সামরিক জান্তাশাসিত মিয়ানমারে পাঁচ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫ ১৫:৩৯:৪৫

সামরিক জান্তার শাসনাধীন মিয়ানমারে পাঁচ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আজ ২৮ ডিসেম্বর থেকে আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রবিবারে প্রথম ধাপে রাজধানী নেইপিদো, বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুন, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়সহ জান্তানিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট) থেকে ভোটগ্রহণ চলছে। জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক আইনসভা—দুই স্তরেই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তবে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের বড় অংশ বর্তমানে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দখলে রয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। ওই নির্বাচনে ভূমিধস জয় পায় অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং।

ক্ষমতা দখলের পরপরই অং সান সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য ও হাজারো নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা সবাই কারাবন্দি রয়েছেন। সু চির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ২০২৩ সালে জান্তাশাসিত নির্বাচন কমিশন এনএলডিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

ফলে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না এনএলডি। একই সঙ্গে ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলও এবারের ভোট বর্জন করেছে। বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে রয়েছে সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। ভোট শেষে তারাই সরকার গঠন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের ছয় মাস পর থেকেই মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ জোরদার হতে থাকে। ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন প্রদেশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। অনেক এলাকায় জান্তা বাহিনী পরাজিত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। বর্তমানে রাখাইনসহ মিয়ানমারের প্রায় ৩৩ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মি, কারেন লিবারেশন ফোর্সসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, এসব বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলসহ অন্তত পাঁচটি প্রদেশে কোনো ধরনের ভোটগ্রহণ হচ্ছে না।