নিরব বনবিভাগ

কক্সবাজার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে পাচার করে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গাছ

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২২ ২১:০৭:৫৭

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে বন বিভাগের নাকের ডগায় গড়ে উঠেছে চোরাই বনজ কাঠের একাধিক অবৈধ ডিপো। সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে পাচার করে আনা মূল্যবান গাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব ডিপোতে। এর ফলে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল ও ধ্বংস হচ্ছে জীব বৈচিত্র্য।

বন বিভাগের অসাধু এক শ্রেনীর কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে কাঠ চোরগণ এ অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে তেলীপাড়া ব্রীজ সংলগ্ন স্থানে "ভাই ভাই কাঠ বিতান" সাইনবোর্ড দিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ। গর্জন, আকাশমনি, মেহগনি, চাপালিশ ও আরো হরেক রকম গাছ ও চারাগাছ প্রকাশ্যে স্তুপ করে বিক্রি করা হচ্ছে।

ক্রেতা সেজে জিজ্ঞেস করলে ডিপো মালিক নূরল আজিম জানায়, ঈদগাঁও কালিরছড়া ও ঈদগড় এলাকার বন থেকে রাতের আঁধারে এসব কাঠ "সওদাগরগণ" পৌঁছিয়ে দেন।তদ্রুপ বাজারের উত্তর পাশে বাঁশঘাটা ব্রীজ সংলগ্ন ঈদগাঁও নদীর চরে গিয়ে দেখা যায়, বনজ চোরাই গাছের বিশাল ষ্টক।

বিক্রেতারা জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে গাছের ব্যবসা করে আসছে তারা।এছাড়াও বাজারের মূল পয়েন্টে পাইপ বাজার, কেন্দ্রীয় কালি বাড়ী ও ভূমি অফিস সংলগ্ন উত্তর পাশেও গড়ে উঠেছে চোরাই বনজ কাঠের বিশাল ষ্টক।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে তারা অবৈধ গাছের ব্যবসা চালু রেখেছেন।

এসব ডিপো থেকে রাতের আঁধারে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঠ পাচার করা হচ্ছে।কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ঈদগাঁও রেঞ্জ কমকর্তা আনোয়ার হোসেন যোগদানের পর থেকে ঈদগাঁওয়ে বন উজাড় ও কাঠ পাচার বৃদ্ধি হয়েছে।এবিষয়ে ঈদগাঁও রেঞ্জ  কমকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, এসব ডিপোর বিরুদ্ধে অভিযান করে ব্যবস্হা নেওয়া হবে জানিয়েছেন তিনি।