সংরক্ষিত বনাঞ্চল গিলে খাওয়া বশির এখন সুয়ালকে: ক্ষোভে ফুঁসছে বান্দরবান বন বিভাগ

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২১:০২:২৫

​উপকূলীয় বন বিভাগ চট্টগ্রামের অধীন টেকনাফ রেঞ্জে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ হরিলুট করার চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসার পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন ডেপুটি রেঞ্জার মো: বশির আহমেদ খান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পরও বশিরের দৌরাত্ম্য বিন্দুমাত্র কমেনি; বরং বাগান সৃজন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিপরীতে বরাদ্দকৃত বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নিয়ে কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেই তিনি তৈরি করেছেন ভুয়া বিল ও মাস্টাররোল।

স্থানীয় বিট কর্মকর্তাদের প্রকৃত বরাদ্দের সামান্য অংশ নামমাত্র প্রদান করে পুরো অর্থ নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন এই কর্মকর্তা। সচেতন মহল ও পরিবেশবিদদের দাবি, টেকনাফের সৃজিত বাগানগুলোতে সরেজমিনে নিরপেক্ষ তদন্ত চালালে সেখানে ৫০ শতাংশ চারারও কোনো অস্তিত্ব বা উপস্থিতি পাওয়া যাবে না। এমনকি দুর্নীতির এই বেপরোয়া চিত্র ফুটে উঠেছে খোদ হ্নীলা বিট কর্মকর্তার বক্তব্যেও; তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে রেঞ্জ কর্মকর্তা বশিরের কাছ থেকে যে সামান্য অর্থ বরাদ্দ পেয়েছেন, ঠিক ততটুকুই দায়সারাভাবে কাজ করেছেন। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা টেকনাফের স্পর্শকাতর উপকূলীয় বনাঞ্চল, যা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক সুরক্ষাপ্রাচীর হিসেবে কাজ করত, তা বশিরের অর্থলোলুপতায় পুরোপুরি বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে।

​এদিকে টেকনাফে বন ধ্বংসের তান্ডব শেষ করে শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার বদলে অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকা ও অদৃশ্য প্রভাবের জোরে বশির আহমেদ খান বাগিয়ে নিয়েছেন বান্দরবান বন বিভাগের সবচেয়ে লোভনীয় কর্মস্থল। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. তৌফিকুল ইসলামকে প্রায় ৭ লাখ টাকা অবৈধ উৎকোচ দিয়ে তিনি বান্দরবান ডিভিশনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সুয়ালক চেক স্টেশন’ কর্মকর্তার পদটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। বশিরের এমন অনৈতিক পোস্টিং ও ক্ষমতার অপব্যবহারে বান্দরবান বন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালনকারী ফরেস্টার ও ডেপুটি রেঞ্জারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

অতীতের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, উপকূলীয় বন বিভাগে আসার আগেও বশির আহমেদ খান বান্দরবান পাল্পউড বাগান বিভাগে নিয়োজিত ছিলেন এবং সেখানে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের দায়িত্বে থেকে বন ধ্বংসের নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছেন। সে সময় তিনি একটি প্রভাবশালী কাঠ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে অবৈধ জোত পারমিট ও ভুয়া ডি-ফরমের অপব্যবহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গর্জন, সেগুন ও চাপালিশ কাঠ নির্বিচারে পাচার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

এখন পুনরায় সেই একই পুরোনো কাঠ পাচার সিন্ডিকেটকে সক্রিয় করে পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস এবং কাঠ পাচারের নিরাপদ রুট চালু করতেই সুয়ালক চেক স্টেশনকে তিনি বেছে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও দেশের অমূল্য বনজ সম্পদ রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে এই চিহ্নিত বনখেকো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার জরুরি হয়ে পড়েছে।