর্মচারীকে অবিলম্বে প্রত্যাহার সহ সিন্ডিকেটের এহেন অপতৎপরতা বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।