কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে প্রাণ বাঁচাতে সিপিআর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব

আমেনা ইসলাম
আমেনা ইসলাম
প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৯:১৪:৫৪  আপডেট :  আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৯:১৫:২৬

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেসিক লাইফ সাপোর্ট (সিপিআর) প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যে সঠিকভাবে সিপিআর শুরু করা গেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর নিউ এলিফ্যান্ট রোডে শেলটেক শিয়েরা প্রাঙ্গণে সিমেক হেলথ ফাউন্ডেশন ও শেলটেক শিয়েরা দোকান মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, হার্ট অ্যাটাকের আগাম ঝুঁকি নির্ণয় এবং সিপিআর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।

কর্মসূচিতে শেলটেক শিয়েরার বাসিন্দা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরামর্শ, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা, হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে বেসিক লাইফ সাপোর্ট (সিপিআর) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান প্রশিক্ষক ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক এবং ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. গোলাম মোর্শেদ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন নন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ঝুঁকি নির্ণয় এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলে অধিকাংশ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সিপিআর সম্পর্কে ধারণা থাকলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে অনেক মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।”

সিমেক হেলথ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও জরুরি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক কমিউনিটিতে স্বাস্থ্যসেবা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে অব্যাহত থাকবে।

শেলটেক শিয়েরা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব হোসেন বলেন, অসংক্রামক রোগ, বিশেষ করে হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম ঝুঁকি নির্ণয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সিপিআর প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।